আড্ডার বাংলা ব্ল্লগিং করতে করতে আমার অনেক বিচিএ অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এখানে নানান ব্লগের ভীঁড়ে অনেক ভাবনা জড়ো হয়, জটলা বাঁধে আবার বিস্ফোরণও হয়। ভাবনা প্রকাশের ধারাটা সময়ের গতিতে খুব পরিবর্তিত হয়ে গেছে। কখনও ভাবিনি এতো সহজে এতো লেখকের ভীঁড়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরতে পারব। এখানে আবেগের ছড়াছড়ি, অনেকসময় বাড়াবাড়িও। আবেগ, অভিযোগ, অনুযোগ, অসহযোগ-সব বিশেষণগুলো প্রিজমের ভেতর দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রতি মূহুর্তে আপনার সামনে নতুন লেখা পোস্ট হচ্ছে, নাড়া দিচ্ছে আপনার অনুভূতিকে নতুন করে। মনে হচ্ছে, কেবল আপনি পাতা উল্টে বই পড়ে যাচ্ছেন। পার্থক্য হচ্ছে এ বইয়ের কোন শেষ পাতা নেই। কারণ প্রতিমূহুর্তে নতুন পাতা যোগ হচ্ছে। এখানে ব্লগগুলো দেখলে মনে হয় চলমান সমাজের গতিশীল ভাবনার স্থিরচিএ ধারণ করে রাখছে অসংখ্য পাঠক ও ভাবুকদের সামনে।
আড্ডা সম্পর্কে অনেকের মন্তব্য ও বক্তব্য চোখে পড়ল। নিজের লেখা নিজে পড়ে নিক্তিতে ফেলে দেখলাম। মনে হচ্ছে, খুব ফরমায়েসী লেখা। এতে রসের অভাবও বেশ স্পস্ট। অনেক বন্ধুর এই অভিযোগ সত্য। ভয় হয়, বেশী রসালো লেখা যদি আবার পচনশীলতার জন্ম দেয়! অনেক সময়ই আমার ভাবনাও বেশ অগোছানো। হঠাৎ কোন বিষয় আমার মনকে খুব নাড়া দেয়,তখন তা তুলে ধরি। সেধরণের অগোছানো ভাবনা অনেক পরিশীলিত পাঠকের কাছে খুব উপাদেয় মনে না হওয়াই স্বাভাবিক। গুরুতর বিষয় নিয়ে লেখা সচরাচর অপাংক্তেয় হতেই পারে। কারণ, বাংলা ব্লগিং "বিনোদন ও যোগাযোগের উপকরণ" হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠার আপ্রাণ চেস্টা করছে। তাতে বেশী গুরুতর বিষয়গুলো পাইকারী বাজারের মুখ দেখছে না। তাই চেস্টা করব, আড্ডাকে কিছুটা সাবজেক্টিভ রূপ দিতে।
স্কুল জীবনের ছোট একটা গল্প। যখন কাশ এইটে পড়ি, তখন স্কুলের বিরাট মাঠের সামনে পড়ন্ত বিকেলে হঠাৎ করে আমরা 8/9 জন সমস্বরে চীৎকার করছি, "এই গেলি, এই গেলি বলে"। সবার মনোযোগ যখন আমাদের দিকে নিবদ্ধ হলো তখন আমরা 8/9 জন আবার সমস্বরে বলে উঠতাম, "আয় চল্ জাইগা"। কারণহীন এই চীৎকার করতে করতে আকস্মিক প্রস্থান আমাদের জুনিয়র ও সিনিয়রদের দের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃস্টি করতো। তারা বেশ মজাই পেত। হয়তোবা আড্ডা শেষ করার এটাই ছিল একটা অপরিশীলিত ধারা যাতে আমরা হালকা আনন্দ পেতাম। হঠাৎ এতো বছর পর সেই কথাটা মনে পড়ে নিজেই বলে উঠলাম, "আয় চল্ জাইগা"। এখানেই বিদায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



