বাবার সাথে কথা বলার সুবাদে আমাদের দু'জনের মাঝে একটা ব্যাপারে বেশ বিরোধ হতো। ব্যাপারটা কেবল আমার ব্যক্তিগত জীবন নয়, জাতীয় জীবনেও বেশ তাৎপর্য বহন করে। বাবা বয়স্ক, জীবনে দেখেছেন অনেক। তাই তার প্রজ্ঞা অনেক বেশী। স্বভাবত:ই বুঝেন বেশী। কিন্তু তার পরেও বিরোধটা থেকে যায়। আমাদের দেশের রাজনীতি আর মানুষের ভোল পাল্টানো নিয়ে তাঁর একটা নিজস্ব মতবাদ আছে। বিরোধটা সেখানেই। তিনি আমাদের জাতীয় স্বভাবের সাথে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের একটা সংযোগ খুঁজে পেতেন।
আমার বাবার মতে, মাছপ্রিয় বাঙ্গালীর চরিএ হচ্ছে মাছের মতো অস্থির। কোথাও স্থিরতা পায় না। তাই ভোল পাল্টায় প্রতি মূহুর্তে। বাবার মতো মাছখেকো বাঙ্গালীদের চরিএের পরিবর্তন হবে না। তারপর শুরু করেন মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাস আর বাংলার ইতিহাস। একই ঘটনার পুনরাবৃওি। আপনাকে এখনই মাথায় তুলে নাচবে আবার পরমূহুর্তে বিসর্জন করে অন্যদিকে হাঁটা দিবে। স্থিতি নেই। নিয়ম-নীতি নেই। শুধু ঝোঁকের বশে চলা। আমি বাবাকে বুঝাই, কথাটা পুরো ঠিক না। কারণ, এদেশের মাছগুলো যখন বিগড়ে যায় তখন তারা রুখে দাঁড়ায় সব বাধা বিপওির বিপরীতে। পরিবর্তন করে দেয় সব গতি। মাছের ঝাঁকে টোকা মেরেই দেখুননা। তারা সব জঞ্জাল অনায়াসে অতিক্রম করে মুক্তির প্রত্যাশায়। ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখুন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




