somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৮৭

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকাল হঠাত খুব গরম পড়লো।
ঢাকার মানুষ ঘেমে অস্থির। আমি নিজে অনুভব করলাম, চামড়া যেন পুড়ে যাচ্ছে। সকাল গেলো, দুপুর গিয়ে সন্ধ্যা এলো কিন্তু গরম কমে না। শরীর জ্বলে যায়, পুড়ে যায়- এমন অবস্থা। আচমকা এই গরম পড়ার কারণ কি? গতকাল শুক্রবার হলেও আমি কাজে ছিলাম। ব্যস্ত ছিলাম। সারাদিন এসি'র মধ্যেই ছিলাম। কিন্তু সিগারেট খেতে বাইরে গিয়ে দেখি অত্যাধিক গরম। রাতে বাসায় ফিরেছি, অনেক রাতে। এসি বন্ধ। এসি অনেক দিন ধরেই বন্ধ। সার্ভিসিং করাতে হবে। অনেকদিন থেকেই ভাবছি, এসি সার্ভিসিং করা দরকার। কিন্তু সার্ভিসিং করা হয়নি। আমি কিছুটা এসি সার্ভিস করতে জানি। রাত একটায় আমি এসি সার্ভিসিং শুরু করি। সাত শ' টাকা বেঁচে গেলো। এসি ছেড়ে আরাম করে ঘুমিয়েছি। ভোরের দিকে পুরো ঘর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আছে।

রাত একটায় এসি সার্ভিস করার আমার কোনো ইচ্ছা ছিলো না।
আমার কন্যা ফারাজার গরমে কষ্ট হবে। এই ভেবে আমি এসি সার্ভিস করি। এসি সার্ভিস করার পর কন্যার চোখে মুখে যে হাসি ও তৃপ্তির ঝলক দেখেছি, সেটা দেখে আমার মন শান্তিতে ভরে গেছে। যাইহোক, ইঁদুর, বিড়াল, কুকুর এগুলো আমার পছন্দ না। অনেকে ঘরে কুকুর বিড়াল পোষে। এটা আমার খুবই অপছন্দ। যে বাসায় কুকুর বিড়াল থাকে আমি সেসব বাসায় যাই না। ঘটনা হলো আমাদের ঘরে একটা ইঁদুর চলে এসেছে। ইঁদুর কোথা থেকে এলো? ছয় তলায় ইঁদুর কেন আসবে? আমার ঘর সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। পাশের বাসা থেকে ইঁদুর এসেছে। আমি নিশ্চিত। রান্না ঘরের জানালা দিয়ে এসেছে। এই ইঁদুর ঘর থেকে বিদায় কিভাবে করিব? ইঁদুর, ছারপোকা মানুষের জীবন শেষ করে দেয়। ইঁদুর ধনী গরীব বুঝে না। ইঁদুর ভালো মানুষ, মন্দ মানুষ বুঝে না।

ইঁদুর নিয়ে আমি ঘুমাতে পারিব না।
বন্ধু শাহেদ জামালের সাথে ফোনে আলাপ করলাম। সে ভালো মানুষ। মানবিক এবং হৃদয়বান। সে বলল- ইঁদুর তাড়াতে ধৈর্য দরকার। এবং ইঁদুরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কিছুটা কৌশলী হতে হবে। এক কাজ কর, বাসায় একটা বিড়াল নিয়ে আয়। বিড়াল দেখে ইঁদুর দৌড়ে পালাবে। যে বাসায় বিড়াল থাকে....। শাহেদের কথা শেষ হওয়ার আগেই আমি ফোন রেখে দিলাম। কেউ জ্ঞান দিলে আমার ভালো লাগে না। আমি জ্ঞানী হতে চাই না। সহজ সরল ভাবে জীবনটা পার করতে পারলেই বাঁচি। আমার এক বন্ধু তার বাবাবাকে বলেছিলো, রাজীব অনেক জানে। যে কোনো বিষয়েই সে ভালো জানে। বন্ধুর বাবা তে্জ দেখিয়ে বলেছে, বেশি জানা ভালো না। বেশি জানতে জানতে শেষে জানোয়ার হয়ে যেতে হয়! জানতে জানতে জানোয়ার। আমি জানোয়ার হতে চাই না। জানোয়ার হচ্ছে, জামাত-শিবির-জঙ্গী। এনসিপি। ইনকিলাব মঞ্চ। এমনকি যারা ব্যস্ত রাস্তা দখল করে মিটিং মিছিল করে, মানুষের সমস্যা তৈরি করে তারা জানোয়ার।

মুসলমানদের সুবিধা হলো- কোরআন-হাদিসে সব সমস্যার সমাধান আছে।
ঘর থেকে ইঁদুর তাড়ানোর একটা দোয়া আছে। ''আউযু বি কালিমা-তিল্লাহিত-তাম্মাতি মিন শাররি মা খালা''। ইসলামে ইঁদুরসহ ক্ষতিকর প্রাণী নিধন বা তাড়ানোর অনুমতি রয়েছে। নবীজি নিজে বলেছেন, ইঁদুর, বিচ্ছু, চিল, কাক এবং পাগলা কুকুর মেরে ফেলো। এরা ক্ষতিকর। আমাদের ঘরে যে ইঁদুর এসেছে, সে অলরেডি ক্ষতি করতে শুরু করেছে। জানালার পর্দা কেটে ফেলেছে। খাট কেটে ফেলতে শুরু করেছে। ইঁদুর পর্দা কেন কাটবে? তাতে তার লাভ কি? খাট'ই বা কাটবে কেন? এতে তার লাভটা কি? সুরভি পরিস্কার মানুষ। পরিস্কারের বাতিক তার আছে। ঘরে ইঁদুর এটা সে মেনে নিতে পারছে না। আমি বুয়াকে বলেছি, আপনি ইঁদুরটাকে ঘর থেকে তাড়ান এজন্য আপনাকে ৫ শ' টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আমাদের আগের বুয়া চলে গেছে। চলে যাওয়ার আগে অন্য বুয়া দিয়ে গেছে। বুয়া ইদে নিজের ছুটি নিজে নিয়েছে। সাত দিন। সাত দিন বলে এগারো দিন পর এসেছে। এজন্য তার কোনো অপরাধ বোধ নেই।

বাংলাদেশে ইঁদুর ৫০ লাখ লোকের এক বছরের খাবার নষ্ট করে।
ইঁদুর প্রায় ৩০ প্রকার রোগ ছড়ায়। ইদুরের জন্মই হয়েছে মানুষের ক্ষতি করার জন্য। নবীজি বলেছেন, শয়তান ইদুরকে দিয়ে মন্দ কাজ করিয়ে নেয়। কিন্তু নবীজি আগুন দিয়ে ইঁদুর পুড়িয়ে মারতে মানা করেছেন। নবীজি নরম হৃদয়ের মানুষ! আমাদের বাসায় বাচ্চাদের আরবী পড়াতে আসেন জহির হুজুর। জহির হুজুরকে ইদুরের কথা বললাম। হুজুর ইঁদুর তাড়ানোর দোয়া পড়লেন। দোয়া শেষে বললেন, আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার সব ক্ষতিকর প্রাণী বিশেষ করে ইঁদুরের ক্ষতি থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দিন। ইঁদুর সমস্যা নিয়ে, আমাদের এলাকার মসজিদের ইমামের সাথে কথা বললাম। তিনি বললেন, আসলে এগুলো ইঁদুর না। এগুলো জ্বীন। দুষ্ট জ্বীন। ইদুরের রুপ ধরে আছে। ইমাম সাহেব পরামর্শ দিলেন, ঘরে বেশি বেশি করে সূরা বারাকা পড়তে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫০
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আমি কিংবদন্তির কথা বলছি".......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩০ শে মে, ২০২৬ সকাল ৭:৫৮

আজ ৩০ মে।
বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর দিন। আজ সেই মহানায়ক, সেই সৈনিক, সেই রাষ্ট্রনায়কের শাহাদাৎ বার্ষিকী- যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের জন্য।
তিনি শহীদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলা ববি হাজ্জাজের মূর্খতা নাকি অহংকার?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ৩০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন "নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যা গবেষণা করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০


গত রোজার ঈদে বাংলাদেশে একটা সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল, নাম "বনলতা এক্সপ্রেস"। হুমায়ূন আহমেদের "কিছুক্ষণ" উপন্যাস অবলম্বনে বানানো, মোশাররফ করিম আর চঞ্চল চৌধুরীর মতো মানুষরা অভিনয় করেছেন। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লটারি: শার্লি জ্যাকসন

লিখেছেন নিবারণ, ৩০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫১

২৭ জুনের সকালটা ছিল একদম পরিষ্কার আর ঝলমলে। ভর গ্রীষ্মের এক সতেজ ওম চারদিকে; ফুলের দল ফুটে আছে থোকায় থোকায়, আর ঘাসগুলো একেবারে গাঢ় সবুজ। সকাল দশটা নাগাদ গ্রামের লোকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা'র আন্তর্জাতিক খেলা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৫২



শেখ হাসিনা- একটি নাম, একটি ইতিহাস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন খুব কম নেতাই আছেন, যাদের নাম উচ্চারিত হলে সমর্থন ও বিরোধিতা- উভয়ই এত প্রবলভাবে সামনে আসে। দীর্ঘ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×