দেশে রক্ত ঝড়া শুরু হয়েছে। জুলাইয়ের দুই তারিখে বিরোধী দলের ঢাকা অবরোধ প্রতিরোধে পুলিশ ও বিরোধী দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, গুলি আর ইট বর্ষণের ঘটনায় আবারও রক্তাত্ব হয়ে উঠেছে শহরের জনপদগুলো। বিরোধী দলের কর্মী মিলন আর পুলিশ কর্মী বাশার প্রাণ হারিয়েছেন খুবই মর্মান্তিকভাবে। এদেশের রাজনীতিতে আবার রক্ত না ঝড়লে আন্দোলন কখনো গতি পায় না, হয় না অর্থবহ। তাই রক্তের দাগ মুছতে না মুছতে আবারও জনপথ হয় রক্তাত্ব। রক্তের মাঝে গণতন্ত্রের স্বপ্ন হোঁচট খায়, বারবার প্রতারিত হয় এক স্বার্থপর পাশবিক হিংস্রতার কাছে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশটা হচ্ছে এক নির্বাক মেষশাবক যার একচ্ছএ স্বত্বাধিকারের জন্য চলছে নিরন্তর বিবাদ-বিসম্বাদ। এই বিবাদের কোন অবসান যেন নেই। এক ধরণের দু:স্বপ্নের মাঝে আমাদের নিরন্তর পদচারণা।
তাই হূদয়ে আবার রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায় যখন নুর হোসেন গণতন্ত্রের জন্য শেষ উৎসগর্ীত প্রাণ হয় না। তার সাথে যোগ দেয় নতুন নতুন নাম, যোগ হয় আরও নতুন জিরো পয়েন্ট যেখান থেকে গণতন্ত্রের দলীয় পদচারণা শুরু হবে। যারা আপন জন হারায় আর তারাই শুধু জানে আপন জন হারানোর বেদনার পরিধি কতোটা দু:খজনকভাবে সুগভীর। রাজনৈতিক সমীকরণে ক্ষমতাসীন দল যেমন তাদের জামাতী জোটের সাথে বেঈমানী করে বিরোধী দলের সাথে আলোচনায় বসতে পারে না, তেমনি বিরোধী দলও তাদের একগুঁয়েমী বিসর্জন দিয়ে রাজনীতির সাজানো দাবার ছকে গুটি হতে চায় না। দুদিকেই রয়েছে বৃহওর গণতান্ত্রিক স্বার্থ ও দেশপ্রেম। গণতন্ত্রের এক অনবদ্য দেশজ রূপ।
রাজনৈতিক আন্দোলনের এই দড়ি টানাটানি আর মিউজিকাল চেয়ার শো'র মাঝখান থেকে ফায়দা লুটে নেওয়ার জন্য শুরু হয়ে গেছে কালো টাকা সাদা করার হিড়িক। শুরু হয়েছে জনতা টাওয়ার নিয়ে এরশাদের একান্ত আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর সাথে। বিরোধী দলের নির্বাচন কমিশন সংস্কার, ভোটার তালিকা সংশোধন আর নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবী হচ্ছে সাজানো দাবার ছককে পাল্টে দেওয়ার এক রাজনৈতিক অপচেস্টা। কোন জনপ্রিয় ও দেশপ্রেমী সরকারী দল তা মেনে নিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে পারে না। স্বচ্ছতার প্রয়োজন শুধু পরাজিতদের জন্য। অন্যদের জন্য তা উটকো ঝামেলা। বাড়তি দায়। পুরনো নাটক নতুন করে মঞ্চস্থ হয়। যার মাঝে রক্তক্ষরণের চিএে আমরা সত্যি নির্বিকার আর অসহায় দর্শক। অদ্ভুত এক এপ্যাথীর নীরব বিস্তার। দেশ যেন নিরীহ মেষশাবকের মতো নেকড়েদের পিঠে করে অতিক্রম করছে দু:স্বপ্নের রাত। এদেশে দু:স্বপ্নের রাতের শেষ নেই। এই পৌনপুনিক হিসেবের শেষ কোথায়?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




