সবাইকে স্বাগত শুক্রবারের নিয়মিত ছুটির দিনের কড়চায়। আজকের বিষয় ফোনে আলাপ নয়, বরং ভালো লাগা। ভালো লাগাটা যদি একপাক্ষিক হয় তাহলে কিন্তু মহা গ্যাঞ্জাম। সে ধরণের একটা হালকা ঘটনা তুলে ধরব আজকের স্মৃতি চারণে। ভালো লাগার অনুভূতি নিয়ে জাবর কেটে একটু জিড়িয়ে নিতে পারেন যারা খুব ক্লান্ত এখানকার হাত মেলানো, হাত তোলা, ল্যাং মারা, আর গলাবাজির আতিশয্যে। ব্ল্ল্লগে প্রস্তাবিত বিয়ের ব্যাপারটা বেশ আলোড়ন তুললেও কাঙ্খিত পাএ-পাএীরা এখনও মুখোমুখি হচ্ছেন না। জল্পনা কল্পনায় আর রসনা বিলাসে সীমাবদ্ধ রেখেছেন তাদের সুপ্ত ভাবনাগুলো। কিন্তু ব্যাপারটা যদি হঠাৎ করে গুরুতর আকার নেয় তাহলে তা কিন্তু রেকর্ড তৈরী করবে। দেখা যাক, কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়? অন্তত: বিয়ের প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে "ভালো লাগার" হিসেব খোলা খুব প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে।
ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগার ব্যাপারে আমি নিজে কখনও সিরিয়াস হতে পারিনি। ব্যাপারটা লেখাপড়া বা ভালো রেজাল্টের জন্য শিঁকেয় তুলে রেখেছিলাম। হুঁ, ভালো রেজাল্ট হয়েছে, কিন্তু ভালো লাগা বিশ্ববিদ্যালয় জীবণে আর খুঁেজে পাইনি। এছাড়া, ডিপার্টমেন্টে আড্ডার জন্য নির্দিস্ট কিছু বন্ধু ও বান্ধবী দ্বারা সবসময় পরিবেস্টিত হয়ে থাকতাম। ব্যাচমেট, ক্লাশমেট, ডিপার্টমেন্টে বা মহল্ল্লায় ভাল লাগা বা প্রেম করার ব্যাপারে আমার নিজস্ব এলার্জি ছিল। আমার থিওরী ছিল ভাল লাগা বা প্রেম করতে হলে অন্য কোন বলয় থেকে কাওকে খুঁজে নেওয়া উচিত। এতে বৈচিএ্য থাকে। কৌতুহুল থাকে। চমক থাকে। এই ব্যাপারটা আমার একান্ত বান্ধবীরাও খুব ভালো করে জানতো। জানতো আমার বাসার লোকজন। তাই, বান্ধবীরা বাসায় এলেও কেউ কিছু ভাবতো না, কানাঘুষা করতো না। আর বান্ধবীদের বাসায় আমরা ক'জন কার্বোরাইজড দিয়াশলাইয়ের মতো নিরাপদ বলেই বিবেচিত হতাম। তাই বান্ধবীদের বাসার ঠেকার কাজ, বিশেষ কাজ, এমনকি তাদের বাসার যেকোন আয়োজন-নিমন্ত্রণে আমাদের একচ্ছএ আধিপত্য ছিল। কিন্তু আসল চমকটা এক দুস্টু বন্ধুর কারণেই ঘটল। এধরণের বদমায়েশী করা যে কতোটা অন্যায় তা তাদের বুঝতে একটু দেরী হয়েছিল। কিন্তু যখন তারা বুঝল ততোদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে।
মাস্টার্সে পড়ছি। একদিন আমাদের প্রফেসরের ক্লাশে আসতে দেরী। এর মধ্যে আমার পাশের দুস্ট বন্ধুটা কাগজের দু'টি প্ল্ল্লেন তৈরী করে ক্লাশে উড়িয়ে দিল। সমস্যা কিছু নয়। কিন্তু কাগজের প্ল্লেনের একপাশে আমার নাম আর অন্যপাশে আরেকটি শান্ত মেয়ের নাম। প্ল্ল্লেন চালাচালি হলো। সমস্যা সেখানেও না। কিন্ত সমস্যা হলো ক্লাশ শেষ হওয়ার পর। যথারীতি আড্ডায় বসেছি আমরা ক'জন। হঠাৎ করে প্ল্ল্লেনে চড়া নামের সেই শান্তমেয়েটিও এসে হাজির। আমার কোন ভাবান্তর নেই। কিন্তু আরেকজনের অবস্থা ও আচরণে কিছুটা পরিবর্তন। সে তো আর উঠে না। একটা হালকা প্ল্লেন উড়ানোর ঘটনা কারও মনে যদি অন্যরকম ভাবনা আর ইচ্ছার জন্ম দেয় তখন তা খুব পীড়াদায়ক মনে হয়। সেই শান্ত ক্লাশমেটটি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবদের ভয়াবহ যত্ন শুরু করে দিল। টাঙ্গাইল গেলে সে মিস্টি নিয়ে আসে। নিজের হাতে নুডলস রান্না করে আড্ডার বন্ধুদেরকে খাওয়ায়। ব্যাপারটা একটা যন্ত্রণায় রূপ নিল। যারা হোতা তারা বুঝল ব্যাপারটা খুব খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু শুধরাবার কোন উপায় নেই দেখে আমাকে চেপে বসল। আমি যতই "না" বলি তারা ততই চাপে। তারপর আমি যুদ্ধক্ষেএ থেকে হঠাৎ উধাও। তারপর থেকে সেই ক্লাশমেট কখনও আড্ডায় আর আসতো না, কথাও বলতো না। মানুষের মন বড়েই জটিল আর সংবেদনশীল। আর একপেশে ভাল লাগা আরও জটিল গ্রন্থি তা গভীরভাবে কখন কাকে নাড়া দেয় সেটা বলা খুবই দুস্কর। ব্যাপারটি আমার বাস্তবতায় খুব সামান্য মনে হলেও আরেকজনের মনে যে অসামান্য দোলা দিয়েছিল সেখানে এখনও একধরণের অপরাধবোধ বাস করে...।
"ভালবাসা নিষ্পলক, ছন্নছাড়া ভিক্ষুক
এবং অজ্ঞ, অন্তরে বিবর।
ভালবাসা রাস্তার ধুলো
ঝড়ে নটরাজ, বর্ষায় তার তপোভঙ্গ;
আর্য মহিমার সন্ততি সে
ভালবাসা বিশাল বৃক্ষ
অনন্ত অপেক্ষা তার
বিস্তারতায় দুরন্ত নেশা,
সে অসম্ভব ছায়া
ভালবাসা পরিপূর্ণ সংখ্যা, স্বেচ্ছায় নিয়ন্ত্রিত নয়,
নির্মম বিচিএতায় আন্দোলিত হয়
পুনর্বার ভালবাসা মন্থন শেষে অমৃতের মতো
ভালবাসা কঠিন প্রতিজ্ঞা, মহাকাব্যের সত্য;
মুহুতর্্ব ও অনন্ত, এই ভালবাসা"।
মৃতু্যঞ্জয় সেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



