অনেক সময় বাংলার চেয়ে ইংরেজীতে শুনতে বেশী ভাল লাগে। এক পেশে ভালবাসা যদি "ওয়ান সাইডেড লাভ" বলেন তাহলে কি অনেক বেশী শ্রুতিমধুর? কারণ, কথাগুলো বাংলার চেয়ে ইংরেজীতে চলে ভাল। সমার্থক না হলেও যেমন বসন্ত উৎসবের চেয়ে ভ্যালেন্টাইনস ডে বেশী চলে। তারপরেও মনের প্রকাশ যেভাবেই হোক না কেন সমস্যা কি? তবে এক পেশে ভালবাসা বড়ই কস্টকর ও দু:খজনক। কারণ, যাকে আপনি ভালবাসা নিবেদন করছেন তার কাছে মনে হচ্ছে এটা উৎপাত। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক মেয়ের প্রেমে এক সিনিয়র ভাই হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। এক মাস না, দুই মাস না, কয়েক বছর। মেয়ে যতোই উপেক্ষা করে, তার আকর্ষণ ততো বাড়ে। পরিচয় উওরবঙ্গের কোন এক জেলায়। খোঁজ খবর নিয়ে তিনি চলে এলেন ডিপার্টমেন্টে। চ্যানেল আপ করলেন। আশে পাশে ঘুরঘুর করতেন। এক সময় পাথর মন গলল, বিয়ে হলো তাদের। সেজন্যই বলি, মুন্না ভাই লাগে রাহো..।
বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে একবার এক মেয়ে শুরু করল উৎপাত। পিছু ছাড়ে না। লাইব্রেরীতে গেলে বসে থাকে দরজার কাছে। বন্ধু বান্ধব দিয়ে খবর পাঠায়। সামনে এসে কথা বলতো না। একদিন সম্ভবত: কোন এক ভ্যালেন্টাইনস ডে'তে। এক ডজন গোলাপ, একটা শার্ট আর গীতালী থেকে বাছাই করা রবীন্দ্র সঙ্গীতের একটা ক্যাসেট পাঠিয়ে দিল আমার কাছে। কি যন্ত্রণা!!! মুখ ফুটে কাওকে "না" বলা বড্ডো অশোভন। কিন্তু বুঝেও যদি না বুঝে তাহলে তো মহা যন্ত্রণা। ফেরত দিতে গিয়ে কোন লাভ হয়নি। পরে শার্টটা দিয়ে দিলাম এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে। ফুলগুলো দিলাম বোনকে। আর ক্যাসেটটা রেখে দিলাম। ঐ ক্যাসেটটা একমাএ সাক্ষী। বসে ভাবছি, ক্যাসেটটা কি কাওকে দিয়ে দেব? কারণ, চিএা হরিণ, বিএমডবি্ল্লউ আর ইনফিনিটি গাড়ীও ছিল অনেক ভালবাসার গিফট। কি লজ্জাজনকভাবে তা এখন জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে!!! এই পোড়ার দেশ থেকে "ভালবাসা" সত্যি পালিয়েছে!!! কি নিষ্ঠুরভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনদরদী নেতাদের প্রতি বাণিজ্যিক ভালবাসাকে অপমান করছে
?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



