somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে সূর্য্য অস্ত যাবে না:

০২ রা মার্চ, ২০০৬ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মার্চ মাস আসলে আমি নিজে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। অসংখ্য স্মৃতি ভীঁড় জমাতে থাকে মনের মাঝে। ব্যস্ত জীবনের এই পরিসরে অপেক্ষমান ভাবনাগুলো নিজেরাই মনের মাঝে যুদ্ধ শুরু করে দেয়। কতটুকু ইতিহাস আর কতটুকু বর্তমান তুলে ধরব আড্ডার পাতায়? দুটোরই যে খুব দরকার। আজ শ্রেয়সী বসুর তথ্যভিওিক লেখা "বল ছিল ইহাহিয়ার কোর্টে" পড়ে খুব ফেলে আসা পুরনো দিনের কথা মনে পড়ছিল।

একাওরের মার্চ। ঢাকার মোহাম্মদপুরে আমার বাস। অবাঙ্গালী উদর্ুভাষী মূলত: বিহারীদের প্রবল প্রতাপ। আজ এতো বছর পরও মনে পড়ে, হঠাৎ করে পাড়ার বন্ধুরা আর খেলতে চায় না আমার সাথে। আমার উদর্ু ভাষার কথাও তাদের মনোপূত: নয়। তার ক'দিন পর দেখলাম অনেক রক্ত, অনেক মৃতদেহ। মনে পড়ে, বদ্ধ জানালার ফাঁক দিয়ে মায়ের সাথে তাকিয়ে দেখেছি, রাস্তা দিয়ে ভ্যানে করে যাচ্ছে মৃতদেহগুলো। ওরা বাঙ্গালী, তাই ওরা নির্মমভাবে মারা গেল। চোখ বন্ধ করলে এখনো মনে পড়ে। মনে পড়ে বাবা খুঁজে খুঁেজ এক ডাক্তারের কাছে আমাকে নিয়ে গেল। হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। কারণ, হঠাৎ আমি নিস্তব্দ ও নিস্তেজ হয়ে পড়েছি, বাবা-মা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আমার উচ্ছলতা হঠাৎ করে থেমে যাওয়াতে।

মার্চ মাসেই আমাদের ছাড়তে হলো মোহাম্মদপুর যেখানে আমার জন্ম। বেশ ক'বার আক্রমন হলো আমাদের বাসায়। ক'জন প্রতিবেশীর দয়ায় আমরা বেঁচে গেলাম। পরবতী নয় মাস আমরা হলাম ভাসমান মানুষ। আজ এতো বছর পর যখন আমার বাবা-মার কাছে আমার সেসময়কার অসুস্থতার কথা শুনি, আমি নিশ্চিত হয়ে পড়ি, আমি তখন ভুগছিলাম "পিটিএসডি"তে। ভয়াবহ ট্রমাতে আক্রান্ত হলে যেসব সিম্পটম দেখা যায়, তার সবটুকুই প্রকাশ পেয়েছিল। সে নিয়ে পরে একসময় লিখব। তারপরেও যখন শকুনের দলের উল্ল্লাস দেখি, তখন ঘৃণা জাগে। এরা ভুলে যায় কাদের রক্তে ভেজানো মাটির উপরে এরা উল্লাস করে। এরা ভুলে যায়, এদের সাময়িক উত্থান মুছে দিতে পারে না এদের বর্বরতার ইতিহাস। পূবের আকাশে প্রতিদিনকার সূর্যের সাথে একাকার হয়ে আছে সেই রক্তিম রক্তের চিহ্ন আর ত্যাগের স্বাক্ষর। যা কখনো মোছা যাবে না, কখনো ভোলানো যাবে না, কখনো ম্লান করা যাবে না। অবিস্মরণীয়তার সূর্য কখনো কি ডুবে?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:১৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×