somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিনি আমার কেউ হয় না

১০ ই জুন, ২০২০ দুপুর ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার আম্মুর যখন পা ভেঙ্গে যায় তখন আমার বাবা আমার কাছে ফোন করে ৷ সে সিএনজিতে করে নিয়ে আসতেছে ৷ মেডিক্যাল বেপারটা আমার কাছে অনেক নতুন ৷ ওখানে আমার সবকিছু ঘোলা লাগে ৷
.
আমি আমার আত্মীয় স্বজন পরিচিত অপরিচিত যাকে মনে হয়েছে কাজে আসবে তাকেই ফোন করি, সবাই ব্যস্ত ৷ কারো অফিস, কারো বাচ্চার ইস্কুল, কেউবা কক্সবাজার ঘুরতে যাবেন বলে ব্যাগ এন্ড ল্যাগেজ...!
.
আমার বাবাকে ছোট কাল থেকে দেখেছি ঘরের বাহিরে থাকে, কারো না কারো বিপদে আপদে মাসের পর মাস সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন ৷ আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কেউ মাথা ঘুরিয়ে পরে গেলে সবার আগে উনার কাছে ফোন আসে ৷ এক প্রকার উনি যেনো পাবলিক গুডস্ ৷
.
আমার পরিবারের কারো এর আগে কেউ এমনভাবে পা ভাঙ্গেনি যেহেতু পুরো বেপারটা আমার কাছে ভয়ঙ্কর ৷ নতুন ছিলো ৷ এরপরেও আমি জানি বিপদ আসলে তেমন কাউকে কখনো পাওয়া যায় না ৷ যাবে না ৷
.
আসলে কাউকে পাওয়া যাবে না বেপারটা ভুল ৷ আমি সিএনজিতে আরো একজন মহিলাকে আবিষ্কার করলাম যে আমার বাসা থেকে অনেক দূরে থাকে তার নামও জানি না তবে মুখ চেনা ৷
.
অদ্ভুত দৃঢ় প্রত্যয়ের মহিলা ৷ আমি যখন মেডিক্যালের স্ট্রে টানতেছি তখন সে ও আমার সাথে ঠেলতেছিলো ৷ মা যখন শুয়ে যাচ্ছিলো সে তখন কোলে করে ধরে রেখেছিলো অথচ তার ওজন আমার আম্মুর অর্ধেক ৷
.
তার কথাবার্তাগুলো এতো অনুপ্রেরণা আমার মনে হয়নি আমরা একা সামলিয়ে নিচ্ছি সব ৷ উনি ই সামলিয়ে নিচ্ছেন ৷
.
এক্সরে রুমে উনি গিয়ে আমার আগে রিপোর্ট নিয়ে এসেছেন ৷ তারপর আমাকে ফন্দি শিখিয়ে দিয়ে বললেন, কর্ণারে একটা দোকানে গিয়ে বলবে ছাড় আছে কি না? ওনার কথায় কাজ হলো ৷ আমার কিছু টাকা বেঁচে গেলো ৷
.
এই মেডিক্যালে তিনি তার স্বামীকে নিয়ে তিন মাস ছিলেন ৷ শুধু তা না, বছরের পর বছর স্বামীর বিভিন্ন অসুখ নিয়ে এরকম ডজন খানেক হাসপাতাল ঘুরেছেন ৷ ডাক্তারদের সাথে তর্ক করেছেন ৷ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন ৷ একাই ৷ 'বাজান কেউ ছিলো না, তোমার খালা একাই এগুলো চষে বেড়িয়েছি ৷'
.
প্লাস্টার করার পর আম্মু এবার ঝামেলা পাকাচ্ছে ৷ উনি মেডিক্যালে থাকেবন না ৷ ভদ্রমহিলা বললো আল্লাহ যা করে ৷ অ্যাম্বুলেন্স ডাকো ৷ খুব কৌশলে বাসায় নিয়ে যেতে হবে ৷ তারপর পনের কিলোমিটার রাস্তা দুই ভাগ হওয়া একটি পায়ে সদ্য ব্যান্ডেজসমেত উনি আড়কোলে করে ধরে রেখে বাসায় নিয়ে এসেছেন ৷
.
বাসায় এনে খাটে বসিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ একাই করেছেন ৷ খালাম্মাকে আমি এর আগে অনেকবার এখানে ওখানে দেখেছি ৷ সেদিন তার দিকে তাকিয়ে আমি আমার সকল আত্মীয় স্বজনদের ছবি দেখতে পেলাম ৷ হয়তো বাবা সবার কাজে দৌড়ে যায় বলে আল্লাহ উনার আকৃতির মধ্য দিয়ে ফেরেশতা পাঠিয়েছেন ৷
.
খালাম্মাকে বিদায় দেওয়ার সময় আমি আরেক দ্বিধায় পরে গেলাম ৷ তাকে কি ধন্যবাদ দেওয়া উচিত! ধন্যবাদ দিলে তাকে ছোট করা হবে ৷ তাই কিছু ই বললাম না ৷ চেয়ে চেয়ে দেখতে থাকলাম উনি চলে যাচ্ছে ৷ মায়া হচ্ছে ভীষণ ৷
.
তারপর থেকে নিয়মিত খোঁজ নিতো ৷ রোগী একটু সুস্থ হয়েছে জানার পর আর তেমন আসেনি ৷ খুব সহজে বাসায় যাওয়া যায় তবুও কেনো জানি যায় না ৷ রাস্তায় খুঁজি দেখা হলে একটা সালাম দিবো ৷ কেমন আছেন জিজ্ঞেস করবো ৷
.
কিছু মানুষ জানে ই না কিভাবে তারা হৃদয়ে গেঁথে থাকে ৷ আত্মীয়স্বজনের হৈ হুল্লর বাড়ে তারা হারিয়ে যেতে থাকে ৷ রক্তের সম্পর্ক ই নাকি সব! না রে ভাই, মাইনকার চিপায় পরোনি তো,
.
আমার এক দাদা আমাকে ঈদের সেলামি দেওয়ার সময় বললো, আমি মরে গেলে তুমি খাট ধরিও নাতী ৷ দাদা মারা যাওয়ার সময় আমি অনেক দূরে ছিলাম ৷ তার খাট আমি ধরতে পারিনি ৷
.
একদিন এক লোক আমাকে এসে বললো, আচ্ছা ঐ যে মারা গেলো সে তোমার দাদা হয় না? আমি বললাম, হয় ৷ আপনি কিভাবে চিনেন? সে বললো, দাফন করার আগে তার খাট কাঁধে করে কবরে নিয়ে গিয়েছিলাম ৷ হুট করে মনে পরে গেলো অতীত ৷
.
দাদা আমাকে বলে গিয়েছিলো, আমার খাট তুই ধরবি কিন্তু, অথচ এই লোকটার ভাগ্যে সেটা জুটলো ৷ তাকে একটা প্রশ্ন করার তীব্র লোভ আমি সামলাতে পারিনি ৷ বললাম, আমার দাদা আপনার কে হয়? উনি বললো, 'আমার কেউ হয় না ৷'
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×