somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খবরটির নাম রাখা হয়েছে 'Neighbourhood First Policy'

২১ শে মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইন্ডিয়া শুধু বিদ্যুৎ রপ্তানীই করছে না তারা এখন তেল রপ্তানীতেও মধ্যপ্রাচ্চের কাছাকাছি। দেশটি রপ্তানী বাণিজ্যে হিংসনীয় উন্নতি লাভ করেছে।
.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.
বাংলাদেশ এখন একের পর এক বিপজ্জনক ঢেউয়ের মুখে।
তার রাজনীতি, শিল্প, ব্যাকিং সিস্টেম, বন, নদী, খেলাধুলা সবকিছুতে আছড়ে পড়ছে সুনামি।
এত বেশি ও এত তীব্র গতিতে সব ঘটছে এবং মূলধারার মিডিয়ায় আড়াল তৈরির এত আয়োজন যে, ঘটনাবলীতে নিয়মিত নজর রাখাও দূরূহ হয়ে পড়ছে। একটি ঘটনার তাৎপর্য বুঝে ওঠার অাগেই অাসছে নতুন ঘটনা।
নীচের ছবিটি দেখুন।



মনে হচ্ছে যেন কোথাও বিপুল আনন্দের আয়োজন চলছে। ফুলে ফুলে সেজে আসছে গাড়ি, সবুজ পতাকায় তাকে স্বাগত জানাচ্ছেন পাগড়িধারীরা। এক ধরনের উপনিবেশিক আনন্দের উচ্ছ্বাস ছবিটি থেকে ঠিকরে বের হচ্ছে।

মূল কাহিনী হলো, বাংলাদেশে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ২ হাজার ২০০ টন ডিজেল আসছে। তাই এত আনন্দ চারিদিকে।

শুরুতেই খটকা লাগতে পারে হঠাৎ বাংলাদেশে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এত ডিজেল আসছে কেন? সচরাচর এমনটি ঘটে না। বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে ডিজেল জাতীয় জ্বালানি এনে থাকে তার মধ্যে ভারত নেই। অন্তত গত ৮-১০ বছরে এমন সংবাদ জানা নেই কারো।

কিন্তু তারপরও ডিজেলের ট্রেন চলে এসেছে বাংলাদেশে।
নিউজটির ভাষ্য মতে, ‌"বাংলাদেশ এই ডিজেল পাচ্ছে ‌'সহায়তা' হিসেবে শুভেচ্ছার নিদর্শন-স্বরূপ।"

ছোট এই খবরের পেছনের খবর হলো, ‌'ভারত পেট্টোলিয়াম'-এর সাবসিডিয়ারি এনঅারএল (NRL-Numaligarh Refinery Limited) এই জ্বালানি বিক্রি করছে বাংলাদেশের কাছে। ঢাকার ডেইলি স্টারের খবর অনুযায়ী (১৮ মার্চ) প্রতি ব্যারেলে অন্তত আড়াই ডলার বেশি মূল্য দিয়ে বাংলাদেশ এই্ জ্বালানী কিনছে ভারত পেট্টোলিয়াম থেকে, যদিও এতদিন বাংলাদেশে আন্তজাতিক বাজার থেকে দরকষাকষি করেই ডিজেল কিনতো। (ডেইলি স্টার ঠিক লিখছে তো? তারা তো আবার বিভিন্ন এজেন্সির খবর ছাপে বলেও কথিত আছে!)

মূল কাহিনীর অবশ্যই এখানেই শেষ নয়, বরং শুরু।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছর যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখনি নাকি বাংলাদেশ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে--যার আওতায় জ্বালানি পরিবহণের জন্য দু'দেশের মাঝে ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন বসবে--যার নামও ঠিক হয়ে গেছে..‌'ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন'!
তবে শিলিগুড়ি থেকে শুরু হওয়া এই পাইপলাইনের মাত্র ৫ কিলোমিটার থাকবে পার্শ্ববর্তী দেশের ভেতর--বাকি ১৩০ কিলোমিটারের জায়গা দিতে হবে বাংলাদেশকে। বলাবাহুল্য, এই পাইপলাইন হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অনেকখানি দায়িত্ব পাবে পার্শ্ববর্তী দেশ। বিদ্যুত রফতানির মাধ্যমে যার কিছুটা ইতোমধ্যে সে পেয়েও গেছে।

আপাতত এটা নতুন খবর বটে।
কারণ, কবে বাংলাদেশ ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের চুক্তি করলো জাতীয় সংসদ জানে না তা। কবে এবং কেন বাংলাদেশ অন্তত ১০টি দেশের সংগে থাকা তার জ্বালানি চুক্তি বাদ দিয়ে কেবল একটি দেশের সংগেই এ বিষয়ে চুক্তি করছে সেও জনসম্মুখে প্রচারিত নয়। অাবার বিশ্বজুড়ে সবাই যখন কম দামের খোজ করছে তখন ব্যারেলে আড়াই ডলার বেশি দিয়ে কেন এত ফুলেল শুভেচ্ছায় কেনাকাটা চলছে তার অন্তর্নিহিত কারণ বোঝাও কঠিন।

যদিও অাপাতত না জানলেও এনার্জি সিকিউরিটি এত স্পর্শকাতর প্রসংগ যে বাংলাদেশকে তা জ্বলেপুড়ে হলেও একসময় জানতে হবে বৈকি-- যেমনটি জানছে বহিবিশ্বের অনেক দেশ। যেমনটি জানলো সম্প্রতি নেপাল।

সবচেয়ে বড় বিস্ময় বোধহয় এই যে, ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণের এত বড় একটা উন্নয়ন বিষয়ক খবর এখনো দেশের কোন গণমাধ্যমে মুখ্য খবর হয়ে উঠতে পারলো না? এটা কী কোন সচেতন ভুল?

তবে ভারতের সব কাগজেই বেশ বড় জায়গা জুড়ে এই খবরটি ঠাই করে নিয়েছে। দৈনিক Business standard লিখেছে, এটা হলো তাদের সরকারের Neighbourhood First Policy!!
অার The Economic Times এর হেডিং ছিল 'India and Bangladesh enter new era of bilateral petroleum trade.'
.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।।
সাধারণত কপি পেস্ট করিনা কিন্তু এইটা প্রচার করা জরুরী মনে হলো। লেখক Altaf Parvez কে অনেক ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×