
ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
যদি কেউ বলেন তিনি “জিনা থেকে বাঁচার জন্য” দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, তাহলে ইসলামী দৃষ্টিতে এটা একটি বৈধ কারণ হতে পারে। কারণ ইসলাম হারাম থেকে বাঁচার জন্য বিয়েকে হালাল পথ হিসেবে দেখায়।
তবে মূল প্রশ্ন হলো:
তিনি কি দুই স্ত্রীর হক ঠিকভাবে আদায় করতে পারবেন?
সময়, খরচ, সম্মান ও আচরণে ইনসাফ রাখতে পারবেন?
কারও ওপর জুলুম বা অবহেলা হবে না তো?
এসব ঠিক থাকলে বিয়েটা শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ হতে পারে। কিন্তু বৈধ হওয়া আর উত্তম/হিকমাহপূর্ণ হওয়া এক বিষয় না। অনেক কাজ ইসলামে জায়েজ হলেও পরিস্থিতিভেদে মানুষ সেটাকে দায়িত্বশীল বা সুন্দর সিদ্ধান্ত মনে নাও করতে পারে।
আরেকটা বিষয় হলো, কোনো আলেম হলে মানুষের কাছে তার আচরণের প্রভাব বেশি পড়ে। তাই তার সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষ সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকেও আলোচনা করবে—এটা স্বাভাবিক।
তবে এটাও সত্য যে, যদি প্রথম স্ত্রী গভীর কষ্টে থাকেন, অবহেলিত বোধ করেন বা বাস্তবে তার হক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে “আমি সমতা রাখছি” বলা সহজ হলেও বাস্তবে সেটা হচ্ছে কি না—এটা বড় প্রশ্ন।
শেষ কথা হলো:
কাউকে শুধু দ্বিতীয় বিয়ের কারণে গুনাহগার বলা ঠিক না, আবার “জিনা থেকে বাঁচার জন্য করেছি” বললেই সব প্রশ্ন শেষ হয়ে যায় না। ইসলামে আসল গুরুত্ব হলো নিয়ত, ইনসাফ ও দায়িত্ব পালনের ওপর।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


