somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ষ্টিকি পোষ্ট (আমার প্রতিবাদের ভাষা: ...)এর ৪৩ নং মন্তব্য বা ভুঁইয়া এর লেখার জবাবে নিঝুম বলেছেন ..যা বাবা , দাদাদের সাথে চড়ে খা গে... যা...

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ষ্টিকি পোষ্ট (আমার প্রতিবাদের ভাষা: ...) এর ৪৩ নং মন্তব্য পড়ে অথবা যারা সরারসরি ভুঁইয়া নামক লেখকের ঐ লেখাটি পড়ে বিভ্রান্ত তাদের জন্য নাগরিক ব্লগ থেকে পাওয়া..

ভুঁইয়ারা যেভাবে মানুষদের বিভ্রান্ত করে...
পোস্টাইছেন: নিঝুম মজুমদার » ২ জানুঃ, ২০১১, রবিবার, ১০:২৮ প্রথমভাগ

সমসাময়িক

তানভীর আহমেদ ভুঁইয়া কে আমি জানি না । ব্লগে লিখেন বা পত্রিকায় লিখেন এমনটি কখনো আমার চোখে পড়ে নি । তবে সব কিছু যে আমার জানা থাকবে এমন কোনো কথা নেই । তার একটি ফেসবুক নোট লেনিন ভাই মেইল করে পাঠালো । আমার কি মত জানতে চাইলেন । সারাদিন কাজকর্ম করে এসে এত ক্লান্ত যে এই প্রশ্নগুলোর একটা একটা করে উত্তর দেয়া ৯ ঘন্টার কামলা’র থেকে আরো কষ্টের এবং পরিশ্রমের । যাই হোক , লেখার এপ্রোচ দেখে ভাবলাম এই অধমের দু’ তিন কথা যোগ হোক সেসব কথার প্রেক্ষিতে । তবে তানভীর সাহেব যে সব তথ্য ও উপাত্ত দিয়েছেন তাতে করে কনভিন্সড হওয়া দূরের কথা , মনে হচ্ছিলো কোনো এক উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি যেন লিখেছেন । তার নোট খানা আরো ভালো করে পড়তে গিয়েই তার ক্ষেদ বুঝতে পারলাম । নীচে সেসবের কিছু সামান্য উদাহরণ দিলাম মাত্র-

আশা করি এইগুলা জানার পরে ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই ছাড়া অন্যের কথায় বান্দররে মতো লম্ফজম্ফ করবেন না।

এও আশা করি যে যেই উদ্যমে এই অপপ্রচারে সহযোগীতা করসেন সেই উদ্যমেই এখন প্রকৃত তথ্যগুলাও প্রচার করবেন।

নিজের দেশকে ছোট করা হচ্ছে কিংবা তার পাঁয়তারা হচ্ছে এবং আমাদের দেশকে ক্রমাগত অবহেলায় দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে জেনে যারা প্রতিবাদ করলেন , তাদের বলা হলো বাঁদর । তাদের প্রতিবাদকে ও প্রতিবাদের ভাষাকে সমষ্ঠিগতভাবে বলা হলো “বাঁদরের লম্ফ-ঝম্ফ”। তবে ভুঁইয়া সাহেবকে এতটুকু স্বরণ করিয়ে দিতে চাই যে , প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ গুলো ঘাটলেই লংকা কান্ডের একটা দশাসই ফিরিস্তি পাবেন । সেখানে বাঁদরের তাবত খামচা খামচি ও লীলার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া রয়েছে । ভুঁইয়া সাহেবকে শুইয়া শুইয়া স্বপ্ন না দেখে ও বিলাপ না বকে বাস্তবে আসার জন্য অনুরোধ করা গেলো । বাস্তব বড়ই নির্মম ।

ভুঁইয়া সাহেব ৬ টি পয়েন্টে তার আলোচনা এবং তার ভাষ্যমতে “যুক্তি” তথ্য এবং উপাত্ত দিলেন । সেগুলো নাকি বেশ বাস্তবসম্পন্ন ও প্রকৃত তথ্য । এটা অবশ্য ভুঁইয়া সাহেবের দাবী । সে যাক । মূল আলোচনায় আসি-

পয়েন্ট নাম্বার এক-

ভুঁইয়া সাহেব বলেছেন-

১. বিশ্বকাপ উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন বাংলাদেশ করতেসে না। এইটা আইসিসির অনুষ্ঠান এবং তারাই আয়োজন করতেসে । কে কি করবে সেইসব সিদ্ধান্তও নিতেসে আইসিসি। অনুষ্ঠানে তিন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ইতিহাসই তুইলা ধরা হবে। http://icc-cricket.yahoo.net/commercial_opportunities.php

তিনি যেই লিঙ্ক দিলেন সেই লিঙ্কে গেলাম । এই লিঙ্কে গেলে আপনারা দেখতে পাবেন আরো কয়েকটি লিঙ্ক যেখানে মূলতঃ ICC এর সাথে অন্যান্য দেশের সাথে বিভিন্ন বিষয়ের তথা বিশ্বকাপ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে কিছু এগ্রিমেন্ট হয়েছে । এগুলো মূলতঃ সব গুলোই “Request For Proposal (FUP)” এর গাইড লাইন বৈ অন্য কিছু নয় । এর মানে হচ্ছে , এই বিশ্বকাপের আয়োজনে ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট করতে গিয়ে যারা যারা এই ব্যাপারে আগ্রহী হবেন তাদের ক্ষেত্রে একটি সু-স্পষ্ট গাইড লাইন । যেমন , তাদের আর্থিক দিক বিবেচ্য হবে , তাদের কাছে যেসব কাগজ-পত্র চাওয়া হবে তা চাওয়া মাত্রই দিতে হবে ইত্যাদি । এখানে এমন কোনো পয়েন্ট নেই যেখানে উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে কি কি সেগমেন্ট থাকবে কিংবা উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে কারা কারা থাকবেন সেসবের উল্লেখ রয়েছে । অথচ ভুঁইয়া সাহেব অবলীলায় বলে দিলেন সেখানে নাকি লেখা রয়েছে যে অনুষ্ঠানে তিন দেশের সংষ্কৃতি , ঐতিহ্য ও ইতিহাস তুলে ধরা হবে । দয়া করে ভুঁইয়া সাহেব কি আমাদের দেখাতে পারবেন যে কোথায় এই কথা লেখা রয়েছে ? আমার চোখ এড়িয়ে যেতে পারে হয়ত বা । পাঠকদেরও বলছি , ভুঁইয়া সাহেবকেও বলছি , দয়া করে আমাকে একটু দেখান যে কোথায় লেখা রয়েছে সে কথা ।

পয়েন্ট নাম্বার দুই-

ভুঁইয়া সাহেব বলেছেন-

২. উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রাধান্য পাবে। ২২ নভেম্বরের ইত্তেফাকে বলা হইসে, "উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পেয়েছে উইজক্র্যাফট। এতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, কৃষ্টি-সমাজ-সংস্কৃতি, বাংলাদেশের নাচ-গান, আদিবাসী সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেয়া হলেও থাকবে আয়োজক অপর দু দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কার সংস্কৃতির উপস্থাপন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ সবই লাইভ পারফমর্্যান্সের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। থাকবে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথাও।"http://ittefaq.com.bd/content/2010/11/22/news0187.htm

পড়ে হাসলাম । হাসি ছাড়া কিই বা করতে পারি বলেন ? দৈনিক আমাদের সময় , ইংরেজী পত্রিকা দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং খোদ ICC সাইটে গিয়ে জা জানতে পারলাম তা দেখে চক্ষু চড়ক গাছ!!
ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকা মারফত আমরা জানতে পারি যে-

Wizcraft, an Indian based global event management company, has been selected to conduct the opening ceremony of the 2011 Cricket World Cup at Bangabandhu National Stadium in Bangladesh. The firm has been a leading event management company in India and has worldwide reputation as it has been holding the various top sporting events in the last 20 years.Local Organising Committee (LOC) has selected them after short-listed six companies presented before an ICC representative, three country directors and the tournament director.The company will also conduct the opening ceremony of Commonwealth Games in New Delhi which will be held this year. Considering their various experiences, the LOC has selected them and the MoU has been signed already.During their presentation, the Wizcraft said they would arrange a 90-minute long opening ceremony which will be complimented by aesthetic laser show and fireworks.In addition they will try to bring up Rihanna, the Barbados based world famous female singer and songwriter. Besides they have the well connection with Bollywood actor and actress as they conduct the IIFA awards which has been most prestigious celebrity award of India. They said if the actor and actress are available they would try to bring up them in order to add colour in the opening ceremony.
The Wizcraft had the experience of holding Doha Asiad also where they depicted the Arabian Nights. They will conduct the opening at the cost of three million dollars.

তা ৯০ মিনিটের একটি উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান । সেখানে আতশবাজী পোড়াবার কথা বলে হয়েছে , বলা হয়েছে পশ্চিমের বিখ্যাত গায়িকা রিয়ানা কে নিয়ে আনবার কথা , বলা হয়েছে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সব রথী ও মহারথীদের আসবার কথা , বলা হয়েছে তাদের ৫৮ সদস্য দলের আসবার কথা । তো সেখানে তারা কি অন্ডকোষের উপরিভাগের কেশ ছিড়তে আসবেন ? নাকি নাকের মাঝে একটি আংগুল অথবা কানের মাঝে কটন বাড দিয়ে কান চুলকোতে আসবেন ? ভুঁইয়া সাহেব বলবেন কি ?

উইজক্রাফট একটি ভারতীয় ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানী । তাদের এই পর্যন্ত যত অভিজ্ঞতা তাদের ওয়েব সাইটে সাঁটিয়ে রাখা হয়েছে তাতে সিংহ ভাগ কৃতিত্ব দেখা যাচ্ছে যে তারা চলচ্চিত্র অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের নিয়ে নাচন ও কুদনে বেশী পারদর্শী । তারা IFA সহ এমন অসংখ্য ইভেন্ট ম্যানেজ করেছে যেখানে চলচ্চিত্র শিল্পীদের নিয়ে নাচ গান পরিবেশিত হয়েছে । সাম্প্রতিক তাদের উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হচ্ছে তারা নয়া দিল্লীতে কমনওয়েলথ গেমস ম্যানেজম্যান্ট করেছে ।

তো এমনই একটি গোঁড়া ভারতীয় ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানী ৯০ মিনিটে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস , ভাষা আন্দোলন , আমাদের সংষ্কৃতি , সাহিত্য , ঐতিহ্য সব দেখিয়ে ফেলবে ? এই বিশ্বাস টুকু এ যুগের মফিজরাই কেবল বিশ্বাস করবে এবং তা প্রচার করবে এ যুগের গোপাল ভাঁড় হিসেবে আত্নপ্রকাশকারী ভুঁইয়ারাই ।

আর এ টি এন ম্যানেজম্যান্ট যে কোন বাল ফালাবে তা তো শুরুতেই বুঝতে পেরেছি যখন বাটি ছাট মাহফুজ ওরফে ইভাফুজ সাহেব ভারতে বচ্চন পরিবারের সাথে কথা-বার্তা চূড়ান্ত করবার জন্য গিয়েছিলেন । এই গদাই লষ্কর কে দিয়ে কি হবে তা আমরা জানি । এই গদাই , শুধু এই ধান্দাতেই এখন ব্যাস্ত যে কি করে চামে চিকনে ইভা রহমানের একটা গান অনুষ্ঠানে ঢুকিয়ে দিতে পারেন । আমি শিওর এই লোক শুধু এই ব্যাপারটির জন্য কোটি টাকাও ঘুষ দিতে প্রস্তুত থাকবে ।

এবং টিকেট বিক্রির যেই ওয়েব সাইট ICC কর্তৃক দেয়া হয়েছে সেখানে আপনি টিকেট কাটতে যান । কি দেখবেন জানেন ? সেখানে টিকেটের মূল্য দেয়া আছে ইন্ডিয়ান রূপীতে । বাংলাদেশের খেলার টিকেট ইন্ডিয়ান রূপীতে মূল্যায়িত হচ্ছে খোদ ICC এর ওয়েব সাইটে । নীচে উদাহরণ সহ ছবি দিলাম-

আমার কথা হচ্ছে টিকেটের মূল্য কেন রূপীতে দেয়া হলো ? কেন বাংলাদেশের মুদ্রার মূল্যে দেয়া হলো না ? কেন শ্রীলংকার মুদ্রার মূল্যে দেয়া হলো না ? কেন আন্তর্জাতিক কারেন্সি ডলারে দেয়া হলো না ? এর পরেও কি কোনো অর্বাচিন পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে ভারতের প্রভাব সম্পর্কে আর কোনো প্রশ্ন করবেন ? এই ওয়েব সাইট টি আই সি সি কর্তৃক অফিসিয়াল টিকেট কেনার ওয়েবসাইট । তারপর টিকেট কাটতে গিয়ে মিলিয়ে দেখুন । তারপর বলুন আমি মিথ্যে বলেছি কি না ।

http://ittefaq.com.bd/content/2010/09/02/news0862.htm

যেই ইত্তেফাকের সূত্র ধরে জনাব ভুঁইয়া নিজেকে মহা তথ্য ও উপাত্ত প্রদানকারী বলে আখ্যা দিচ্ছেন এবং যেই ইত্তেফাকের সূত্র দিতে দিতে ক্লান্ত হয়েছেন জনাব ভুঁইয়া সেই ইত্তেফাকের সেই লেখারই একটি লাইন এখানে তুলে দিচ্ছি । দেখুন তারাও সেখানে কি লিখেছে –

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশে। অথচ নিজের দেশে এই অনুষ্ঠান করার জন্য বাংলাদেশের কোন কোম্পানি অংশ না নেয়ার বিষয়টিও অবাক করেছে সবাইকে।

এশিয়াটিকের কথা যা বললেন ভুঁইয়া সাহেব তার কোনো তথ্য কোথাও পাওয়া যায় নি । কিন্তু এটিএন বাংলা সংবাদে কিছুদিন আগেই দেখলাম প্লাস আমাদের সময়ের এই রিপোর্টটিও দেখলাম । লক্ষ্য করেছেন কি না জানি না , কিছুদিন আগে মহিলা সাফ ফুটবলের পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আমাদের এই ডক্টর মাহফুজ সাহেব । দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাতে থাকেন এবার । যাই হোক লিঙ্ক টি আবার দিলাম এবং সেই প্রতিবেদনের একটি স্ক্রীন শট ও দিলাম ।

চার নাম্বার পয়েন্টের উত্তর-

ভুঁইয়া সাহেব বলেছেন-

বিশ্বকাপের সূচনা সংগীত হবে বাংলাদেশের দূরবীন নামক একটা ব্যান্ডের বাংলা একটা গান।
http://www.dw-world.de/dw/article/0,,6358331,00.html

এই লিঙ্কে গিয়ে এই ব্যান্ডের ভোকালের সাক্ষাতকার শুনলাম ও তার একটা কথা কোট করলাম । আপনারাও দয়া করে একটু শুনে আসুন ।

শহীদ বলেন, এবারই প্রথম আমাদের দেশে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর হতে যাচ্ছে৷ আর আমরা এর মূল সংগীত গাইতে পেরেছি৷ এটা আমাদের ব্যান্ড দলের জন্য একটি বড় পাওয়া৷ গানটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সবার কাছে খুবই ভালো লেগেছে৷ তবে এখন আমরা অপেক্ষায় আছি অনুষ্ঠানের দিনের জন্য৷ সেদিন সবার কাছে কেমন লাগে গানটি সেটা জানার জন্য৷

কি অদ্ভুত কন্ট্রাডিক্টরী কথা !! যেখানে ভুঁইয়া সাহেব বলেছেন তার প্রথম পয়েন্টে যে , ICC কর্তৃকই নাকি এই বিশ্বাকেপের সব ইভেন্ট নির্ধারিত হবে । তারাই নাকি সব কিছু নির্ধারণ করবেন । আবার আমরা এই তথ্যও পেলাম যে , উইজক্রফট নামের ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নাকি এই উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান দেখা শোনা করবে । সেক্ষেত্রে ভুঁইয়া সাহেবের দেয়া লিঙ্ক ধরেই আপনি ডয়েচে ভেলে দেয়া দূরবীন ব্যান্ড ভোকালের সাক্ষাতকারটি শুনেই দেখুন না , সেখানে তিনি বলেছেন তার গানের কথা আর গান শুনেই নাকি বি সিবি’র লোকেরা পছন্দ করে ফেলেছে এবং তাকে সূচনা সঙ্গীত গাইতে অনুরোধ করেছেন এবং সেটি নিশ্চিতও করেছেন । যেখানে ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট উইজক্রফটের হাতে এবং ভুঁইয়া সাহেবের মতে সব কিছু নাকি ICC এর হাতে সেখানে বিসিবি কি করে সূচনা সঙ্গীত ২০০৭ সালে গঠিত একটা অখ্যাত ব্যান্ডকে সিলেক্ট করে ফেলেন ? এটা কি তবে তাদের জুরিজডিকশানে পড়ে ( ভুঁইয়া সাহেবের কথা অনুযায়ী) ? আর দেশের এত বড় বড় ও ভালো কম্পোজার থাকতে শুধু তাদের পরিচিত বন্ধু এবং এই দলে প্রাক্তন ক্রিকেটার আছে বলেই কি তাদের গানের কথা এখন আলোচনাতে আনা হচ্ছে ?

এইসব অযৌক্তিক ও কন্ট্রাডিক্টরী কথা না বল্বার জন্য ভুঁইয়া সাহেব কে অনুরোধ করি । যদি দূরবীন ব্যান্ড বিসিবি কর্তৃক সূচনা সংগীত গাইতেই পারে তবে তার ১ নাম্বার পয়েন্টটা তার কথার সাথে বিরোধপূর্ণ হয় , অন্যথায় এটাই প্রমাণিত হয় যে , বিসিবির ক্ষমতা রয়েছে নিজের দেশকে প্রমোট করবার । কিন্তু তারা তা করছে না ।

পাঁচ নাম্বার পয়েন্টের উত্তর-

ভুঁইয়া সাহেব বলেছেন-

৪. বিশ্বকাপের থিম সংগীত হবে চারটা ভাষায়। বাংলা, হিন্দী, সিংহলীজ এবং ইংরেজি।

http://cricket.yahoo.com/shankar-ehsaan-loy-to-compose-official-theme-for-cricket-world-cup-2011-video_sel1/category_features#cricket_video_header
হা হা হা হা হা হা হা…এই পয়েন্টে আর কিছু বলবার নেই । যেই সংগীত বানাচ্ছে ভারতীয় তিন শিল্পীরা , সেই গানের আবার বাংলা অনুবাদ !! আমার গত পোস্টে এক সম্মানিত ব্লগার মাটির মানুষ একটি মন্তব্য করেছেন । সেটিই এখানে প্রাসঙ্গিক মনে করে তা হুবুহু পাঠকদের জন্য তুলে দিচ্ছি-

কমেন্টাইছেন: মাটির মানুষ » ৩১ ডিসেম্বর, ২০১০, শুক্রবার, ০১:৩৫ প্রথমভাগ

হিন্দি ভাষার সামনে আর কতোকাল বাংলাকে নতজানু হয়ে থাকতে হবে? কিছু বাইজীর জন্য গান রচনা ছাড়া এই ভাষা আর কিসের উপযুক্ত? রবীন্দ্রসঙ্গীতের হিন্দি অনুবাদ কেমন হতে পারে তার

একটা নমুনা দেইঃ
বাংলাঃ আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধুলার পরে
হিন্দিঃ পাটাক দে রে মেরে শির তেরে টেংরি পর

ছয় নাম্বার পয়েন্টের উত্তরঃ

ভুঁইয়া সাহেব বলেছেন-

৫. সারা দেশে বিশ্বকাপের প্রচারণার জন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হইসে। তারা বিভিন্ন এলাকায় নব্বইটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুষ্ঠান আয়োজন করবে মেসার্স আরএসটি অ্যান্ড কোং; তারা ঢাকা বিভাগ এবং তার আশেপাশে অনুষ্ঠান করবে। এটিএর বাংলা করবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। মাত্রা নামক বিজ্ঞাপনী সংস্থা করবে খুলনা বিভাগে। চ্যানেল আইয়ের সহযোগী ইমপ্রেস টেলিফিল্ম রাজশাহী বিভাগ এবং স্পেস মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশ রংপুর বিভাগে অনুষ্ঠান করবে। বরিশাল বিভাগে করবে আরডেন্ট মার্কেটিং এন্ড কমিউনিকেশন।

ভুঁইয়া সাহেবের এই কথাটি ধরে নিলাম সত্য । তাতে কি আসে যায় ? অভ্যন্তরীন ভাবে সরকার বা বিসিবি এই দায়িত্ব দিতেই পারে । এখানে কথা হচ্ছে যেই অনুষ্ঠানটি সারা বিশের সবাই দেখবে সেটি নিয়ে । কোন গলির কোন চিপাতে কোন পানের দোকান আছে এটা নিয়ে ভুঁইয়া সাহেব কেন গাইতে শুরু করলেন এটি আমার বোধগম্য নয় । বাংলাদেশের মানুষকে ক্রিকেটের উন্মাদনা কোনো সংস্থা দিয়ে না ছড়ানো হলেও সবাই নিজ থেকেই ক্রিকেট নিয়ে উদ্বেলিত হবে । এটি জানা কথা । আর আমাদের নিজেদের সংষ্কৃতি ও ঐতিহ্য নিজেরা নিয়ে বাকুম বাকুম করলে তো আর হবে না , জায়গা মত গিয়ে জানান দিতে হবে । সারা বাংলাদেশের কোন গল্লিতে কোন কর্পরেটরা কোথায় কি ডুগডুগি বাজাবে এইসব অপ্রাসঙ্গিক খবর না দিয়ে আগে নিশ্চিত করুন যে , “ একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার, সারা বিশ্বের বিষ্ময় তুমি আমার অহংকার” গানটি যেন ১৭ই ফেব্রুয়ারী পুরো পৃথিবী শুনতে পারে ।

পরিশিষ্টঃ

সবশেষে তানভীর ভুঁইয়া সাহেবকে বলি , আপনি পৃথিবীর কোথায় থাকেন আমি জানি না । যদি আপনার কথা সব সত্য হয়ে যেত ও আপনার কথা অনুযায়ী এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে এতটা প্রমোট করা হতো তবে আপনার মতই আমিও খুশিতে আন্দোলিত হতাম । আপনি যদি জাপান-কোরিয়ার বিশ্বকাপ উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান লিখে ইউ টিউবে সার্চ দেন , কিংবা সাউথ আফ্রিকা বিশ্বকাপ লিখে সার্চ দেন কিংবা সিডনী অলিম্পিক লিখে সার্চ দেন কিংবা গ্রীস অলম্পিক লিখে সার্চ দেন তবে কি দেখবেন জানেন ? গ্লোবালাইজেশনের চাদর তারা গায়ে মেখেছে ঠিকই , তারা আন্তর্জাতিকতার পাঠ নিয়েছে ঠিকই তবে নিজেদের আগে আবৃত করে । মানে হচ্ছে আগে নিজেদের দেশকে পুরো বিশ্বে তুলে ধরে তবেই তারা হয়েছে সারা পৃথিবীর ।

একটা উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান মানে একটি দেশের জন্য অনেক কিছু । এত বড় একটা আয়োজন করে একটি দেশের লাভ কি হয় বলতে পারেন ? এইতো ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ড আর রাশিয়ার লড়াই দেখলাম । কত নোংরা লেখা লেখিও হয়েছে দুই দেশের পত্র-পত্রিকাতেই । কেন জানেন ? শুধু নিজেদের দেশে এমন একটি আয়োজন করবার জন্য । এমন একটি আয়োজন হলে সেই দেশটির সূবর্ণ সুযোগ হয় সেই দেশটির মানুষ , তাদের দেশের সৌন্দর্য , অর্থনীতি , মানুষ , সমাজ , সংষ্কৃতি , সাহিত্য , সুর সব তুলে ধরবার । পুরো পৃথিবীর সকল ক্রিকেটপ্রেমী মানুষেরা ওইদিন টিভি সেটের সামনে থাকবে । যখন তারা দেখবে বিপাসা বসু আর প্রিয়াংকা চোপড়ার পাছা ঝাকানো , সবাই ভাববে এই বুঝি বাংলাদেশের ঐতিহ্য । কেউ হয়তবা আমাদের এই ঐতিহ্য দেখে খেঁচেই ফেলবে টিভির সামনে । সেটি কি শোভন হবে ?

আপনি বিশ্বকাপের টিকেট কিনতে যান , সেটি আছে ভারতীয় রূপীতে । আপনি থিম সং এর দিকে তাকান সেটি করছে ভারতীয় রা । আপনি কোন দেশে বেশী খেলা হচ্ছে সেটির দিকে তাকান , দেখবেন ভারতীয় রা , আপনি উদ্ভোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের দিকে তাকান , সেখানেও শুধু ভারতীয়রা । আপনি উইজডেন ক্রিকেট ম্যাগাজিন কিনুন , অল আউট ক্রিকেট ম্যাগাজিন কিনুন , স্পিন ক্রিকেট ম্যাগাজিন কিনুন । কি দেখবেন জানেন ? সেখানে লেখা আছে “ ভারতীয় উপমহাদেশে” হচ্ছে বিশ্বকাপ । এই ভারতীয় উপমহাদেশের আড়ালে আমাদের সুন্দর এই দেশটার নাম হারায় । হারায় শ্রীলংকা ।

জানিনা আমরা আর শ্রীলংকানরা কি করতে এই বিশ্বকাপে আছি । হয়ত , “রাজার পাশের বাসায় আছি” এই ভেবেই আমাদের তৃপ্তি । অবশ্য এই তৃপ্তি সবাই পায় না । আপনাদের মত দুই তিনজন মানুষ আছেন যারা এইসব অন্যায় আর অত্যাচার দেখেও , পাছা পেতে দেন । আবার মুফতে রাত জেগে যুক্তি তর্ক লিখে ফেলে উপদেশ বাণী পৌছে দেন । এই আপনারাই আমাদের প্রতিবাদকে বলেন , বাঁদরের মত লম্ফ ঝম্ফ , টিটকারী মারেন ।

খুব ইচ্ছা করে আপনাদের মত মানুষদের কলিকাতার এক রাস্তায় নিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসি । যাবার আগে কানে কানে বলতেও ইচ্ছা করে -

যা বাবা , দাদাদের সাথে চড়ে খা গে... যা...
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:৩২
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫০



গতকাল হঠাত খুব গরম পড়লো।
ঢাকার মানুষ ঘেমে অস্থির। আমি নিজে অনুভব করলাম, চামড়া যেন পুড়ে যাচ্ছে। সকাল গেলো, দুপুর গিয়ে সন্ধ্যা এলো কিন্তু গরম কমে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোগাক্রান্ত সাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:১৪

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম—এটা সত্য, কিন্তু শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। বরং ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—এই তিনটি জায়গায় শক্তিশালী সংস্কার সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। নিচে বাস্তবভিত্তিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×