somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইংরেজী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আমি

০৮ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে ক্লাস করতে গিয়ে একটা কথা বারবার শুনতে হল। এই প্রথম তা নয় এর আগেও বহুবার শুনেছি,জানি এবং আমি নিজেও কথাগুলো বলেছি।
বিশ্বের কয়েকটা উন্নত দেশের নাম বলেন ত দেখি যারা নিজের ভাষা ত্যাগ করে অন্য ভাষায় কথা বলে???
রাশিয়া,জাপান,জার্মানী, ইতালী. চীন, আমেরিকা,ফ্রান্স কোন দেশেই তাদের মাতৃভাষার বাইরে অন্য ভাষায় কথা বলে না।
তাদের লেখাপড়া, কাজ কর্ম থেকে শুরু করে সব তাদের মাতৃভাষায় হয়। এমনকি বাইরের দেশের লোকদেরকেও তাদের সাথে কথা বলতে হলে দো-ভাষী ব্যবহার করতে হয় অথবা সেই দেশের ভাষা শিখে তাদের সাথে কথা বলতে হয়।
তারা যে ইংরেজী পারে না তা নয়। পারে তবে তারা এটার প্রয়োগ করে না।
একজন চীন এর অধ্যাপক বলেছিলেন আমার দেশের লোকসংখ্যা প্রায় পৃথিবীর অর্ধেক তাহলে আমি কেন অন্যের ভাষায় কথা বলতে যাব। বরং যার আমার সাথে কথা বলা দরকার সে আমার ভাষা শিখে আমার সাথে কথা বলূক। উনার এই কথাটায় হয়তবা কিছুটা দাম্ভিকতা প্রকাশ প্রায় কিন্তু উনার পরের কথাটায় বেশ যুক্তি আছে।
ভাষা যাই হোক না কেন শিক্ষাট হচ্ছে মূল কথা। মানুষ যে ভাষায় শিক্ষা গ্রহন করতে বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করে তাকে সেই ভাষায় শিক্ষা দেওয়া উচিৎ। আর এই কাজটা করা হলে সে তার শিক্ষাটা পূর্ণভাবে গ্রহন করতে পারে।
আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাধ্যতামুলক ইংরেজী শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমি এইটার বিরোধীতা করছি না। বরং আমি বলব ইংরেজী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হলেও বাংলাকে কেন বাধ্যতামুলক করা হচ্ছে না। কথাটা পড়ার পড় অনেকেই হাসতে পারেন। বলে কি?? বাঙালী হয়ে বাংলাকে বাধ্যতামুলক করে শিখাতে হবে।
আরে ভাই একটু লক্ষ করে দেখেন, দেশেল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে বাংলা একদমই পড়ানো হয় না।
কয়েকদিন আগে কোন একটা টেলিভিশন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসল একটা তথ্য। ইংলিশ মিডিয়াম এর এই ছাত্রগুলো বাংলা বার মাসের নাম জানে না। জানেনা বাংলা ঋতু সম্পক্যে। এমনকি কিছু কিছু ছাত্রকে যখন প্রশ্ন করা হল বাংলা সাতদিনের নাম বলতে তখন তারা তাও পরে না। দূভাগা যাকে বলে আরকি। বিস্বাস হচ্ছে না। একটু খোজখবর নিয়ে দেখেন বিস্বাস হয়ে যাবে।
আমি বাংলা মিডিয়াম এর ছাত্র। সেই প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণী পযন্ত বাংলায় পড়াশোনা করে আসছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় এ এসে আমাকে পড়তে হচ্ছে ইংরেজীতে। আমার সৌভাগ্য যে আমার শিক্ষকরা যেই বিষয়টা ইংরেজীতে না বুঝি তা বাংলায় বুঝিয়ে দেয় কিন্তু কয়জন সেই সুযোগটা পায়। তারপরেও একটা কিন্তু থেকে যায়।
আমি সহ আরো কয়েকজন আছে যারা ইংরেজীতে দূর্বল। আর এই দূর্বলতার কারণে পরিক্ষার খাতায় ঠিক মত লিখতেও পারি না। যার ফলাফল খুব খারাপ। আমাকে সহ তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে সেই পরিক্ষার ফলাফলে। অথচ একটা ছাত্র ইংরেজীতে খুব ভাল কিন্তু তার অনান্য জ্ঞান খুব সীমিত বা সে পরিক্ষার খাতায় ইংরেজীতে খুব ভাল লিখতে পারে তাকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে ভাল ছাত্র,দেশের ভবিষ্যত হিসাবে। আমরা যারা ইংরেজীতে দূর্বল তারা অন্যায়টা কোথায় করলাম?? আমরা ইংরেজী পারি না এইটাই আমাদের দোষ।
আজ পযন্ত অনেক শিক্ষক দেখেছি যারা ইংরেজীতে পড়ানোর বিরুদ্ধে। এটা তারা নিজেরাই স্বীকার করেছে। আবার তারা এও বলেছে যে তারা নিয়মের বেড়াজালে আটকানো সুতরাং কিছু করার নাই। কিন্তু একটা কথা তারা সব সময় স্বীকার করেছে যে তারা ইংরেজীতে লেকচার দিয়ে যতটা না সাচ্ছন্দবোধ করে তারচেয়ে বেশি সাচ্ছন্দবোধ করে বাংলায় লেকচার দিয়ে। এবং ছাত্ররাও বাংলায় লেকচার দিলে বুঝে বেশি।
আমার মত কিছু গাধা আছে যাদের হয়ত বাংলায় পড়াশোনা করতে দিলে কিছুটা ভাল করতে পারতাম। কিন্তু সেটা আর হচ্ছে না। ঐ যে স্যারের কথায় আমরা নিয়মের বেড়াজালে আটকা পড়ে আছি।
কোথায় যেন পড়ে ছিলাম. আমাদের দেশে ছোট্ট বাচ্ছাদের পড়াশোনায় বছর শেষে পরিক্ষা নামক একটা যন্ত্রণা দিয়ে একটা কু-বুদ্ধি মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, আমি খারাপ সে ভাল অথবা সে খারাপ আমি ভাল। একটা পরিক্ষা দিয়েই বিচার করা হয়ে গেল কে ভাল আর কে খারাপ।
আমি ত দেখছি অবস্থা আরো খারাপ। এই পরিক্ষার দুহাই দিয়ে একটা মানুষকে বিচার করা হচ্ছে। যে যত ভাল রিজাল্ট করবে সে তত ভাল আর যে যত খারাপ রিজাল্ট করবে সে ততটা খারাপ। কিছুটা মানা যেত যদি এই পরিক্ষাটা হত আমার মাতৃভাষায়। কিন্তু আফসোস কিছু করার নেই। ঐ যে শুরুতেই বলেছি আমরা নিয়মের বেড়াজালে আটকে পড়েছি।
পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে তাল মিলাতে গিয়ে হারাতে বসেছি আমাদের নিজেদের জীবন,ভাললাগা,মন্দলাগা, আমাদের ইচ্ছা,আকাংক্ষা সব সব।
আমি যতদুর জানি যেইসব দেশের সাথে তাল মিলিয়ে এই মান্ধাত্বার আমলের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশে বিদ্যমান সেই সব দেশেও এখন আর এই অবস্থা নেই।
বিচত্র সব নিয়ম আর বিচিত্র সব জীবন।
আমাকে ডাকা হচ্ছে ক্লাসে। ইংরেজী লেকচার দিবে আর আমি সেই লেকচার শুনে শুনে মুগ্ধ হয়ে ক্লাস থেকে বের হব আর যা শুনেছি তা ঐ ক্লাসের চার দেয়ালের ভিতরেই আবদ্ধ করে রেখে আসব।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×