নানীকে আজকে ঘর থেকে বের করে দিলাম, ঘরের বাহিরে আশে পাশে ঘুরছে!
.
সারাদিন ঘরের এই রুম থেকে অন্য রুমে ঘুরে, শুয়ে বসে থাকে, ঘরের ভিতর গলি ধরে হাঁটে!
.
একটা মানুষ দিনের পর দিন যদি এভাবে বাসায় বসে থাকে তার টেনশন করা ছাড়া কি ই বা করার থাকে,
.
এভাবে টেনশন করতে করতে ঘরের মহিলাগুলো সব পাগল হয়ে যাচ্ছে! সেদিন শুনলাম আমার এক বড্ডা, সে বছরে না পারতে কয়েক বার বের হয়! লোকে জানে ই না বাসায় একজন বৃদ্ধা আছে!
.
আরেকটা ঘটনা জানি, স্বামী মরার আগে ঘরের চারপাশ দেখিয়ে বলেছিলো আমি কখনো মরে গেলে এই সীমানার বাহিরের বের হবে না! সত্যি আর বের হয়নি!
.
বলেছিলাম নানীকে আজ সত্যি ঘর থেকে বের করে দিয়েছি! বের করার আগে আমাকে বলে, আমি বাহিরে বের হলে লোকে কি বলবে!
.
বললাম, লোকে কি বলবে মানে! ঘরে থাকতে থাকতে পাগল হয়ে গেল তখন পাগল ই বলবে! আম্মুরও একই অবস্থা!
.
কোন রকম ই বের হবে না! তার সে কি লজ্জা! আমাকে বলে, মাত্র দুদিন আগে বের হয়ে ঐ বাসায় ঘুরে এসেছে, গত মাসেও নাকি এক বার হয়েছে! এক বছরে কত বার ঘর থেকে বের হওয়া যায়!
.
তবুও ধমক দিয়ে বের করে দিলাম! নানী আবার দেখতে সাধারণ মহিলাদের চেয়ে অনেক সুন্দর! ঠাট্ট করে বললাম, 'বুড়ো বয়সে কেউ বিয়ে করতে আসবে না!'
.
তারপরও নানী বের হবে না, এবার বের করে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বাসায় বসে নাস্তা করতেছি এমন সময় বাবা দরজা খোলায় আবার বাসায় চলে আসলো নানু,
.
এসে আমার পাশে বসলো! বললো, এই লাল শাড়ি পরে আমি যদি বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকি লোকে কি বলবে!
.
আমি বললাম, এটা লাল না তো, খুবি হালকা লাল! সত্যি মানিয়েছেও!
.
নানী এবার ফ্যালফ্যাল করে তাঁকিয়ে বললো, শুধু লাল না কয়েকটা গোলাপ ফুল ও আছে! লোকে কি না কি ভাববে!
.
তারপর রুমে গেলো! কথিত লাল শাড়ি চেইঞ্জ করে সাদা টাইপের অফ হোয়াইট একটা শাড়ি পরিধান করে এসেছে! রাণী থেকে এখন ফকিন্নী ফকিন্নী লাগছে! এবার উনি ঘুরতে গেছে......!
.
পরিশেষে একটা কথা বলি, 'লোকে কি বলবে, খোদার কসম, এই বৃত্ত থেকে বের হতে না পারলে সেই জীবনে রাজা না বরং আপনি মানসিক দাস হয়ে থাকবেন!'
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



