সালেহীকে বাঁচাবার একটা ধারাবাহিক ক্যাঁচালের তৃতীয় পর্বটি লিখেছিলাম ফেব্রুয়ারীর 24 তারিখে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুতত্ব বিভাগের শিক্ষক ড: এস এ তাহের হত্যার অন্যতম আসামী ছাএশিবির নেতা সালেহী এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি এখনও জামাত-শিবিরের ইসলামী ঝান্ডার ছায়ায় বহাল তবিয়তে আছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা, ক্রোকী পরোয়ানা ও হুলিয়া এখনও জারি রয়েছে। জামাত-শিবিরের ঘাতক-দালালদের রক্ষা করার দ্বীনি দায়িত্ব ও জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য আপনারা যোগ দিন সালেহীকে বাঁচাতে। জামাতীদের ইসলাম রক্ষায় এই ঈমানী দায়িত্ব আপনারা সবাই পালন করুন। সমকাল মে মাসের 30 তারিখে লেখে, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির সভাপতি মাহবুব আলম সালেহীকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছেন অধ্যাপক ড. তাহের হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আচানুল কবির। সোমবার ডিবির দারোগা আচানুল কবির এই চিঠি পাঠান। চিঠিতে সালেহীকে খুনের আসামী হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, পুলিশি তদন্তে ড. তাহের হত্যার সঙ্গে সালেহীর জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আগে সালেহীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া সম্পর্কে অজুহাত দেখিয়েছিল যে, তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিস্ট অভিযোগ নেই। ঠিক তখনই পুলিশের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে এই চিঠি দেওয়া হলো। এদিকে পুলিশের এই চিঠির অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ সোমবার সালেহীর মাস্টার্স পরীক্ষার ফরম পূরণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদ অবশ্য বলেন, সোমবার একাডেমিক কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি। বৈঠক হবে আগামীকাল। সেখানেই সালেহীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তনেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্র্রার দফতরের একটি সূত্র জানায়, সোমবার সকালে নগর ডিবির দারোগা ও ড. তাহের হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আচানুল কবির স্বাক্ষরিত চিঠিটি ওই দফতরে পেঁৗছে। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় উপাচার্য, সংশ্লিস্ট বিভাগের সভাপতি ও মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে। চিঠির বিষয় কার্যবিধির 42 ধারা অনুযায়ী আসামি গ্রেফতারে সহায়তা করা। চিঠিতে লেখা রয়েছে, 'এ বছরের 3 ফেব্রুয়ারি মতিহার থানায় দ বিধির 302, 201 ও 34 ধারায় দায়ের করা মামলা নম্বর 2-এর পলাতক আসামি কুঁড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ছেলে রাবি ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র মাহবুবুল আলম ওরফে সালেহী ওরফে সালেহীন ওরফে নূহুর বিরুদ্ধে একই বিভাগের প্রফেসর ড. এস তাহের আহমেদ হত্যার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, ক্রোকি পরোয়ানা ও হুলিয়া জারি করেছেন।' তবে পুলিশের পৃথক একটি সূত্র জানায়, সালেহীর পরীক্ষার ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছিল, পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত তথ্য দেয়নি। এ কারণে পুলিশ স্পস্ট তথ্য লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছে। এছাড়া ফরম পূরণ করলে সালেহী মাস্টার্স পরীক্ষা দিতে আসতে পারে। আগেভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিষয়টি জানিয়ে রাখা হলো..."।(আম্মাআআ)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০০৬ দুপুর ১২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



