somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছুটির দিনের কড়চা: ক্রোধ সম্বরণ

২৩ শে জুন, ২০০৬ রাত ১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবাইকে আবারও স্বাগত ছুটির দিনের নিয়মিত কড়চায়। চলুন আজকে কথা বলি ক্রোধ সম্বরণ নিয়ে। ক্রোধের মুখোমুখি আমরা অহরহ হই। জীবনে রাগেনি আর রাগে না এমন মানুষ নেই। কম-বেশী রাগ নিয়েই আমরা। সেজন্যেই আমরা অতি মানব নই। রাগলে যে মানুষ জ্ঞানশূণ্য হয়ে যায় সেটা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না। অস্বাভাবিক যখন রাগ বা ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা নিয়মিতভাবে ব্যর্থ হয়ে পড়ি। যারা "এংগার ম্যানেজমেন্ট" মুভিটা দেখেছেন তারা হয়তো জটিল হাস্যরসের মধ্যে পশ্চিমা দুনিয়ায় ক্রোধ সম্বরণের উপায়-উপকরণগুলো কিছুটা আঁচ করতে পারবেন। ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের জন্য সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেনিং দেওয়া হয়। দেওয়া হয় থেরাপী। কিন্তু তাই বলে আমরা বাঙ্গালীরা রাগলে কি করি? উদাহরণের কি দরকার আছে?

বহুব্রীহি নাটকের সিরিজে হুমায়ন আহমেদ অভিনেতা আবুল হায়াতকে দিয়ে প্ল্ল্লেট ভাঙ্গার যে জনপ্রিয় দেশজ রেওয়াজ দেখিয়েছিলেন তারপর থেকে মুন্নু সিরামিকের বেচাকেনা আর ওয়াসার পানির বিল কতোটা বেড়েছিল তার কোন পরিসংখ্যান কেউ দিতে পারবে কি না জানি না। কিন্তু আমাদের দেশে রান্না ঘরে সকাল-বিকেলে হাঁড়ি পাতিলের আর বাসন কোসনের আওয়াজ প্রচন্ডভাবে বাড়লে তার শানে নুযুল নিয়ে খুব একটা ভাবতে হয় না। বাসার একমাএ ছেলে বা মেয়ে সচরাচর যে একটু রগচটা হয় তা নিয়েও মুরুব্বীদের মধ্যে কোন তর্ক নেই। অনেক সময় রাগের ব্যাপারে বয়সটা একটা স্বতসিদ্ধ চলক। যার জন্য অনেকের আর বয়সই বাড়ে না। খালি বলতে থাকে, "বাবা(মা) মেয়েটা(ছেলেটা) একটু রাগী, একটু ধৈর্য ধরো"। মাথায় আদর বুলিয়ে এই বাণীতে ছেলেটি বা মেয়েটি ধৈর্যের পাহাড় তৈরীতে জীবন-পণ করে সংগ্রাম শুরু করে। ক্রোধ সম্বরণে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক থেরাপী না থাকলেও নন-ফরমাল এই আদর মাখানো বুলিতে মানিয়ে নেওয়ার চেস্টা অনেকের কাছে ভোরহীন রাতের মতো মনে হতে পারে।

ক্রোধ বিষয়ক আরও লেখা চাইলে হাত তুলতে পারেন। রেগে গেলে আপনি কি করবেন? উওরগুলো খুবই সাবজেক্টিভ। বাদানুবাদ করবেন। অথবা শেখ সাদীর ভাষায়, "মুখে না পারলে হাতে.."। মন খারাপ করে বসে থাকবেন? অনেক কাঁদবেন? অথবা বলবেন, "আরেকবার সাধিলে খাইব"। ভাংচুর করবেন? অথবা খরগোশের মতো অপলক নেএে তাকিয়ে থাকবেন? উদাস হয়ে যাবেন? অথবা গায়ে পড়ে লজ্জার মাথা খেয়ে খুনসুটি করেই যাবেন? কতোটা ছাড় দিবেন? কোথায় ছাড় দিবেন? একবার ভেবে দেখবেন, কেন রাগ করছেন? ভুলে যাওয়ার জন্য অন্যকিছু করবেন? ছোটবেলায় আমি রাগলে আমার বাবা অবশ্য গল্পের বই নিয়ে বসতেন। ধন্যবাদ বাবা। বড়ো হয়ে এখনকার আমি রাগলে বই পড়ি না, তবে খুব গান শুনি। অন্য কোন ভাবনায় নিজের মনকে বিচরণ করতে দেই। রাগের ব্যাপারে আমার থিওরী হচ্ছে কাওকে রাগিয়ে দেওয়ার চেয়ে রাগ ভাঙ্গানোর চেস্টাটা অনেক বেশী চমকপ্রদ, রোমান্টিকও বলতে পারেন। অন্তত: অনুতপ্ত কন্ঠে "সরি" বলতে ক্ষতি কি ?

"দু:খ যদি না পাবে তো দু:খ তোমার ঘুচবে কবে?
বিষকে বিষের দাহ দিয়ে দহন করে মারতে হবে
জ্বলতে দে তোর আগুনটারে, ভয় কিছু না করিস তারে,
ছাই হয়ে সে নিভবে যখন জ্বলবে না আর কভু তবে
এড়িয়ে তাঁরে পালাস না রে, ধরা দিতে হোস না কাতর।
দীর্ঘ পথে ছুটে ছুটে দীর্ঘ করিস দু:খটা তোর।
মরতে মরতে মরণটারে শেষ ক'রে দে একেবারে,
তার পরে সেই জীবন এসে আপন আসন আপনি লবে"

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×