somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দাঁড়ি (অণু গল্প )

১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কিছুদিন ধরে আমি এই ফোন-কলটার অপেক্ষায় ছিলাম। রিংটোনটা তাই বেশিক্ষণ বাজতে পারল না। ঝট করে আমি ধরে নিলাম কলটা। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে মুক্তার ভাই বললেন, কিরে কেমন আছিস?

মুক্তার ভাই আমার প্রথম চাকরিতে ছিলেন আমার বস। তার সাথে সম্পর্কটা এত ভালো হয়ে উঠেছিল যে তিনি যেন আমার বড় ভাই হয়ে উঠেছিলেন। চার বছর পর চাকরিটা ছেড়ে যখন আসি খেয়াল করলাম যে সম্বোধনটা কখন যেন 'আপনি' থেকে 'তুই'-এ এসে থিতু হয়েছে।

যাই হোক, তার ফোন পেয়ে আমার মনটা খুশি হয়ে উঠল। আমি আশা করছিলাম যে ভাই আমাকে ভালো কিছু খবর দেবেন। কিন্তু তিনি একথা সেকথা বলছেন দেখে আমিই প্রশ্ন করলাম, ভাই, কোন অফিস থেকে আপনারে ফোন দিছিল নাকি? ভাই কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, হাঁ, দিছিল। তোর বিষয়ে খোঁজ খবর নিল।

এক বছরের বেশি হলো আমি নতুন একটা চাকরির চেষ্টা করছি। বয়স্ক মা-বাবা, স্ত্রী আর দুই সন্তানের খরচ আর কুলাতে পারছি না। অবশেষে গত মাসে একটা চাকরির পরীক্ষার ডাক পাই। লিখিত পরীক্ষা খুব ভালো হলো। দুইবার ভাইভা নিলো। তখন ভাবলাম, পজিটিভ কিছু হতে পারে!

আমি অনেকটা ব্যাকুল হয়ে ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, দু'এক দিনের মধ্যে কি তাহলে কোন সুসংবাদ পাব, ভাই? ভাই আবারও কয়েক মুহূর্ত চুপ থাকলেন। বললেন, বুঝতেছি না! ওরা আমারে দুই দিন ফোন দিল। দুই দিনই একটাই প্রশ্ন: তোর মুখে দাড়ি ক্যান? আমি বলছি, দাড়ি রাখা না-রাখা তো যার যার পছন্দের ব্যাপার। এখানে তো বলার কিছু নেই!

আমার বুকের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হল। ভাই ফোনের ওপাশ থেকেও যেন তা শুনতে পেলেন। বললেন, আরে, মন খারাপ করিসনে! একটা না একটা কিছু হবে! রিজিকের মালিক আল্লাহ। তা তো ঠিক বলেছেন, ভাই! আমি বললাম। যখন স্টুডেন্ট ছিলাম তখন হোস্টেলে সিট পেতে ছয় মাস দেরি হইছিল মুখে দাড়ি ছিল না বলে, আর আজ চাকরী হইলো না দাড়ি আছে বলে!

আমাকে আফসোস করতে দেখে ভাই বললেন, আরে! এত হতাশ হচ্ছিস ক্যান? আচ্ছা শোন, আমি আসতেছি তোর অফিসে । তোর অফিসের মোড়ে চায়ের দোকানে থাকব পাঁচটার পর ।

আমি একটু অবাক হলাম। ভাবলাম, ভাই কষ্ট করে আবার আসবে! আমি কিছু বলার আগে উনি বললেন, সিনিয়র হইছি বইলা কী আমি আসতে পারি না? তুই তার মতো অফিস কর। আমি পাঁচটা থিকা থাকমুনে। যখন তোর শেষ হয় নামিস। মনে কর দুইজন একসাথে চা খাইলাম। একটু আড্ডা-টড্ডা দিলাম। বাইকে কইরা তোরে বাসায় নামায় দিয়াসমুনে।
কলটা শেষ হলো! মনে মনে ভাবলাম, কেমন অদ্ভুত এ দুনিয়া আর কী বিচিত্র সব মানুষ!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এ আগুন আপনাদেরও একদিন গ্রাস করবে।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৩


আজ যারা ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির ভিত্তিতে ও তাঁর কথিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা”, “মুসলিম বিদ্বেষী” সহ নানা মিথ্যা অভিযোগ আর অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ বিদ্বেষের ব্যাপারে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি ও ইতরামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪


যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×