সদ্য প্রকাশিত টিআইবি'র দূর্নীতির রিপোর্ট নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্ল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভুঁইয়া। রিপোর্টটি এবার এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে দূনর্ীতির শীর্ষে বলে আখ্যায়িত করেছে। মন্ত্রী রিপোর্টটিকে মিথ্যা, ভিওিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি রিপোর্টটিকে সংশোধন করে পুনর্প্রকাশিত না করলে মামলার হুমকিও দেন। মান্নান ভূঁইয়ার কস্ট পাওয়া খুবই যুক্তিযুক্ত। দেশে দূনর্ীতি আছে কি-না তা দেখতে হয় পএিকার পাতায়। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তির কথা কতোটা পএিকায় জায়গা করে নিতে পারে? তাই মূল সমস্যা দূনর্ীতি নয়, বরং টিআইবি। তারা হয়ে দাঁড়িয়েছে আরেকটি বিষফোঁড়া। মান্নান ভুঁইয়র প্রেসক্রিপশন: মামলা করে টিআইবির কন্ঠরোধ করা দরকার। দেশের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে দাতা সংস্থাগুলো যে অর্থ ফেরত নিয়েছে দূনর্ীতির কারণে তাও কি অসত্য? প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবাদিহিতা যখন নেই, তখন সমস্যা হয় টিআইবি'র রিপোট আর পএিকার রিপোর্ট (ডেইলী স্টার, জুলাই 11, 2006)।
মন্ত্রী মান্নান ভুঁইয়াকে সাধুবাদ জানাই, কারণ তিনি ট্রান্সপারেন্সী খুঁজছেন সর্বএ এমনকি টিআইবিতেও। তিনি টিআইবি'র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে দূনর্ীতির সাথে জড়িত ব্যক্তি বলে অভিযোগ করেন। তাই টিআইবি'র সর্বশেষ প্রতিবেদনে যে 526 কোটি টাকার মধ্যে 208 কোটি টাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অপব্যবহার করা হয়েছে সেই তথ্যকে সঠিক বলে মেনে নিতে চাননি। অবশ্যই স্বচ্ছতা সর্বএই আসা উচিত। হয়তো স্বচ্ছতা থাকলে দেখা যেতো 526 কোটি টাকার পুরোটাই দূনীতিবাজদের পকেটস্থ হয়েছে। কারণ, পএিকায় তো অনেক কথাই আসে না। প্রকল্পের গাড়ী যে সচিব ব্যবহার করেন তার স্বীকারোক্তি কয়দিন আগেই পএিকায় দেখলাম। এতে লজ্জার কি আছে? দূনর্ীতি, অসততা ও চুরির কোন বিমূর্ত সংজ্ঞা নেই। তাই একসময় দূনর্ীতি বলে যা মনে হতো এখন তা হয়তো অফিস খরচ হিসেবেই মনে করা হয়। রাজনৈতিক নেতারা আর আমলারা তাদের যোগ্যতার কারণেই প্রাপ্য অংশ পান। এতে লজ্জার কি আছে? মান্নান সাহেব যুক্তিযুক্তভাবেই দূর্নীতির এই সংকীর্ণ বিশ্ল্লেষণে ক্ষুদ্ধ। সমাজ বদলে গেছে। তাই উল্টো দম্ভোক্তিতে এখন কোন লজ্জা নেই। চোরের মায়ের গলা সবসময়ই হয়তো উঁচুতেই থাকে...। দুনর্ীতির রিপোট স্বচ্ছ নয় বলে চলুন এবার মামলা করি খবরের কাগজের হকারদের বিরুদ্ধে, গড়ে তুলি দূনর্ীতিমুক্ত বাংলাদেশ। উদযাপন করি বিশ্ব অন্ধত্বদিবস
।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




