দেশের পুলিশ বাহিনীর দৈহিক আকৃতি নিয়ে অভিযোগ আপওি দেখা দিয়েছে পএিকার প্রতিবেদনে। দেশের সাধারণ জনতা অপুস্টিতে ভুগলেও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অনেকের দৈহিক স্ফীতির দৃস্টিকটু বিস্তার নিয়ে যুগান্তরে প্রকাশিত পিনাকি দাসগুপ্ত ও জামিউল আহসান সিপুর প্রতিবেদনটি বেশ তথ্যমূলক ও উপভোগ্য। বাংলা ব্ল্লগে পুলিশ বাহিনী নিয়ে বেশ অনেকগুলো চমৎকার পোস্টিং হয়েছিল এ বছর এপ্রিলের মাঝামাঝি। চট্রগ্রামে স্টেডিয়ামে কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরকে নির্মমভাবে পুলিশী নির্যাতনের প্রতিবাদে অনেক ব্ল্লগাররা "ঠোলা ধিক্কার দিবস" উদযাপন করেন। পুলিশের সাধারণ সদস্যরা মেসের নিম্নমানের খাবার খেয়ে যে অপুস্টিতে ভোগে সেই অমানবিক চিএটি অনেকদিন আগে সতীর্থ এক ব্লগারের লেখায় উঠে এসেছিল (দু:খিত নাম মনে না করতে পারার কারণে)। কিন্তু যেসব পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা সুবিধাজনক পোস্টিংএ রয়েছেন তাদের উপচে পড়া পুস্টি যে তাদের দৈহিকভাবে অনুপযুক্ত করে দিচ্ছে তা খুব চমৎকারভাবে নীচের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। কেমন আছেন পুলিশরা?
দৈনিক যুগান্তরের 13ই জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, "...পুলিশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় তদন্ত হয় না। যেসব মামলা আদালতে দায়ের করা হয়েছে তার কোনটির শেষ পর্যন্ত তদন্ত হয়নি। এসব মামলার খোঁজখবরও সংশিষ্ট কেউ দিতে পারে না। তৎকালীন এরশাদ শাসনামলে লালদীঘি ময়দানে শেখ হাসিনার সমাবেশে গুলি চালিয়ে পাখির মতো 24 জনকে হত্যা ও অর্ধশত লোককে পঙ্গু করে দিয়েছিলেন কমিশনার রকিবুল হুদার পুলিশ বাহিনী। তৎকালীন সিএমপি কমিশনার রকিবুল হুদা, পিআই জেসি মন্ডলসহ 10 পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। 19 বছরেও মামলার বিচার হয়নি।
রংপুর অঞ্চলের বাসিন্দা এক হাবিলদার পুলিশে আছেন 18 বছর ধরে। কনস্টেবল পদে যোগ দিয়েছিলেন। অভাবের সংসার তাই এসএসসি পাস করার পরই এক রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় তিনি পুলিশের চাকরি পান। গত 6 বছর ধরে আছেন রাজধানীতে। আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় বছর আর জোট সরকারের সাড়ে চার বছর বিভিন্ন আন্দোলনের তিনি সাক্ষী। হরতাল-অবরোধের সময় পুলিশের আচরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পিকেটাররা পুলিশকে বাধ্য করে ক্ষিপ্ত হতে। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি অসহনীয় করে তোলে। তাছাড়া মাঠে যারা ডিউটি করে তারা সবাই কনস্টেবল। তাদের বয়স কম। হাতে লাঠি থাকে। তারা শুধু অর্ডার তামিল করে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের আচরণের ব্যাপারে তিনিও কিছুটা ক্ষুণ্ন। মিছিলকারীরা মিছিল করুক, এক সময় মিছিল করে তারা নিজেরাই ক্লান্ত হয়ে যে যার মতো চলে যাবে। কিন্তু ওপরের মহলের নির্দেশ_ মিছিল বের হলেই লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দিতে হবে। বর্তমানে এটা একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। পুলিশের এ হিংস্রতার জন্য নির্দেশদাতারাই দায়ী। তিনি বলেন, বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের স্বজনরা দেখে থাকে রাস্তায় পুলিশি তান্ডবের দৃশ্য। দায়িত্ব শেষে বাসায় ফেরার পর স্বজনদেরও নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। হাবিলদার নিজেও স্বীকার করেছেন, পুলিশ আগের তুলনায় অনেকটা হিংস্র ভূমিকায় রয়েছে।
ধানমন্ডির রাসেল স্কোয়ার, মোহাম্মদপুর ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে 20-25 বার ডিউটি করেছেন এমন একজন মহিলা কনস্টেবলের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয় তেজগাঁও থানা কমপেক্স এলাকায়। কুমিলার মেয়ে। পুলিশের চাকরি 6 বছর। হরতাল-অবরোধের সময় পুলিশের হিংস্রতা সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে। এজন্য দায়ী কিছু কর্মকর্তার অতি উৎসাহ। তবে তিনি মনে করেন, যুব মহিলা লীগের কমর্ীদের আচরণ রীতিমতো কারাতে-কুংফু খেলোয়াড়ের মতো। তারা ইচ্ছা করেই মিছিলে সংঘর্ষ বাধাতে চেষ্টা করে। তারা মহিলা কনস্টেবলের চুল ধরে টানাটানি করে, লাথি ও ঘুষি মারে, ভাংচুর করে গাড়ি। তাদের ঠেকাতে গিয়ে তিনিও কয়েক দফা মার খেয়েছেন, হয়েছেন আহত। তাদের এ ধরনের আচরণের কারণেই পুলিশও মারমুখী হয়ে যায়। তারা অকারণে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ফটোসাংবাদিকদের ছবি তোলার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ মন্তব্য শুধু এই পুলিশ কনস্টেবলেরই নয়, সাধারণ মানুষেরও। শুধু যুব মহিলা আওয়ামী লীগই নয়, অনেক রাজনৈতিক কমর্ী এখনও বেপরোয়া। সম্প্রতি পিকেটারদের হাতে এক পুলিশ কমর্ীর মৃতু্য তার প্রমাণ। ওই কনস্টেবল পুলিশের হিংস্রতা সম্পর্কে বলেন, 'আমরা গরিব পরিবারের সম্মান, ঊধর্্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ আমাদের মানতেই হবে। না হলে চাকরি যাওয়ার ভয় আছে।'
অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি আমলা বলেন, উপমহাদেশে মুক্তির সংগ্রাম নস্যাৎ করতে ব্রিটিশ শাসকরা যেভাবে পুলিশ বাহিনীকে কাজে লাগিয়েছে_ দেড় শতাধিক বছর পরও স্বাধীন বাংলাদেশে সব সরকারই পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি ও প্রতিপক্ষ এবং ভিন্নমতাবলম্বী নেতাকমর্ীদের হয়রানি, হেনস্থা ও নির্যাতন করতেই এই বাহিনী লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহূত হয়ে থাকে।
সবাই পুলিশকে ব্যবহার করছে দলীয় স্বার্থে। যারাই মতায় এসেছে তারাই পুলিশকে নিজেদের মতো কাজে লাগাতেও চেষ্টা করছে। এক সরকার ক্ষমতায় এসে আগের সরকারের অনেক কিছুই পরিবর্তন করে। আগামীতেও এর ব্যতিক্রম হবে না। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় রাজপথে বিরোধী দলের নেতাকমর্ীদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিপে যেন ইদানীং পুলিশের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ বাহিনীকে বর্তমানে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হচ্ছে।
গত 7 জানুয়ারি পুলিশের বার্ষিক অপরাধ সম্মেলনে একাধিক কর্মকর্তা পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন।
পুলিশে চাকরি হওয়ার পর শরীর নিয়ে কেউ ভাবে না। শরীরে মেদ জমে গেলেও সেদিক কোন খেয়াল নেই। ওই শরীর নিয়েই পুলিশ তার ডিউটি পালন করছে। পুলিশ বিভাগে এরকম অনেক সদস্য রয়েছে, যারা তাদের শরীর নিয়ন্ত্রণ করেন না। কারণ পুলিশ বিভাগে চাকরি হওয়ার পর শরীর ঠিক রাখার জন্য কোন নিয়মনীতি নেই। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম বিভাগের একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তার দেহ অত্যন্ত মোটা। মেদ জমে গেছে। তাকে এই শরীর নিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হয়। তার সহকর্মীরা জানান, আসামি ধরার অভিযানের সময় তিনি গাড়িতেই বসে থাকেন। কারণ আসামির পেছনে ওই দেহ নিয়ে দৌড়াতে গেলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। শরীর যে মোটা হয়ে যাচ্ছে সেদিকে তার কোন খেয়াল নেই। তবে ওই কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, সারাদিন ডিউটি শেষে শরীর ঠিক রাখার জন্য ব্যায়াম করার কোন মানসিকতা থাকে না।
সংশিষ্ট সূত্র মতে, পুলিশ বিভাগে ভর্তির সময় শারীরিক পরীা নেয়া হয়। এএসআই ও কনস্টেবল নিয়োগের েেত্র সর্বনিম্ন উচ্চতা 5 ফুট 4 ইঞ্চি, বুকের মাপ স্বাভাবিক 30 ইঞ্চি এবং দেহের ওজন উচ্চতা অনুযায়ী। পুলিশের চাকরিতে যোগদানের পর বুকের মাপ ও শরীরের ওজন অনেক পুলিশ সদস্যের বেড়ে যায়। এতে তাদের ডিউটি পালনে সমস্যা হয়। এএসআই ও কনস্টেবল নিয়োগের পর শারীরিক গঠন নিয়ে কারও কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয় না। যদিও সেনাবাহিনী বা বিডিআর সদস্যদের শারীরিক গঠন নিয়ে জবাবদিহিতা রয়েছে। কারও শরীর যদি মোটা হয়ে যায় তাহলে তাকে তার শরীর নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়। তবে পুলিশের একাধিক এএসআই জানিয়েছেন, দৈনিক 8 ঘণ্টার স্থলে 14-16 ঘণ্টা ডিউটি করার পর শরীরের দিকে নজর দেয়া সম্ভব নয়। ডিউটিতেই দিন চলে যায়। ব্যায়াম করার সময় থাকে না। দায়িত্ব পালনে যে ধরনের পরিশ্রম করতে হয় তাতে শরীর ঠিক রাখার জন্য পরে অতিরিক্ত পরিশ্রম করার আর মানসিকতা থাকে না। পলবী থানার একজন এএসআই জানান,
তার বয়স হয়ে গেছে। চাকরি থেকে অবসরে যেতে আর 2 বছর সময় রয়েছে। কনস্টেবল পদে চাকরিতে ঢুকে এএসআই পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। শরীর মোটা হলেও পুলিশের ডিউটিতে তার কোন সমস্যা হয় না।
সূত্র জানায়, পুলিশ বিভাগে শরীর ঠিক রাখার জন্য চাকরি জীবনে অন্তত একবার রিফ্রেশ ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে হয়। সারদা পুলিশ একাডেমি ছাড়াও সংশিষ্ট রেঞ্জের পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে রিফ্রেশ ট্রেনিং হয়। রিফ্রেশ ট্রেনিংয়ে ইন্সপেক্টরের ক্ষেত্রে 45 এবং সাব-ইন্সপেক্টরের েেত্র 35 দিন ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে হয়। এছাড়া প্রতি মাসে একবার ফায়ারিং প্র্যাকটিসে অংশ নিতে হয়। তবে ফায়ারিং প্র্যাকটিসে শারীরিক কোন ব্যায়াম হয় না। পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কোন রিফ্রেশ ট্রেনিং নেই। চাকরি জীবনে পুলিশের এএসআই বা কনস্টেবলদের রিফ্রেশ ট্রেনিংয়ে অন্তত একবার অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। এরপর চাকরি জীবনে তার শরীর মোটা হলেও তাতে কোন সমস্যা হয় না। তবে প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়, পুলিশ সন্ত্রাসী অথবা আসামিদের গ্রেফতার অভিযানের সময় ধাওয়া দিয়ে ধরতে পারে না। কারণ সংশিষ্ট পুলিশ তার মোটা শরীর সামলাতেই হিমশিম খায়। মিরপুর জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, চাকরি জীবনে একবার রিফ্রেশ ট্রেনিং দিয়ে কোন লাভ হয় না। পুলিশের প্রতি মাসে প্যারেড করার নিয়ম থাকলে ভালো হতো। ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে জিআর সেকশনে এবং কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত অনেক পুলিশ শারীরিক দিক থেকে মোটা আকৃতির। তাদের দেহ এতটাই মোটা যে, পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দৃষ্টিকটু লাগে।
ডিএমপি কমিশনার এসএম মিজানুর রহমান এ ব্যাপারে বলেন, 1861 সালের পুলিশ রেজুলেশন বুকে পুলিশের শারীরিক মাপ কি হবে তার কোন নির্দিষ্ট ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। শরীর মোটা হয়ে গেলেও সংশিষ্ট পুলিশের করণীয় কি হবে সে ব্যাপারেও কোন নির্দেশনা নেই। এমনকি পুলিশের বিভাগীয় কোন নিয়ম না থাকায় মোটা পুলিশের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে পুলিশের একাধিক ঊধর্্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন"।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




