নিরুপায় হয়ে ফোন নিয়ে ড্রইং রুমে বসে আছি। ভাবছি, তারা ফোন ছাড়লে জরুরী ফোনটা সেরে নেব। সেজন্য কানের কাছে ফোনটা নিয়ে অপেক্ষা করছি...। শুনে দেখুন তাদের রসালো কথোপকথন:
[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "ভাবী, ভাত খাইছো, না খাও নাই।
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "নারে বোইন, ক্ষিদা নাই। গত 5 বছরে যা খাইছি তাই পেডের মইধ্যে পাত্থর হইয়া আছে"।
[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "আমার ক্ষিদা পাইছে, কিন্তু কামের বেডী একটাও বাসায় নাই। সব গার্মেন্টসে কাম নিছে। রান্না কইরা খাইতে ইচ্ছাও করতেছে না"।
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "এদিকে চলি আসো। নিজের হাতে তোমারে ভাল-মন্দ খাওয়ামু"।
[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "আমারে তো পাগলা কুওায় কামড় দেয় নাই যে তোমার বাসায় গিয়া ভাত গিলুম। গাঁেয়র মাইনষে দেখলে মন্দ কথা কইবো"।
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "কেন যে আমরা মামলা-মোকাদ্দমা আর দারোগা পুলিশ কইরা দুই পরিবারের মইধ্যে ঝামেলা বাজাইলাম? এখন তো কোন শান্তি পাই না"।
[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "ভাবী, তুমি মরছো তোমার খাসলতের কারণে। মইত্যা হুজুরে তোমার মাথা খাইলো। তোমার উপরে তার বদনজর পড়ছে। তার ফুসলানিতেই তো তুমি কেইস মারলা বুড়া বলদার ভাগের জন্য। এই আশি বছরের বুড়া বলদটা না হইলে কি তোমার ক্ষেত-খামার চলতো না?"
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "ও আমার সতী হুরমতি। মরা হাতীর দামও লাখ টাকা। আমার মরা জামাইয়ের আদরের পোষা বলদটার ভাগ আমি তোমারে কেন দিমু?"
[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "পারছো, বলদরে তোমার কাছে বাইন্দা রাখতে। পারো নাই। খামাখাই ভেজাল লাগাইলা। মজা চাইটা খাও এইবার। দেখো না, তোমার কামলা ব্যাকগুনারে দারোগা পুলিশরা ধইরা খালি লালঘরে ঢুকাইতেছে। এইবার তোমার ক্ষেতে লাঙ্গল নামায় কে দেহুম তো?"
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "ওরে হাসু, ওতো মজা নিও না। এক মাঘে শীত যায় না। তুমি কি মনে করছো তোমার কামলারা লাঙ্গল নিয়া চোখ বন্ধ কইরা খালি বদলা দিবো? হে হে, ইংরেজ ভাই রেডী হইরা রইছে, মাঠে খালি নামুক না, ঢিলাইয়া হাড্ডি গুঁড়া কইরা দিবো"।
[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] ভাবী, কামের কথা কও। এই দারোগা-পুলিশ-কোর্ট-কাচারী চললে কিন্তু এইবার ক্ষেতে কিন্তু হাত দেওন যাইবো না। জমি জমা নিয়া মারপিট না কইরা মীমাংসা কিছু করো। না হইলে এইবার সব কামলারা মঙ্গায় মরবো।
[গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] "বোইনরে, কামড়াকামড়ি বন্ধ কইরা চলো সবাই এক লগে মাহফিল আর হালকা জিকিরের ব্যবস্থা কইরা আপোষ কইরা ফেলি। না হইলে যেই বেড়া নিয়া ঝগড়া লাগাইছো, দেখবা বেড়া নিজেই ক্ষেতের জমি সাবার কইরা দিবো"।
[গাঢ়]আমার নিজের ধৈর্যের সীমা ভেঙ্গে গেল। অত্যন্ত ভদ্র ও বিনীতভাবে বললাম, "আপারা ফোনটা কি এখন রাখবেন, আমার একটা জরুরী ফোন করা দরকার"। ঠিক তখনই বজ্রপাতের মতো চীৎকার করে ফোনে বেজে উঠল... [/গাঢ়]
[গাঢ়]হাসু:[/গাঢ়] "এই বেহাইয়া ব্যাডা, তুমি মওজ কইরা এতক্ষণ ধইরা মাইয়া মাইনষের প্রাইভেট কথা শুনতেছিলা। বেশরম কোথাকার। বেডা মানুষ ঘরে ঢুকলেই সবকিছু তছনছ হইয়া যায়..."
খুব ততোধিক মিহি কন্ঠে [গাঢ়]পুতুল:[/গাঢ়] আমাকে জিগ্যেস করে বসলো: "কে, মোখলেইস্যা নি?"
প্রচন্ডভাবে অপমানিত হয়ে ফোন রেখে কম্পিউটারের কাছে আসলাম। ভাবলাম, তার চেয়ে আড্ডাতে কিছু পোস্ট করি। মনিটরের সামনে বসে মনে পড়লো: তাও সম্ভব না। কারণ, এক সপ্তাহ যাবত পাসওয়ার্ড খুঁজে পাচ্ছি না...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







