somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মানবিক কলোণীর গল্প

২০ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অনেকে বলে ভাই আপনি প্রায় লেখাতে শোভাকলোণী নিয়ে আসেন কেনো? আসলে বেপার হলো জন্মের পর থেকে আছি ৷ প্রেমে পরে গেছি ৷ কঠিন প্রেম ৷
.
মানুষগুলো কেমন জানতে হলে করোনাকালের একটি ছোট্ট ঘটনা বলবো তার একটি ছবিও আমি লেখাটির সাথে এড্ করে দিয়েছি ৷
.
সেদিন আমরা সকালে খবর পেলাম এলাকার একজন মুরুব্বী দুরারোগ্য ব্যাধিতে মারা গেলেন ৷ লাশ এখনো মেডিক্যাল থেকে রিলিজ করেনি ৷ মেডিক্যাল থেকে আসতে আরো দুই ঘন্টা লাগবে ৷ এদিকে লাশের গোসলের জন্য পানি গরম করা হয়ে গেছে ৷ উপরে বৃষ্টি আসলে ভিজে না যাওয়ার জন্য তেরপাল লাগানো থেকে শুরু করে যাবতীয় যা যা কাজ সব প্রস্তুত ৷
.
আমার কাজ ছিলো বিজ্ঞপ্তি লিখে বিভিন্ন মসজিদে প্রেরণ করা ৷ যে যার মতো কাজ বুঝে নিয়েছে ৷ আবারও বলছি মৃত দেহ আসতে আরো দুই ঘন্টা বাকী ৷
.
কলোনীর ভিতরে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকলে সেটা ব্যাক করতে পারে না, প্রায় পনের বিশজনের একটি তরুণ দল মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে আছে ঘন্টাখানেক, স্ট্রে করে মৃতদেহ ঘরে নিয়ে আসার জন্য ৷
.
একান্ত প্রয়োজন না হলে কেউ অফিসও যায় নি ৷ আরেকটা বেপার বলে রাখি কলোণীতে কেউ কারো নিকট আত্মীয় না ৷ তবে তার চেয়েও বেশী ৷ পাঞ্চাশটা ফ্যামেলি ৫০টা জেলার বলা চলে ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে তারা একসাথে থাকে ৷ করোনাকালে যেখানে বাবার মৃত্যুতে সন্তানকে খুঁজে পাওয়া যায় না সেখানে এসব দৃশ্য দেখলে আপনার মনে হবে আপনি কোন স্বর্গে চলে এসেছেন ৷
.
মৃত ফ্যামিলির একমাত্র কাজ প্রাণভরে কান্নাকাটি করা ৷ আর কোন কিছু নিয়ে তাদের টেনশন করতে হয় না ৷ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াটা পকেটে থাকুক না থাকুক এটলিস্ট আন্তরিকতার সহিত বলে, আমি দিয়ে দিই?
.
নিরাপদ দূরত্বে থেকে এক প্রকার গার্ড অব অনার দিয়ে আমরা আমাদের সদ্যপ্রয়াত কলোণীর বাসিন্দাকে পরম আদরে তার বাসায় নিয়ে এসেছি ৷ মৃতদেহে যাতে সামান্য পরিমানেও ঝাঁকানি না লাগে সেদিকে থাকে সবার সজাগ দৃষ্টি ৷ যেনো এটা সবার বাবার লাশ ৷ দৃশ্যগুলো দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় ৷
.
শুধু তা না, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ মারা গেলে আমার এলাকার মানুষ ই সবার আগে এগিয়ে আসে ৷ স্ট্যান্ড বাই আমাদের সব কিছু রেডি থাকে ৷ গল্প হচ্ছিলো মর্জিনা আপুর বাবার সাথে ৷ সে গোসল করানোর সুবিধার জন্য চারটা স্টেন মশারি সব নিজে বানিয়ে রেখেছে ৷ কেউ মরেছে শুনলেই নিজে কাঁধে করে তা নিয়ে উপস্থিত এমন ৷
.
আমাদের মসজিদে আবার লাশ কাঁধে করে পরিবহনের জন্য যেটাকে স্থানীয় ভাষায় খাইট্টা বলে সেটা নেই ৷ অনেক দূরের মসজিদ থেকে নিয়ে আসতে হয় ৷ এলাকার ছোট ছেলেরা এটা নিয়ে এসে তারপর সুন্দর করে সার্ফএক্সেল দিয়ে ধৌত করে, অতপর শুকিয়ে অগ্রীম প্রস্তুতি হিসেবে তাক্ করে রাখে ৷ কবরস্থান দূরে হওয়ায় ওদের পুরো টিম আশেপাশে সব সময় থাকে ৷ সময় হলে সবাই পাঞ্জাবী টুপি পরে এসে একসাথে রওনা হয় ৷
.
এক সময় আমাদের কলোণীর সমপ্রীতি ছিলো জগতখ্যাত ৷ এখন অনেক ভাটা পরেছে যদিও ৷ একটা সময় ছিলো যখন কেউ মাঝরাতে চোর বলে ডাক দিলে একশ মানুষ দা কাস্তে তলোয়ার নিয়ে খালি পায়ে বের হয়ে চোরের পিছনে পিছনে দৌড়াতো কিংবা খোঁজ করতো ৷ এমনও অনেক হয়েছে মাত্র একহাত দূরত্বের কারণে চোর বেঁচে গেছে তবে তাকে আধা মাইল দৌড়িয়ে আধমরা করে দেওয়া হয়েছিলো ৷
.
এগুলো কোন কাল্পনিক গল্প না ৷ রক্তের সম্পর্কের বাহিরেও যে অনেক আপন সম্পর্ক থাকে সেটা তার প্রমাণ ৷ আমাদের কলোনীতে অমুকের ছেলে তমুকের মেয়ের সাথে বিয়ে দিতেও কেউ আপত্তি করে না ৷ বেপারটা এমন ৷
.
দয়ালু, অমায়িক, সৌজন্যসূচক, বিনীত, শিষ্ট, বন্ধুত্বপূর্ণ, বন্ধুসুলভ, মিত্রভাবাপন্ন, বন্ধুভাবাপন্ন, মধুর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এমন শত শব্দ আমি চোখ বন্ধ করে আমার এলাকাবাসীকে দিতে বাধ্য থাকিব ৷ যদিও কখনো তাদের ধন্যবাদও দিইনি ৷
.
লিখে আসলে সুন্দর করে প্রকাশ করা সম্ভব না ৷ কিছু অনুভূতি হৃদয়ে থেকে যাক্ ৷ এমন একটি বাংলাদেশ চাই ৷ আমাদের শোভাকলোণী হতে পারে তার রোল মডেল ৷
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:১৪
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাস বিষয়ে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

অভ্যাস আসলে কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা অনেক সময় ভাবি, কোনো একটা অভ্যাস তৈরি করতে হলে অনেক বেশি Willpower দরকার।

আসলে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।

আপনি যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা বই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×