somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোম টা ফাটাইল ক্যাডা!!! ( ১৮ + পোষ্ট )

২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা থাকতাম মফস্বল শহরে। বাবার চাকুরীর সুবাদেই এখানে থাকা। তাই বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে যখনই স্কুল ছুটি হতো চলে যেতাম ঢাকায়। ঢাকায় আমার নানার বাসা। খুবই মজা হতো ঢাকায় গেলে। কারণ আমারই বয়সী মামাতো ভাইয়ের সাথে খেলে বেড়িয়েই দিন ঝড়ের গতিতে বয়ে যেত সেখানে। অনেক অনেক ঘুরে বেড়াতাম আমরা।
একদিন ভাই বলল- চল্ নাটক দেখে আসি। এইতো একটু হেঁটেই মহিলা সমিতি। ওখানে তৌকিরের কি একটি নাটক চলছেল। চল্ দেখে আসি।

আমি আগে কখনই নাটক দেখিনি। ও কোন এক ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা বলে টিকেটের ব্যবস্থাও করে ফেলল। বের হচ্ছিলাম দুইজনে এমন সময় দেখি, মামীর অগ্নিমূর্তি সামনে উদয় হল। কোথায় যাওয়া হচ্ছে দুইজনে? ও বলল এই একটু হেঁটে আসি। মামী বলল বাইরে অনেক ঠান্ডা পড়ছে সুয়েটার গায়ে দিয়ে যাও দুজনে। কেউই আর দ্বিমত করলাম না তাড়াতাড়ি সুয়েটার গায়ে চাপিয়ে বেরিয়ে গেলাম। সুয়েটার গায়ে দিতেই কেমন যেন অস্বস্তি হতে শুরু করল। কারণ পুলওভারটা যথেষ্ট মোটা এবং গরম।

অতঃপর আমরা দুই কিশোর হাঁটতে হাঁটতে নাটক দেখতে গেলাম। আমরা ঢুকতে ঢুকতে নাটক শুরু হয়ে গিয়েছিল। দুইজন পাশাপাশি দুইটি সিটে বসে পড়লাম। দরজা জানালা সব বন্ধ। অন্ধকার একটি হল রুম শুধু মঞ্চের অংশটি আলোকিত। অনেকেই বসে আছে আশে পাশে। ওখানে কিছুক্ষণ বসেই আমার অবস্থা বারোটা না একদম তেরোটা বেজে গেল। গরমে আমার হাঁসফাঁস হতে লাগল। মনে হচ্ছিল আমি এখনই মাথাঘুরে পড়ে যাব। পাশে বসা ভাইকে জানাতেই সে বলল এই তো নাটক শেষের দিকে। একটু বস্, নাটকের শেষটা একটু দেখে নেই। জানিনা শেষের দিকে কিনা কিন্তু আমার তখন শেষ অবস্থা। পেটের মধ্যে বিশাল এক মোচর অনুভব করলাম।

ঠিক তখনই মঞ্চে কি এক নাটকের দৃশ্য চলছিল যেখানে অভিনেতা অভিনেত্রীরা সবাই লাফালাফি ধস্তাধস্তি করছিল। পুরো হল রুমে দুম দাম দুম দাম আওয়াজ হচ্ছিল। এই আওয়াজে আমার অবস্থা আরো শোচনীয়তার দিকে মোড় নিল। ভিতরের সব কিছু বমি হয়ে বেরিয়ে আসতে চাইল। বমি ঠেকানোর জন্য আমি একটু সামনের দিকে ঝুকলাম। কিন্তু কি করে যেন মুখ দিয়ে বের না হয়ে বিশাল এক বোম ফাটিয়ে পেটের সকল ঝড়ো হাওয়া নিম্নমুখী ছুট দিল এবং খোলা ময়দানে বেড়িয়েই চেয়ারের সাথে ধাক্কা খেল, অতঃপর দেরি না করে সাথে সাথেই সুগন্ধি ছড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আমিও যেন রাজ্যের শান্তি পেলাম। পাশে ফিরতেই দেখি আমার ভাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে অবাক হয়ে। আমি বললাম কি হল? ও মুচকি হেসে আশে পাশে দেখাতে লাগল। দেখি আশে পাশে যারা আছে কেউ নাকে হাত দিয়ে, কেউ নাকে ওড়না চেপে সুগন্ধির হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। আবার কেউ কেউ বিরক্তি সহকারে কোণা চোখে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে।

আমি চুপচাপ নাটক দেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। সাথে নাকে হাতটি দিতেও কিন্তু দেরি করলাম না। সেদিন সম্পুর্ণ নাটকটি দেখেই কিন্তু আমরা বেরিয়েছিলাম। দারুণ একখান নাটক ছিল ভাইজান। তৌকির, ত্রপা মজুমদার আর কে কে যেন।:D
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×