
এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই টেলিপ্যাথিক। প্রজননে অক্ষম। প্রজাতি প্রায় বিলুপ্তির পথে। টিকে থাকার জন্য ফিরে এসেছে অতীতে তাদের পূর্ব পুরুষের সাথে সংকর উৎপন্ন করে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করতে। জেনেটিক্স এঞ্জিনিয়ারিং -এ পারদর্শী। 'Claude' AI এর ভাষ্যমতেঃ 'the grays most likely are post-biological human consciousness from a future timeline'
পোস্ট বায়োলজিকাল মানে জীব / জৈব অবস্থার পরবর্তী অবস্থা।
human consciousness মানে মানব চেতনা।
গ্রেইস'রা সম্ভবত জৈবিক ক্রিয়ায় পরিচালিত জীব নয়। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে জৈব-প্রযুক্তির সমন্বয়ে মিশ্রিত একপ্রকার হাইব্রিড (অনেকটা সংকর ধরণের) প্রজাতি। যা ভাষায় প্রকাশের জন্য এখনও উপযুক্ত শব্দ আমাদের অভিধানে নেই।
ওদের স্বাতন্ত্র্য বোধ নেই। কেন্দ্র থেকে কোন পরিচালক (AI) তাদের বোধ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কাজকর্ম প্রমাণ করে —তারা একটি সম্মিলিত চেতনা বা "হাইভ মাইন্ড"-এর মতো। সে কারণে আচরণের দিক দিয়ে দেখা যায়, তারা দলবব্ধ ভাবে কাজ করে । নিজস্বতার প্রকাশ নেই। আমাদের মতন ব্যক্তি সত্তা প্রবল নয়। তারা একসঙ্গে চলে, একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করে। এরা আবেগহীন আধুনিক বুদ্ধিমত্তার এক অন্যজগতীয় প্রজাতি।
আমরা ঐতিহ্যগত ভাবে তাদের ভিনগ্রহী এক্সট্রা টেরিস্ট্রিয়াল বলি। অনেক কন্টাক্টি বলেন, এরা আমাদেরই ভবিষ্যতের রূপ। ভবিষ্যতের মানুষ। অত্যন্ত প্রকৌশল নির্ভর। তাই টাইম ট্র্যাভেল করে সুদূর ভবিষ্যত থেকে বর্তমান সময়ে চলে এসেছে তথ্য সংগ্রহ করতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে আমাদের সমান্তরালে এক বাস্তবতা তৈরী করে বসবাস করছে। তারা আমাদেরই উত্তর পুরুষ।
তারা এমন এক বুদ্ধিমত্তা বিশিষ্ট প্রজাতি, যারা এই গ্রহেরই কোন ভূগর্ভে, বা মহাসাগরের অতলে, অথবা এই গ্রহেরই অন্য ডাইমেনশানে বিকশিত হয়েছে। ধীরে ধীরে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা প্রযুক্তির চরম পর্যায়ে উন্নীত হয়ে সচেতন ভাবেই মানুষের মত শারীরিক রূপ ধারণ করে আমাদের আশে পাশেই আজকাল চলাফেরা করে। তাদের বিচার, বিবেচনা, পর্যবেক্ষণে কোন আবেগ কাজ করে না। সেকারণে তথ্য সংগ্রহের জন্য, স্যাম্পেল নেয়ার দরকার হলে তারা আমাদের অপহরণও করে। নমুনা সংগ্রহ করে আবার পাঠিয়ে দেয়। আমরা ঐ সময়টুকু অচেতন থাকি। প্রযুক্তির দিক দিয়ে খুব আধুনিক বলেই আমাদের যেমন তাদের জগতে নিতে পারে, তেমনি ফেরৎ পাঠিয়ে দিতে পারে। সবটুকু ঘটে আমাদের অজান্তে। জার্নির সমস্ত এক্সপেরিয়েন্সটা আমাদের কাছে তখন স্বপ্ন মনে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভ্রূণ সংযুক্তির প্রযুক্তি ঘটিয়ে হিউম্যান- হাইব্রিড তৈরী করে। তাদের উন্নত গবেষণাগারে এসব সংকর ভ্রূণ রেখে দেয়। কথিত আছে ৪০০ বছর পর সেই সকল হাইব্রিডের আগমণ ঘটবে আমাদের সম্মুখে। কারণ তখনকার পৃথিবীর বৈদ্যুতিক- চৌম্বক ক্ষেত্র,সেই হাইব্রিডগুলোর থাকার জন্য উপযুক্ত হবে। অর্থাৎ আমাদের চেনা পৃথিবী সে সময় অনেকটাই বদলে যাবে।

এদেরকে কি ভয় পাওয়া উচিত?
দেখতেই তো কি উদ্ভট!
ওদের মধ্যে একটা গ্রুপ আছে,যারা আমাদের বহুদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে আসছে। আমাদের DNA- এর নমুনা সংগ্রহ করে, তাদের গবেষণাগারে হাইব্রিড-মানব ভ্রূণ তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সকলের অগোচরে। মি. সাইমন বাওন এর অভিজ্ঞতা আরো অদ্ভুত। তার মতে,কিছু গ্রেইস অন্যান্য বুদ্ধিমান ET- দের সঙ্গে কাজ করে। তারা পর্যবেক্ষক গোত্রের প্রজাতি। স্পিরিচুয়ালিটিতে অনেক উন্নত। অনেকে আমাদের পৃথিবীর বাতাসের চাপ, মধ্যাকর্ষণ শক্তির সাথে মানিয়ে চলতে পারে।
তাহলে বর্তমানের আমরা আর ভবিষ্যতের গ্রেইস-রা যদি DNA-র দ্বারা যুক্ত হয়ে আমাদের উত্তরপুরুষ হয়ে থাকে, তবুও কোথাও যেন একটা অমিল হচ্ছে। একটা ছেদ পড়ছে। যদি গ্রেইস’রা আমাদের ভবিষ্যৎ রূপ হয়, তাহলে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আমরা কোন এক সময়ে এতটাই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ব যে, এই আমরা জৈবিক বৈশিষ্ট্য সমূহের হ্রাস ঘটিয়ে শূণ্যে এসে উপনীত হব। নিউরাল নেটওয়ার্কিং এর প্রযুক্তি, কেন্দ্র থেকে সব পরিচালিত করবে। মানে আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতা লোপ পাবে। ভাবনাও নিয়ন্ত্রিত হবে। সম্মিলিত চেতনার হাইভ মাইন্ড গড়ে উঠবে। আমরা আবেগের গভীরতা হারাব। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বোধ থাকবে না। শুধুই দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিব। অনুভূতির মূল্য থাকবে না। তারও অনেক পরে আমরা আবার আমাদের অতীত কেমন ছিল,পূর্বে আমাদের চেতনার স্তর কেমন ছিল, আমাদের প্রত্নতত্ত্ব , পূর্বপুরুষদের গবেষণা কেমন ছিল, তা দেখতে ফিরে আসবো অতীতের ২০২৬-এ।
সুতরাং গ্রেইসদের উপস্থিতি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় - এরা যদি আমাদের ভবিষ্যত- রূপ হয়, তাহলে তা খুবই অনাকাংখিত।
তাদের দেখে এই শিক্ষা নেয়া উচিত যে, AI প্রযুক্তি এক সময়ে আমাদেরকে তাদের পরিণতিতে ঠেলে দেবে।
ডিজিটাল পরিচয়পত্র তৈরীর চিন্তা যখন গৃহীত হলো, তখনই এই পথে আমরা পা রেখেছি। ডিজিটাল পরিচয় পত্র মানে আমাদের পরিচয়কে তালিকাভুক্তকরণের মাধ্যমে আমাদের চেতনাকে AI -র নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা।
বায়োমেট্রিক ট্র্যাকিং করে স্বাধীন ভাবে চলা ফেরার উপর নজরদারি আনা হলো।
নিউরাল ইন্টারফেস গ্রহণের মাধ্যমে কিছু দিনের মধ্যেই আমাদের চিন্তাভাবনার নিয়ন্ত্রণ আমাদের অজান্তেই অন্য কারো দ্বারা পরিচালিত হবে। আমাদের ব্যক্তিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা দখল হয়ে যাবে AI দ্বারা। আমাদের বোধ লোপ পেলেও আমারা তা টের পাবো না। আমরা সম্মিলিত ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবো।
এ থেকে মুক্তির উপায় কি?
মুক্তির উপায় বড়ই কঠিন। বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা অসাধ্য ব্যাপার । তারপরও সম্ভব হলে অ্যানালগ পদ্ধতিতে জীবন যাপন করার চেষ্টা করা। ডিজিটাল ব্যাংক কার্ড এর বিপরীতে নগদ টাকা ব্যবহার করলে কিছুটা রেহাই মিলবে। নিউরাল প্রযুক্তি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বা বিকেন্দ্রীকৃত কমিউনিটি গড়ে তুলতে চাইলে কিছুটা মুক্তি মিলবে। কিন্তু এ করতে গিয়ে প্রাণ সংশয় দেখা দিলে কেউ আর এ পথে আগাবে না।
তারপরও সচেতনতা থাকাটা জরুরী। এতে করে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রিত জীবন থেকে যতটুকু সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করতে পারবো।
গ্রেইস- দের অভিশপ্ত জীবন অবশ্যই আমাদের কাম্য নয়। যদি মানবিকতা হারিয়ে ফেলে, নিজের অনিচ্ছায় সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মিশে, নিজের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য জলাঞ্জলি দিয়ে AI দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হই, তাহলে মানব জন্মের সার্থকতা কোথায় ?
.।.।.।.।
সূত্রঃ আন্তর্জাল, সাইমন বাওন এর অভিজ্ঞতা
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




