অবশেষে সালেহীকে বাঁচাল হাইকোর্ট। সমপ্রতি তাকে তিন মাসের আগাম জামিন দিয়েছে যাতে এই নিরীহ সালেহী মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। একেই বলে অন্ধ আইনের মারপ্যাঁচ। অংকের এই একই ফমর্ুলায় হয়তো শায়খ আর বাংলা ভাইও হয়তো আগাম জামিন পেয়ে সালেহীর সাথে যোগ দিবে একদিন। সালেহী আবার ক্যাম্পাসে ফিরে এসে মিছিল করবে, অনেকের অহংকারে পা পড়বে না। কারণ, পুলিশী তদন্তে ত্রুটি-বিচু্যতি অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সমপৃক্ত না থাকায় বেচারী সালেহীকে আর ভুগতে হলো না। এভাবেই হত্যাকারীরা আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হয়ে আসে, তারপর নিরীহ-নিরপরাধ মানুষের মুখোশ পড়ে বিচরণ করে এই সমাজে। নোংরা করে দেশের মাটি।
সমকাল জুলাই মাসের 4 তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়, "হাইকোর্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তাহের হত্যা মামলার আসামি ও ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা মোঃ মাহবুবুল আলম সালেহীর তিন মাসের আগাম অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন। এদিকে জামিন নিয়ে সালেহী ফিরছে_ এ ধরনের খবরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিচারপতি আলী আসগর খান ও বিচারপতি মোঃ ইমদাদুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার শুনানি শেষে এ জামিন মঞ্জুর করেন। সালেহী হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন জানালে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। হাইকোর্টে দাখিল করা সালেহীর জামিন আবেদনে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. তাহের হত্যা মামলার এফআইআরে সালেহীর নাম নেই। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত কয়েকজন আসামি আদালতে 164 ধারায় জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের সঙ্গে সালেহীর জড়িত থাকার কথা প্রকাশ করেছে বলে পুলিশ দাবি করছে। কিন্তু এ মামলায় এখনো কোনো চার্জশিট দাখিল করা হয়নি। সুতরাং 164 ধারায় দেওয়া জবানবন্দির সূত্র ধরে সালেহীকে হয়রানি করার কোনো সুযোগ নেই। আদালতে আরো বলা হয়, আগামী 15 জুলাই থেকে ভূতত্ত্ব ও খনিজ বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা শুরু হবে। এ বিভাগের ছাত্র সালেহী পুলিশি হয়রানির কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। আদালত শুনানি শেষে 3 মাসের জন্য অথবা মামলায় পুলিশ রিপোর্ট দাখিল না করা পর্যন্ত সালেহীর আগাম অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এস তাহের আহমেদকে চলতি বছরের 1 ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসীরা হত্যা করে লাশ গুম করতে ম্যানহোলে ফেলে দেয়। দু'দিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকান্ডে সারাদেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এ ঘটনার পরপরই হত্যাকান্ডের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ মাহবুবুল আলম সালেহীর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। 3 ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও তাতে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি জাহাঙ্গীর, নাজমুল ও সালাম আদালতে 164 ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা এ হত্যাকান্ডে সালেহীর সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে। এরপরও পুলিশ সালেহীকে গ্রেফতার করেনি। গতকাল আদালতে সালেহীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান।
রাজশাহী বু্যরো/রাবি প্রতিনিধি জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাহের হত্যা মামলার আসামি শিবির সভাপতি মাহবুব সালেহী হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসছে। দু'একদিনের মধ্যেই সে ক্যাম্পাসে আসবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে গতকাল হাইকোর্টে তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর হলেও মাস্টার্স পরীক্ষার ফরম পূরণের বৈধতা নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনীয়সংখ্যক হাজিরা না থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অমান্য করে ফরম পূরণের অনুমতি দেওয়ায় এ প্রশ্নের সৃস্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে এ নিয়ম থাকলেও শিবির সভাপতি সালেহীর ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। মাস্টার্সের একটিমাত্র ক্লাসে উপস্থিত ছিল মাহবুব সালেহী। কিন্তু এ বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে বিভাগীয় সভাপতি সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, উপাচার্য যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবেই সালেহীকে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উলেল্গখ্য, 17 জুলাই থেকে সালেহীর মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু হচ্ছে..."।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




