somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অভিরাম কর্মকার
আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। আমার ইচ্ছে করে একটা সুন্দর স্বপ্নের বাংলাদেশের ছবি আঁকতে, পাখির মতো উড়তে আবার কখনও রেলস্টেশনের মেঝেতে শুয়ে থাকা মানুষটি হতে। কখনও ইচ্ছে করে কোন যুদ্ধ বিদ্ধস্ত নগরীতে শান্তির যোদ্ধা হতে। ভাল লাগে একা থাকতে।

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“অপ-রাজনীতিতে বলি হবেনা কোন আদর্শ অথবা কোন সূর্য সন্তান এই প্রত্যাশায়”

সম্পর্ক সবসময় মধুর হোক এটাই আমাদের চাওয়া থাকে। কিন্তু প্রকৃতির বিধানে হয়তো সেটা লেখা নাই তাই সবসময় হয় না। তবুও আশায় থাকি ভাল থাকুক সকল মাতা-পিতা আর সকল সম্পর্ক।

আমি এখনো একজন ছাত্র। একজন শিক্ষকও (প্রাইভেট টিওটর)। যাই হোক সতের বছর ধরে পড়াশুনা করছি। স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি জায়গাতেই পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আর সব সম্ভব হয়েছে আমার সম্মানিত শিক্ষকদের কারনেই। তাই তাদের প্রতি শ্রদ্ধা কোনদিনই কম ছিল না। ভবিষ্যতেও কমবে না (কিছু শিক্ষক ছাড়া)।

মুদ্রার দুই পিঠ দুই রকম। সবখানেই ভাল-মন্দ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শিক্ষক এমন একটা চরিত্র, এমন একটা স্থান যার খারাপ কোন দিক কোনভাবেই কাম্য নয়। কারণ শিক্ষা জাতির মেরূদন্ড। আর তার নির্মাতা হচ্ছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের মাঝে একটু দুর্বলতা মানেই জাতির ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাওয়া। সকল লোভ-লালসার ঊর্ধে থাকবেন তারা। পিতা মাতার পরেই তাদের স্থান হবে। তাদের তৈরী সু-সন্তানরাই দিবে তাদের সম্মান। তাদের আচরনে গর্বিত হবেন শিক্ষকরা। উভয়ের মাঝে তৈরী হবে এক ভালবাসার সেতু বন্ধন। এমনটাই জেনে, দেখে আর শিখে আসছি স্কুল আর কলেজ জীবন থেকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিখেছি আর দেখেছি বাস্তব কিছু দিক যা হয়তো বাস্তবতার কারনেই দেখতে হয়েছে কিন্তু তবুও তা কাম্য ছিল না।

স্কুল আর কলেজে শিক্ষকদের খুব ভয় পাইতাম। তাদের সাথে খারাপ ভাবে কথা বলা, খারাপ দৃষ্টিতে তাকানো, পিছনে পিছনে গালি দেয়া, অভিশাপ দেওয়া, পরে পামুনি (সুযোগ পাইলে প্রতিশোধ নেয়া) ইত্যাদি ইত্যাদি এসব চিন্তা ভাবনা কখনই আসতো না। আসতো না মানে তাদের যে এই ভাবে বকা দেয়া যায় কিংবা বকা দেয়ার মতো কাজ তারা করছে কিনা তাই বুঝতাম না। সম্মান মানে সম্মান। বাবা-মায়ের পরের স্থান মানে তাইইই যা বুঝায়। কিন্তু এখন (ভার্সিটিতে সাড়ে চার বছর কাটানোর পর) কেন জানি আমি বেদ্দপ (বেয়াদপ) হয়ে গেছি। আগের সংগা মতো সব কিছু পারি না মানতে। মনে হচ্ছে শিক্ষিত হয়ে আমি পাগল হয়ে গেছি। এর থেকে স্কুল আর কলেজে পড়ে শিক্ষিত হয়ে থাকাটাই ভাল হতো। সব কিছু ঠিকঠাক থাকতো।

বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বিশ্বমানের জায়গা। এখানকার শিক্ষক আর ছাত্ররা হবে বিশ্বমানের। অনেকেই হয়। কিন্তু আমি পারিনি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার এক বছর ছয় মাস পরেই আমাকে দেখতে হয়েছে শিক্ষক রাজনীতি। যেখানে সেমিষ্টার ফি, ভর্তি ফি, ছাত্রছাত্রিদের ভাল ভাবে শিক্ষা আদায়ের আন্দোলনে কিছু শিক্ষকের আচরন। আমায় দেখতে হয়েছে, যেখানে আমার মতো কিছু ছাত্রদের শার্টের কলার ধরে, মারতে মারতে রক্তপাত করানো, থাপ্পর মারা, ছাত্রীদের সাথে অশ্লিল ব্যবহার করা আর সর্বশেষ সেই সব শিক্ষকদের ক্যাম্পাসের টাকায় বিদেশ পাঠান।

আমায় দেখতে হয়েছে শিক্ষকদের (কিছু) সেই কঠোরতা, যেখানে মাস্টার্স করা একজন ছাত্রকে তার রুম থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া। আমার সহ্য করতে হয়েছে সত্য কথা বলার কারনেও তাদের ধমক খাওয়া। আমায় সইতে হয়েছে নিজ হলে থাকার দাবির কারনে তাদের ইচ্ছাতেই জেলে যাওয়া। আমায় দেখতে হয়েছে আমার বন্ধুর হত্যাকারীদের তাদের ছায়ায় মুক্ত হওয়া। আমার ভাইয়ের মৃত্যুতে তাদের বলা “এমন দুই একটা লাশ বেপার না” কথাও সহ্য করতে হয়েছে আমায়।

তারপরও শিক্ষক মানে তিনিই যিনি আমার বাবা মায়ের পরের স্থানেই অবস্থান করেন। তাদের অধিকার আছে সম্মান পাওয়ার। তাই যখন ক্যাম্পাসে কোন শিক্ষককে আদর্শ শিক্ষক মনে হয় তখন মনে হয় আমার সব চিন্তা-ভাবনা ভুল। আমি ভুল। সিরিয়াসলি আমিইইই ভুল। কিন্তু তাদের সংখ্যা সিরিয়াসলিই কম। আর আশায়ও থাকি একদিন সিরিয়াসলি তাদের সংখ্যা বাড়বে। অন্তত যারা এইসব কিছু ফেস করে শিক্ষক হয়েছেন তারা অবশ্যই হবেন সেই সব আদর্শ শিক্ষক।।আর এজন্যে গঠনমুলক রাজনীতি আর একান্তই নিজস্ব মতামত জরুরী।

সম্মানটা জোরের বিষয় না। আদর্শের বিষয়। আদর্শের বলি হতে দেয়া কোন শিক্ষকই আদর্শ শিক্ষক হতে পারে না। একজন ভাল মানুষ তৈরী করার সাথে সাথে নিজের চরিত্রকেও সঠিক পথে ধরে রাখার বিষয়। শ্রদ্ধা জানাই সেই সব শিক্ষকদের যাদের কারনে আমার মতো বেদপ আজও বলেনি ভার্সিটির সকল শিক্ষক খারাপ।

(একান্তই নিজস্ব মতামত। যদি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে ক্ষমাপার্থী)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:২৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×