বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় দেশ ছিল সামরিক আইনের জাঁতাকলে। এরশাদের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে চলছিল আন্দোলন। তখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর নিয়ে সংবাদ পএিকায় নিয়মিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তুলে ধরতেন সংবাদের সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দীন। খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তাম তার লেখাগুলো। খুব ভাল লাগত, মনে নাড়া দিত। শহরে জন্ম হওয়া আর বড়ো হওয়া আমরা স্বভাবত:ই খুব বাস্তবতাবিবর্জিত হই। রুটি না পেলে কেক খায় না কেন এধরণের মানসিকতা খুবই দৃশ্যমান ছিল আমাদের অনেকের মাঝে।
গ্রাম আর শহরের ব্যবধান এখন অকল্পনীয়ভাবে কমেছে, অন্তত শহুরে সুবিধাগত দিক থেকে। কখনো গ্রামে গেলে রাতের অন্ধকারকে যেমন খারাপ লাগত, ঠিক তেমনি উঠোনে মাদুর ফেলে শ্লোক আর গল্পের ঝুঁিড় থেকে হাজারও কথামালা আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত। কিন্তু সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দীন আমার ভাবনাকে নিয়ে যান ফেলে আসা গ্রামের দু:খ-দুর্দশার চিএের খুব কাছাকাছি। তার লেখা ছিল খুব সহজ ও বাস্ততাময়। মফস্বল থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাধর সাংবাদিক কখনো তার শেকড়কে ভুলে যাননি। 1995 সালের 29শে ডিসেম্বর 50 বছর বয়সী সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দীন যখন যমুনা ফেরী পার হচ্ছিলেন তখন তিনি নদীতে পড়ে গিয়ে বিয়োগান্তকভাবে এই মায়ার পৃথিবী ত্যাগ করেন।
তার প্রতিবেদনসংগ্রহ নিয়ে প্রকাশিত বই (1991) "পথ থেকে পথে" থেকে নেয়া এই উদ্ধৃতি খুবই প্রাসঙ্গিক মনে হলো আজকের পটভূমিতে, "আর আমি, অসম সমাজের আমি, সম্পদের সুষম বন্টনহীন সমাজের আমি, জ্যান্ত মানুষের দুর্গতি-দুর্ভাগ্য পন্য করে খাই। এবং এই কাজটি করি কৌশলে, সবার চোখের আড়ালে, ফর্সা কাপড়ে দেহ ঢেকে। আমার মেকআপ খুব কড়া। ধরা যায় না"। মোনাজাতউদ্দীন কটাক্ষ করছিলেন তার নিজেকে আর তার মতো সচেতন মানুষদেরকে যারা নির্বিকার আর নিস্পৃহ থাকে সকল অন্যায়, অবিচার আর দুর্দশার প্রত্যক্ষ করে। এধরণের লেখার আজ খুব প্রয়োজন। কেবল পড়ার জন্য নয়, পরিবর্তনের হাতিয়ার নির্মাণের জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




