(রাজাকারমুক্ত চিন্তার দিগন্ত)
হাল ফ্যাশনের কথা হচ্ছে প্রগতিশীল হতে হবে। প্রগতিশীল লেখার তাই খুব ছড়াছড়ি। ইদানীং আবার চোখে বেশী পড়ে বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ-এর সৌজন্যে। ভালবাসা দিবসে বোরকা পড়া দুই মহিলার গোলাপ ফুল হাতে নেয়া ছবি কোন এক বাংলা ব্লগে দেখে মনে ভাবনাটা আরও পোক্ত হলো প্রগতিশীলতার আওয়াজ সবার মনে ছুঁয়েছে। প্রগতিশীলতা আবার আল্পনা আর বেইলী রোডে নাট্রচর্চার মধ্যে থেমে নেই। দৈনিক সংগ্রামে এখন আবার ইসলামী চলচিএের আলোচনাও দেখা যায়। তাদের শাহীন শিবির ও ফুলকুঁড়িতে এখন ছেলেমেয়েরা কিছুটা রেখে ঢেকে মেলামেশাও করতে পারে। এছাড়া, নিজেও দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয় থাকা অবস্থায় ছাএশিবিরের দ্বীনি ভাইরা ছাএী সংস্থার আপাদের মেলামেশাটা কখনো আপওিকর পর্যায়ে নিয়ে যেত না। কারণ, ঘটনাগুলো আবার একটু আব্রু রক্ষা করে হতো, তাই বেলেল্ল্লাপনাটা অতোটা তথাকথিত প্রগতিশীলদের মতো দৃস্টিকটু দেখাতো না।
তবে আজকে দেখলাম মন্তব্যের ঠোকরে অনেকেই কী বোর্ডও ভেঙ্গে ফেলেছেন হয়তো। অবশ্য আমরা সবাই আবেগপ্রবণ, কম আর বেশী। মাসুদা ভাট্রি লিখছেন তার ধারাবাহিক উপন্যাস "তরবারির ছায়াতলে"। অনেকের আপওি তাতে। তারা ভাবছেন, ধমর্ান্ধতা বিষয়ক উপন্যাস মাদ্রাসার গন্ডি থেকে বের হয়ে আবার যদি রাজনৈতিক ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করে দেয়, তাহলে তো বড়ই বিপদ-বিপওি। সৈয়দ শামসুল হকের "খেলারাম খেলে যা" পাকিস্তানীরা নিষিদ্ধ করেছিল অশ্লীলতার দায়ে। সমাজে অশ্লীলতা থাকবে, ধর্মান্ধতা থাকবে, উগ্রতা থাকবে, তা আবার মোড়কের বাইরে নিয়ে আস্লে অনেক মান্নান-মইত্যাসহ ধর্ষকদের খোলস খুলে যায়। আসল সমস্যাটা এখানে। ভাট্রির লেখা আপওির একটা উপলক্ষ মাএ।
মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে ক্যাথলিক চার্চের অনেকগুলো দেউলিয়া হয়ে গেছে কেবল পাদ্রীদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা পরবতর্ী ক্ষতিপূরণ মামলায়। আর বাংলাদেশের কতক ধর্মান্ধ ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের সন্ত্রাসী ও নিরীহ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে মামলা বা বিচার তো অনেক দূরের কথা। বরং এনিয়ে ধর্মান্ধ ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের গলা আরেক ধাপ উঁচু। কারণ, চোরের মা'র বড়ো গলা। অবশ্য প্রগতিশীল ধমর্ীয় রাজনৈতিক ব্যবসায়ীরা তাদের পাকিস্তানী দ্বীনিভাইদের সাথে স্বর ও তাল মিলিয়ে বুঝাতে চান, নারী নির্যাতনের শাস্তি যদি পেতে হয়, তা নির্যাতনের শিকার নারীকেই চোখ বন্ধ করে নিতে হবে। কারণ, অপরাধী পুরুষ তো তার বেহায়া নফ্সকে অনুসরণ করেছে, এতে আসামীর চেয়ে ফরিয়াদীর শাস্তি অনেক বেশী। যুক্তরাস্ট্রের পাদ্রীগুলো এখানে এসে চার্চ খুললে বরং তাদের অপরাধের জন্য সাধুবাদ পেত, দেউলিয়া হওয়ার প্রশ্নই উঠত না। কারণ, আমাদের দেশে রাজাকার জামাতী ও তাদের সহযোগীরা ধর্মের পেটেন্ট দিয়ে নিস্কৃতি পেয়ে গেছে। তাই, তাদের অপরাধ সাতগুণ মাফ্। টিভির খবরে তো আজ দেখলাম, র্যাব হেফাজতে শায়খ আব্দুর রহমান পা নেড়ে নেড়ে নির্বিকারভাবে কমলার কোঁয়া চিবাচ্ছেন। জেএমবি বা তাদের জামাতী ভাইদের অপকর্ম বিচারযোগ্য অপরাধ নয়, বরং এনিয়ে লেখা হয়ে পড়বে অতি ধৃষ্ঠতাপূর্ণ ও আপওিকর। মন্তব্য ও ব্যানার জোগাড় করে এধরণের লেখা যদি বন্ধ করা যায়! পরিশেষে, মুছেও ফেলা হলো। অনেক নাবালকদের আবার এসব জিনিস চোখে পড়লে তারা যদি আবার বড়োদের অনুসরণ করার চেস্টা করেন!! অবশ্য অনেক নব্য ধমর্ীয় প্রগতিশীলরা নাতি-নাতনী নিয়ে এখানে আবার রস-কষ দেয়ার চেস্টা করছেন। এদের অনেকে আবার ধর্মীয় বাতাবরণে অশালীন কথা লিখতে পারদশর্ী হয়ে উঠছেন। শুধু বাকী আছে, বাবা-চাচারা ফেউ হিসেবে যেসব অপকর্মকরেছেন সেই এলবামটা অন-লাইনে দেয়ার। সমস্যা হচ্ছে, 71এর ছবি আবার সাদা-কালোতে, সেসব ছবি কি তেমন আবেদন সৃস্টি করতে পারবে?
তাই,আজকাল অনেকেই প্রগতিশীল হতে চাচ্ছেন ধমর্ীয় আবেদনের খোলসের ভেতর থেকে। স্বদেশে বিদেশী হওয়া নিয়ে একবার ডি. এল. রায় লিখেছিলেন-
"আমরা বিলেতী ধরণের হাসি
ফরাসী ধরনে কাশি
পা-দুটো ফাঁক করে
সিগারেট খেতে বড্ড ভালবাসি"।
এ ধরণের মেকী প্রগতিশীলতার চেস্টায় অনেকের বাতাবরণ অনেকটা প্রচ্ছন্ন। ধর্ম মানবিক মূল্যবোধ শিখাতে চায়, কিন্তু ধমর্ান্ধ মূল্যবোধ মানবিকতাকে বিসর্জন দিতে চায় অনবরত। তাই, ধর্মান্ধরাও প্রগতিশীল, অবশ্য মানবিক বিবেকবোধ ও শালীনতা নির্বাসন করে। কারণ, পরকালের পেটেন্ট কেবল এদের হাতেই আছে! তাই না?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৬ রাত ১২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



