somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রস কানেকশনে দুই মহিলা:

১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৮:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[গাঢ়]ডিজিটাল লাইনেও যে ভয়াবহ ক্রস কানেকশন হতে পারে তার নমুনা দেখে আমার আক্কেলগুড়ুম। জরুরী ফোন করা দরকার, কিন্তু ক্রস কানেকশনে পড়ে ফোনে শুধু দুই মহিলার ননস্টপ ঝগড়া। বড্ডো বিব্রতকর অবস্থা। তারই কিছু অংশ তুলে দিলাম আড্ডার পাঠকদের জন্য। দয়া করে নিজগুণে ক্ষমা করবেন। একজনকে বললাম, দয়া করে ফোনটা রাখুন, জরুরী ফোন করতে হবে। অন্যপাশ থেকে মহিলা খেমটি দিয়ে বললো: "ইউনুছ মিয়ার দোকান থাইক্যা একটা মোবাইল কিইন্যা লন। এইহানে জরুরী আলাপ চলতেছে, ফোন রাখা যাইবো না"।[/গাঢ়]

নিরুপায় হয়ে ফোন নিয়ে ড্রইং রুমে বসে আছি। ভাবছি, তারা ফোন ছাড়লে জরুরী ফোনটা সেরে নেব। সেজন্য কানের কাছে ফোনটা নিয়ে অপেক্ষা করছি...। শুনে দেখুন তাদের রসালো কথোপকথন:

[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "ভাবী, ভাত খাইছো, না খাও নাই।
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "নারে বোইন, ক্ষিদা নাই। গত 5 বছরে যা খাইছি তাই পেডের মইধ্যে পাত্থর হইয়া আছে"।

[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "আমার ক্ষিদা পাইছে, কিন্তু কামের বেডী একটাও বাসায় নাই। সব গার্মেন্টসে কাম নিছে। রান্না কইরা খাইতে ইচ্ছাও করতেছে না"।
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "এদিকে চলি আসো। নিজের হাতে তোমারে ভাল-মন্দ খাওয়ামু"।

[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "আমারে তো পাগলা কুওায় কামড় দেয় নাই যে তোমার বাসায় গিয়া ভাত গিলুম। গাঁেয়র মাইনষে দেখলে মন্দ কথা কইবো"।
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "কেন যে আমরা মামলা-মোকাদ্দমা আর দারোগা পুলিশ কইরা দুই পরিবারের মইধ্যে ঝামেলা বাজাইলাম? এখন তো কোন শান্তি পাই না"।

[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "ভাবী, তুমি মরছো তোমার খাসলতের কারণে। মইত্যা হুজুরে তোমার মাথা খাইলো। তোমার উপরে তার বদনজর পড়ছে। তার ফুসলানিতেই তো তুমি কেইস মারলা বুড়া বলদার ভাগের জন্য। এই আশি বছরের বুড়া বলদটা না হইলে কি তোমার ক্ষেত-খামার চলতো না?"
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "ও আমার সতী হুরমতি। মরা হাতীর দামও লাখ টাকা। আমার মরা জামাইয়ের আদরের পোষা বলদটার ভাগ আমি তোমারে কেন দিমু?"

[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "পারছো, বলদরে তোমার কাছে বাইন্দা রাখতে। পারো নাই। খামাখাই ভেজাল লাগাইলা। মজা চাইটা খাও এইবার। দেখো না, তোমার কামলা ব্যাকগুনারে দারোগা পুলিশরা ধইরা খালি লালঘরে ঢুকাইতেছে। এইবার তোমার ক্ষেতে লাঙ্গল নামায় কে দেহুম তো?"
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "ওরে হাসু, ওতো মজা নিও না। এক মাঘে শীত যায় না। তুমি কি মনে করছো তোমার কামলারা লাঙ্গল নিয়া চোখ বন্ধ কইরা খালি বদলা দিবো? হে হে, ইংরেজ ভাই রেডী হইরা রইছে, মাঠে খালি নামুক না, ঢিলাইয়া হাড্ডি গুঁড়া কইরা দিবো"।

[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] ভাবী, কামের কথা কও। এই দারোগা-পুলিশ-কোর্ট-কাচারী চললে কিন্তু এইবার ক্ষেতে কিন্তু হাত দেওন যাইবো না। জমি জমা নিয়া মারপিট না কইরা মীমাংসা কিছু করো। না হইলে এইবার সব কামলারা মঙ্গায় মরবো।
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "বোইনরে, কামড়াকামড়ি বন্ধ কইরা চলো সবাই এক লগে মাহফিল আর হালকা জিকিরের ব্যবস্থা কইরা আপোষ কইরা ফেলি। না হইলে যেই বেড়া নিয়া ঝগড়া লাগাইছো, দেখবা বেড়া নিজেই ক্ষেতের জমি সাবার কইরা দিবো"।

[গাঢ়]আমার নিজের ধৈর্যের সীমা ভেঙ্গে গেল। অত্যন্ত ভদ্র ও বিনীতভাবে বললাম, "আপারা ফোনটা কি এখন রাখবেন, আমার একটা জরুরী ফোন করা দরকার"। ঠিক তখনই বজ্রপাতের মতো চীৎকার করে ফোনে বেজে উঠল... [/গাঢ়]

[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "এই বেহাইয়া ব্যাডা, তুমি মওজ কইরা এতক্ষণ ধইরা মাইয়া মাইনষের প্রাইভেট কথা শুনতেছিলা। বেশরম কোথাকার। বেডা মানুষ ঘরে ঢুকলেই সবকিছু তছনছ হইয়া যায়..."
খুব ততোধিক মিহি কন্ঠে [গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] আমাকে জিগ্যেস করে বসলো: "কে, মোখলেইস্যা নি?"

প্রচন্ডভাবে অপমানিত হয়ে ফোন রেখে কম্পিউটারের কাছে আসলাম। ভাবলাম, তার চেয়ে আড্ডাতে কিছু পোস্ট করি। মনিটরের সামনে বসে মনে পড়লো: তাও সম্ভব না। কারণ, এক সপ্তাহ যাবত পাসওয়ার্ড খুঁজে পাচ্ছি না...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×