somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছুটির দিনের কড়চা: শিক্ষকতা

০২ রা জুন, ২০০৬ রাত ১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবাইকে স্বাগত ছুটির দিনের নিয়মিত কড়চায়। আজকের বিষয় শিক্ষকতা। শিক্ষকতার ব্যাপারে আমার এক ধরণের বিশেষ দূর্বলতা আছে। একসময় স্বপ্ন দেখতাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করব। পড়ব, লিখব আর পড়াব। হয়তোবা শিক্ষকতার প্রতি দূর্বলতা এসেছিল নিজের জীবণে শিক্ষকদের চমৎকার সাহচর্যের কারণে। আমার নিজের পরিবারেও মাথা গুণে শিক্ষকদের সংখ্যাটা একটু বেশী বলে পেশা হিসেবে শিক্ষকতা একটু বেশী রোমাঞ্চকর ও সম্মানজনক মনে হতো। সে যাক। জীবণে টুকটাক্ শিক্ষকতা করলেও শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য কখনও চেস্টা তদবিরও করিনি এবং সে ব্যাপারে বিন্দুমাএ দু:খও নেই। কারণ, আঙ্গুল ফল অনেকের জন্যই খুব টক। সে কথা অন্য কোন সময়।

তার চেয়ে চলুন আমার প্রথম শিক্ষকতার গল্প বলি। ছোটবেলায় গরমের ছুটিতে আমরা সবাই গ্রামের বাড়ীতে বেড়াতে যেতাম। এই গরমের ছুটির জন্য সারা বছর ধরে অপেক্ষায় থাকতাম। মিস্টি আম, নানান ধরণের নাস্তা আর খাবার, পুকুরে সারাক্ষণ ডুবাডুবি, সকল নিয়মের বাইরে ছুটাছুটি- খুব উপভোগ করতাম। সন্ধ্যার পর গ্রামের বাড়ীতে হারিকেনের আলোয় উচ্চস্বরে লেখাপড়ার সংগীত ভালই লাগত। ঘটনাটা ঘটে যখন আমি ক্লাশ সেভেনে পড়ি। সেবারও আমরা গরমের ছুটি কাটানোর জন্য সবাই গ্রামের বাড়ীতে। শহরের ছেলে গ্রামে গেলে খুব দাম দেয়। এখন আর দেয় না, বরং দৌড়ায়...। তাই, সন্ধ্যার সময় চাচী বললো, আমার চাচাতো বোনকে পড়াতে। বললাম, "উঠানে গিয়ে পাটি বিছাও। ইংরেজী বই নিয়ে যাও। তোমাদের আমি ইংরেজী পড়াব"। ছোট বোনের সই (পাশের বাড়ীর) মেয়েটিও বই হাতে নিয়ে পাটিতে বসে পড়ছে। সম্ভবত: এরা দু'জনই ক্লাশ ফোরে পড়ে। পাটিতে বসে এরা পড়ছে আর আমি তদারকী করছি। হাতে বাঁশের বেত। হাতে বেত না থাকলে শিক্ষক হিসেবে মানায় না। তাই, বেশ খেটেখুটে পড়ানোর চেস্টা করছি। কুপির অনুজ্জল আলোতে এরা পড়ছে। কি ভেবে আমি কুপির কালো ধোঁয়ার উপর বেতটা ধরে রেখে কখন যে কালো করে ফেলেছি তা নিজেও জানি না। এতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা হলো তার মিনিট কয়েক পরে। কারণ, চাচাতো বোনের বান্ধবীটি বেশ অমনোযোগী। ঠিক মতো পড়া পাঠে গা লাগাচ্ছে না। এ পর্যায়ে আমি একটু বিরক্ত। ছাএ-ছাএীরা অমনোযোগী হলে শিক্ষকদের ইগোতে খুব লাগে। ভূক্তভোগীরা তা খুব ভালভাবেই জানেন।

তাই আমি অমনোযোগী ছাএীটির মুখে বেত দিয়ে গুতা দিয়ে বললাম, "এই তুই ঠিকমতো পড়িস্ না কেন"? মেয়েটির ফর্সা মুখে কুপির আলোতে কালো হওয়া বেতের খোঁচায় কালো দাগ পড়ে গেল। শুরু হয়ে গেল তাৎক্ষণিকভাবে ফুঁপিয়ে কান্না। এ দেখি মহা মুসীবত। বাপে যদি এই সময় উঠানে এসে ঘটনা দেখে তাহলে শরীরের হাড্ডি একটাও আস্ত থাকবে না। আর ব্যাপারটা বেশী গড়ালে তো গ্রাম্য সালিশীও বসতে পারে। এধরণের চিন্তায় ক্লাশ সেভেনে পড়া বুকটা হিম হয়ে গেল। কিন্তু যাই বলি এই মেয়ের কান্না তো আর থামে না। একবার ভাবলাম, দৌড় দিয়ে পালাই। কাচারী ঘরের দিকে চলে যাই। ঠিক এমনি সময় কোলাহল আঁচ করে আমার বড়ো বোন হাজির। ঘটনার বিবরণ শুনে মহা ক্ষ্যাপা। সে ওড়না দিয়ে মেয়েটির মুখের কালো দাগ মুছতে ব্যস্ত। আর আমাকে ভীষণ বকা। শিক্ষক হিসেবে নিজের ইগোতে খুব লাগল।

রাতের বেলা খাওয়ার সময় ব্যস্ত চাচী শুধু জিগ্যেস করল, "ওরা পড়েছে"? উওরে বললাম, "পড়েছে মানে, পুরো বই শেষ করে দিয়েছি। আর ওদেরকে আমার কাছে পড়তে আসতে হবে না"। সামনে বসা চাচাতো বোন শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি দিল আমার কথায়। চাচী খুশীতে গদগদ হয়ে মুরগীর আরেকটি ঠ্যাং আমার পাতে তুলে দিল। আমি একান্ত নীরবে কথা না বাড়িয়ে খেতে থাকলাম...(ক্লোজআপহাসি)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০০৬ দুপুর ১২:৩৬
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনফিং - দরিদ্রদের একজন ত্রানকর্তা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৭

.



শি জিনফিংয়ের নেতৃত্বে চীন ২০২০ সালের শেষ নাগাদ তাদের দেশ থেকে চরম দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল করার ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জন করে, যা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই মহাপরিকল্পনার আওতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসা নবী এবং ফেরাউন

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭২০১৪

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৫৮

"ভাই, এইখানেই নামবেন?"

হেল্পার ছেলেটা দরজার হাতল ধরে আমার দিকে ঠিক এমনভাবে তাকালো, যেন আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছি। বাসের ভেতরের হলদে আলোয় ওর মুখটা কেমন বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯



বিএনপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশে প্রতারকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রতারক সব আমলেই ছিলো। কিন্তু বিএনপির আমলে যেন প্রতারকের উৎসব শুরু হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে মারামারি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×