somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রজন্ম বিভ্রাট

১২ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শোভাকলোণীর মাইকম্যান, আমি রহিম বাবু ই ডাকতাম ৷ আমাদের ছোট বেলার হিরো ৷ কথা বললে পুরো এলাকা গরম হয়ে যেতো ৷
.
ওইই করিম! কই রে তুই? কি অবস্থা ৷ আরে আবছার ভাই, কি করেন? চা নি খান ৷ ওরে আনোয়ার, কই যাস্! কিরে বতা, মন খারাপ নাকি?
.
নিস্তব্দ এক কলোণী এক সময় কিছু মানুষের কারণে খুব সরব ছিলো ৷ এখনতো প্রয়োজন ছাড়া বোম মারলেও কারো মুখ দিয়ে কথা বের হয় না ৷ অনেকের মাইন্ডে লাগে ৷ একসময় এসব মাইন্ড টাইন্ড ছিলো না ৷ কলোণীর পুরো চল্লিশ পরিবার ই যেনো ছিলো একটি পরিবার ৷
.
তার পিছনে কিছু চমৎকার মানুষ এবং একটি মানবিক প্রজন্ম ছিলো ৷ ওদের সবাইকে দেখতেও বড় ভাই লাগতো ৷ এখনো একটা প্রজন্ম দেখি যাদের ফাঁকে ফুকে সিগারেট আর শেয়ার ইট দিয়ে এটা ওটা নেওয়া ছাড়া আর কোন সামাজিক দায়বদ্ধতা যেনো নেই ৷
.
আমাদের সময় রিপন, খোকন, রিমন, এমদাদ ভাইয়েরা ছিলো ৷ চমৎকার চমৎকার ক্যারেক্টার ৷ রিমন ভাই তো একাই আমাদের প্রজন্মকে বিনোদন দিয়ে গেছে ৷ কত মজা করতাম আমরা ভাইদের সাথে ৷
.
সোজা কথা বলতে গেলে সমাজ থেকে ইউনিক ক্যারেক্টারগুলো হারায় গেছে ৷ আমারা যখন সামাজিক দেয়ালিকা কিংবা কোন ইউনিক আইডিয়া নিয়ে মেতে থাকতাম ওরা তখন সহমত ভাইদের আঁচল তলে বেড়ে উঠছে ৷ শিখছে কেবলি হানাহানি আর দলাদলি ৷
.
বয়সের তুলনায় ক্ষমতা বেশী থাকায় এখনকার প্রজন্মের চোখে মুখে ভ্রু কোঁচকানো কিংবা দাঁত গিজগিজ করা একটা ভাব থাকে ৷ মাগো মা! ভাবাগো বাবা! আমাদেরও ডর করে ৷ তাদের বাবাও তাদের ভয় পাচ্ছে ৷
.
অল্প বয়সে ঠোঁটগুলো আঙ্গার করে পেলেছে ৷ কি কতোগুলো টানে সেটা আবার ফেসবুকেও দেয় ৷ মনে হয় আগুন লাগছে চারপাশে ৷ দোয়ার কুন্ডুলিতে ভরপুর ৷
.
আমাদের বড় ভাইদের আমরা তাস্ খেলতে দেখতাম না কখনো ৷ জানালা দিয়ে উস্ প্রাইমারী স্কুলের ছাদে উঠে সেখানে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে....!
.
বড় ভাইয়েরাও সিগারেট খেতো তবে কোন মুরুব্বি তা দেখে গেলে, ঐ মুরুব্বির সামনেও এক সপ্তাহ আসতো না ৷
.
ওরা প্রেম করতো, মজা করতো, দুনিয়ার সব পোংডামি করতো তবে তা বাসর ঘরে সীমাবদ্ধ থাকতো ৷ সামাজিক শ্রদ্ধাবোধ এবং লাইফের ইনজয়মেন্ট দুটোই নিরাপদ দূরত্বে থেকে করাও একটা আর্ট তা এখনকার প্রজন্ম বোধহয় টেকনিক জানে না ৷
.
কিছু থেকে কিছু হলে গালি আর তেড়ে আসার প্রবণতা ওদের সমাজ থেকে আলাদা করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত ৷ শেষ কবে মুরুব্বিরা বর্তমান প্রজন্মের মাথায় ফুঁ দিয়ে 'বেঁচে থাক বাবা' বলে দোয়া করেছে আমার জানা নেই ৷ আদৌ কি তা এখন সম্ভব!
.
আমি নিজেও কোন দিন এ+ পাইনি কিন্তু রেজাল্টের পর বের হলে লাইন ধরে দোয়া পেতে পেতে ক্লান্ত হয়ে যেতাম ৷ মুরুব্বিদের সাথে আমাদের বোঝাপড়া ছিলো এতো মধুর ৷ গালগল্প না ভাই ৷ কাউকে স্যার বললে সে বুঝের হলে তোমাকে বস্ ডাকবে ৷ এটাই সৌন্দর্য ৷
.
কিছু ফল আছে সেগুলো কৃত্রিমভাবে পাকানো যায় ৷ বয়সের আগে পাকে ঠিকি তবে ভিতরে অবত্র থেকে যায় ৷ একটু আধটু খেয়ে ওয়াক থু বলে ফেলে দিতে হয় ৷ এই সমাজের কাছে তোমরাও দিন দিন এমন হয়ে যাচ্ছো ৷
.
গুন্ডা হওয়ার চেয়ে প্রয়োজনে হিমু হও সেটা অনেক ভালো ৷ খারাপ হওয়া একটা আর্ট, নাহলে বাকের ভাই হও ৷ আর্ট জানলে পকেটে পিস্তল নিয়ে হেঁটেও হিরো হওয়া যায় ৷ বায়ান্না, ৬৯, একাত্তরে তোমাদের চেয়ে বহুত ট্যারা প্রজন্ম ছিলো ৷ এটলিস্ট বড় ভাইদের পিছনে চুড়ি পরে হাঁটতো না ৷ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগাতো ৷
.
ভেড়া পালে একসাথে হাজারো ভেড়া থাকে কিন্তু সিংহের পালে সে একজন ই ৷ ভেড়ার দলের শক্তি দেখিয়ে লাভ নেই, জীবন এরচেয়ে অনেক বড় কিছু ৷
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৩২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×