প্রথম বিয়ের পর বউ শাড়ি পরে আসছিলো ৷ আশেপাশে ঘুরঘুর করছিলো ৷ সেদিনের কথা মনে করে সে খুব হাসে ৷ ফাহিম কিছু বলছিলো না ৷ সুন্দরী চুড়ি নাড়াচ্ছিলো ৷ তারপর পায়ের নূপুর ৷ নিশ্চুপ ফাহিমকে দেখে অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে নতুন বউ ঘোমটা ফেলে রাগে বিড়বিড় করে বলতে থাকলো, 'প্রশংসা করতে টাকা লাগে না ৷ হুহুওও ৷'
.
তারপর থেকে ফাহিম বুঝতে পারলো নতুন একটা বিষয় ৷ শুধু লাভ ইয়ু বলে কাজ হবে না ৷ পরের দিন কানে দুল দিয়ে এসে বউ যখন চুল গলায় এক পাশ করে উঠিয়ে কানের দুল দোলাচ্ছিলো তখন ফাহিম থতমত খেয়ে বলে উঠলো, বাহ্ বেশ্ সুন্দর কানের দুলতো ৷ শুনে বউ মুখ ফুলিয়ে রেখেছিলো আধা ঘন্টা ৷ ওরে ফাহিম রে ৷ তারপর অনেকটা চায়ের কাপ ভাঙ্গা শব্দে বউ বলেছিলো, 'কানের দুল তো সবাই পরে, আমি পরেছি বলে দুলটা এতো সুন্দর লাগছে' তা শুনে নতুন জামাই ইয়া হু বলে চিৎকার করে বলতে থাকলো, 'এটাই বলতে চেয়েছিলাম ৷ আমি তো কবি না ৷ তাই ছন্দ করে সাহিত্যচর্চার আমার নামের মিতার মতো বলতে পারি না' তা শুনে বউ বললো, 'তাহলে ববিতাকে না কবিতাকে নিয়ে থাকো ৷'
.
কি এক মহাঝামেলা ৷ ফাহিম পরছে মাইনকার চিপায় ৷ ইশ্ আজ যদি ছ্যাঁকা খাওয়ার পর সেই উদীয়মান তরুণ কবি বিয়ের পর মরে যাওয়া ফাহিম্মাটা বেঁচে থাকতো ৷
.
অণুগল্প নাকি বিন্দুতে সিন্ধু/সাগর দর্শনের মতো ৷ কি এক কাজ কারবার ৷ শিশির বিন্দু দেখবেন আর ভাববেন এই যেনো আটলান্টিক মহাসমুদ্র ৷ এটাই সায়েন্স ৷ কেমনে দেখবেন বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করবে ৷ এতো টেনশন নিয়ে পারবেন না ৷ আমি বরং ফাহিমের দাম্পত্য জীবনের সিন্দুকে তুলে রাখা গল্পটি বলছি ৷
.
সেদিন থেকে ফাহিমের, বউয়ের প্রশংসা ই যেনো, প্রশংসা করাই জীবন ৷ কপালের টিপ চোখের ভ্রুতে গিয়ে ঠেকলেও কি অপূর্ব লাগছে ৷ আমার প্রিয়ার টিপ কখন জানি ঘর ছেড়ে বৃত্ত ভেঙ্গে উদাস হয়ে নয়ন জুড়িয়ে চোখের পাতায় ঠেকছে ৷ ওরে ও সুন্দরীতমা ৷ বউ যে তুমি পরীর মতো কালা ৷ কষ্টি পাথরে গড়া ৷
.
এভাবে চলছিলো ফাহিমের দাম্পত্য জীবন ৷ একদিন আবুল কালাম আজাদের বউ তাকে টেস্ দিয়ে বলছে, ফাহিম বউকে কত্ত ভালোবাসে ৷ সেদিন কবিতা লিখেছে, 'প্রিয়তমা, চলো এক পশলা বিষে তৃষ্ণা মিটাই দুজনে কুজনে!' আর তুমি আছো কে কখন কোন জগতে কিভাবে আট তলা ছাদ থেকে লাফিয়ে মরেছে সেই গল্প নিয়ে ৷ কালাম ইদানিং ফাহিমের পিছনে পিছনে ঘুরছে ৷ কি যাদু করেছে বউরে....!
.
আমিও ঘুরছি ৷ সামনে বিয়ে করবো ৷ আজাদ ভাই বিয়ে করে ঘুরছে আর আমি না করে ৷ বউ পটানো যে মেয়ে পটানোর চেয়ে কঠিন তা আজাদ ভাইকে না দেখলে বুঝতাম না ৷ যাই হোক লক ডাউন ভেঙ্গে দুইজন ফাহিমের বাসায় গিয়ে বসে আছি ৷ নিরাপদ দূরত্বে থেকে যে যার মতো গল্প করছি ৷ চা খাচ্ছি ৷ এমন সময় ফাহিমের বউ এলো ৷ মুখে সার্জারিক্যাল মাস্ক পরা ৷ ফাহিম গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো বউয়ের দিকে ৷ আমরা চোখ ছানাবড়া করে তাকিয়ে আছি ৷ ভাবছি দুইজন ই তো মাস্ক পরা! কেমনে কি করবে! সে ভাবীর পাশে গিয়ে থামলো আর বললো, 'তোমাকে মাস্ক পরলে দারুণ লাগে, মাঝে মাঝে মাস্ক পরে আমার সামনে হাঁটলেই পারো!'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




