বহুব্রীহি নাটকের সিরিজে হুমায়ন আহমেদ অভিনেতা আবুল হায়াতকে দিয়ে প্ল্ল্লেট ভাঙ্গার যে জনপ্রিয় দেশজ রেওয়াজ দেখিয়েছিলেন তারপর থেকে মুন্নু সিরামিকের বেচাকেনা আর ওয়াসার পানির বিল কতোটা বেড়েছিল তার কোন পরিসংখ্যান কেউ দিতে পারবে কি না জানি না। কিন্তু আমাদের দেশে রান্না ঘরে সকাল-বিকেলে হাঁড়ি পাতিলের আর বাসন কোসনের আওয়াজ প্রচন্ডভাবে বাড়লে তার শানে নুযুল নিয়ে খুব একটা ভাবতে হয় না। বাসার একমাএ ছেলে বা মেয়ে সচরাচর যে একটু রগচটা হয় তা নিয়েও মুরুব্বীদের মধ্যে কোন তর্ক নেই। অনেক সময় রাগের ব্যাপারে বয়সটা একটা স্বতসিদ্ধ চলক। যার জন্য অনেকের আর বয়সই বাড়ে না। খালি বলতে থাকে, "বাবা(মা) মেয়েটা(ছেলেটা) একটু রাগী, একটু ধৈর্য ধরো"। মাথায় আদর বুলিয়ে এই বাণীতে ছেলেটি বা মেয়েটি ধৈর্যের পাহাড় তৈরীতে জীবন-পণ করে সংগ্রাম শুরু করে। ক্রোধ সম্বরণে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক থেরাপী না থাকলেও নন-ফরমাল এই আদর মাখানো বুলিতে মানিয়ে নেওয়ার চেস্টা অনেকের কাছে ভোরহীন রাতের মতো মনে হতে পারে।
ক্রোধ বিষয়ক আরও লেখা চাইলে হাত তুলতে পারেন। রেগে গেলে আপনি কি করবেন? উওরগুলো খুবই সাবজেক্টিভ। বাদানুবাদ করবেন। অথবা শেখ সাদীর ভাষায়, "মুখে না পারলে হাতে.."। মন খারাপ করে বসে থাকবেন? অনেক কাঁদবেন? অথবা বলবেন, "আরেকবার সাধিলে খাইব"। ভাংচুর করবেন? অথবা খরগোশের মতো অপলক নেএে তাকিয়ে থাকবেন? উদাস হয়ে যাবেন? অথবা গায়ে পড়ে লজ্জার মাথা খেয়ে খুনসুটি করেই যাবেন? কতোটা ছাড় দিবেন? কোথায় ছাড় দিবেন? একবার ভেবে দেখবেন, কেন রাগ করছেন? ভুলে যাওয়ার জন্য অন্যকিছু করবেন? ছোটবেলায় আমি রাগলে আমার বাবা অবশ্য গল্পের বই নিয়ে বসতেন। ধন্যবাদ বাবা। বড়ো হয়ে এখনকার আমি রাগলে বই পড়ি না, তবে খুব গান শুনি। অন্য কোন ভাবনায় নিজের মনকে বিচরণ করতে দেই। রাগের ব্যাপারে আমার থিওরী হচ্ছে কাওকে রাগিয়ে দেওয়ার চেয়ে রাগ ভাঙ্গানোর চেস্টাটা অনেক বেশী চমকপ্রদ, রোমান্টিকও বলতে পারেন। অন্তত: অনুতপ্ত কন্ঠে "সরি" বলতে ক্ষতি কি
?
"দু:খ যদি না পাবে তো দু:খ তোমার ঘুচবে কবে?
বিষকে বিষের দাহ দিয়ে দহন করে মারতে হবে
জ্বলতে দে তোর আগুনটারে, ভয় কিছু না করিস তারে,
ছাই হয়ে সে নিভবে যখন জ্বলবে না আর কভু তবে
এড়িয়ে তাঁরে পালাস না রে, ধরা দিতে হোস না কাতর।
দীর্ঘ পথে ছুটে ছুটে দীর্ঘ করিস দু:খটা তোর।
মরতে মরতে মরণটারে শেষ ক'রে দে একেবারে,
তার পরে সেই জীবন এসে আপন আসন আপনি লবে"
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




