একাওরের মার্চ। ঢাকার মোহাম্মদপুরে আমার বাস। অবাঙ্গালী উদর্ুভাষী মূলত: বিহারীদের প্রবল প্রতাপ। আজ এতো বছর পরও মনে পড়ে, হঠাৎ করে পাড়ার বন্ধুরা আর খেলতে চায় না আমার সাথে। আমার উদর্ু ভাষার কথাও তাদের মনোপূত: নয়। তার ক'দিন পর দেখলাম অনেক রক্ত, অনেক মৃতদেহ। মনে পড়ে, বদ্ধ জানালার ফাঁক দিয়ে মায়ের সাথে তাকিয়ে দেখেছি, রাস্তা দিয়ে ভ্যানে করে যাচ্ছে মৃতদেহগুলো। ওরা বাঙ্গালী, তাই ওরা নির্মমভাবে মারা গেল। চোখ বন্ধ করলে এখনো মনে পড়ে। মনে পড়ে বাবা খুঁজে খুঁেজ এক ডাক্তারের কাছে আমাকে নিয়ে গেল। হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। কারণ, হঠাৎ আমি নিস্তব্দ ও নিস্তেজ হয়ে পড়েছি, বাবা-মা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আমার উচ্ছলতা হঠাৎ করে থেমে যাওয়াতে।
মার্চ মাসেই আমাদের ছাড়তে হলো মোহাম্মদপুর যেখানে আমার জন্ম। বেশ ক'বার আক্রমন হলো আমাদের বাসায়। ক'জন প্রতিবেশীর দয়ায় আমরা বেঁচে গেলাম। পরবতী নয় মাস আমরা হলাম ভাসমান মানুষ। আজ এতো বছর পর যখন আমার বাবা-মার কাছে আমার সেসময়কার অসুস্থতার কথা শুনি, আমি নিশ্চিত হয়ে পড়ি, আমি তখন ভুগছিলাম "পিটিএসডি"তে। ভয়াবহ ট্রমাতে আক্রান্ত হলে যেসব সিম্পটম দেখা যায়, তার সবটুকুই প্রকাশ পেয়েছিল। সে নিয়ে পরে একসময় লিখব। তারপরেও যখন শকুনের দলের উল্ল্লাস দেখি, তখন ঘৃণা জাগে। এরা ভুলে যায় কাদের রক্তে ভেজানো মাটির উপরে এরা উল্লাস করে। এরা ভুলে যায়, এদের সাময়িক উত্থান মুছে দিতে পারে না এদের বর্বরতার ইতিহাস। পূবের আকাশে প্রতিদিনকার সূর্যের সাথে একাকার হয়ে আছে সেই রক্তিম রক্তের চিহ্ন আর ত্যাগের স্বাক্ষর। যা কখনো মোছা যাবে না, কখনো ভোলানো যাবে না, কখনো ম্লান করা যাবে না। অবিস্মরণীয়তার সূর্য কখনো কি ডুবে?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




