মার্চ মাসে আড্ডা আরও অনেক ভাবনা উপহার দেয়ার কথা ভাবছে। সমস্যাটা হচ্ছে অসংখ্য চলমান ঘটনাপ্রবাহ আমার লেখার ধারা বা চিন্তাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে এবং নিজের লেখার উপর নিজেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। অনেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। তা চোখ বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। আজ ক'দিনের মধ্যে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার পটভূমিতে বিষয়গত অগ্রাধিকার নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমি আমার লেখার আগামী আকর্ষণগুলো এভাবে সাজালাম।
সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে মর্যাদা দেয়া। তাই, ভাবছি আমি আমার নিজস্ব ভাবনায় ইসলামী দাওয়াতের উপর একটি লেখা লিখব। বিতর্ক সৃস্টির জন্য নয়, বরং তা অবসানের জন্য। যারা ইসলাম নিয়ে ভাবেন এবং তার অনুশীলন করেন, মূলত তাদের জন্যই নিবেদিত হবে আমার লেখা। নিজস্ব ভাবনায় ধর্মবোধ ও ধর্মহীনতার মধ্যে পার্থক্য দেখানো হবে। এই লেখা প্রকাশের পটভূমি হিসেবে পড়তে পারেন "কোন পথে যাব" শীর্ষক আমার 15ই ফেব্রুয়ারীর লেখাটি। ধর্মে সহনশীলতার চর্চা সৃস্টি করে বিশ্বাসবোধ ও সমর্পন। মুসলমানদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু কে? বিশ্বাসবোধ ও সহনশীলতার বিকাশে বিশ্বাসীদের ভূমিকা কি? অবশ্য অপেক্ষা করতে হবে এই লেখার জন্য। এর মধ্যে অনেকের অভিযোগ, অনুযোগ, আবেগ, ক্রোধ প্রকাশ পেয়েছে। এ বিষয়ে আমার লেখার মধ্যে সেরকম ভাব হয়তো পাবেন না। কিন্তু চিন্তার খোরাক নিশ্চয়ই পাবেন। সুশীল ও মুক্ত সমাজ নির্মাণে ভাবনার মুক্তির প্রয়োজন। নিজস্ব সংস্কারবোধেও সম্পাদনার প্রয়োজন।
"বাংলাদেশ সবার সেরা" লেখাটি মার্চের 26 তারিখের মধ্যে অনুবাদ শেষ করে পুরোপুরি প্রকাশ করার ইচ্ছেটা খুব বেশী। লেখাটি প্রকাশ পেয়েছিল আমার ইংরেজী ব্ল্লগে গত ডিসেম্বরের 16 তারিখে। নিজের লেখার বাংলায় অনুবাদ করতেও সময় পাচ্ছি না।
জেএমবি'র শায়খ রহমানের ধরার পর ধমর্ীয় সন্ত্রাসী ও মৌলবাদীদের ভবিষ্যত। নাটক না বাস্তবতা?
স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা। কি পেয়েছি, কি পাইনি? কি আমাদের ভবিষ্যৎ? কারা দিবে আগামী দিনের নেতৃত্ব? কারা আনবে পরিবর্তন? শুধু ভাবনা, না বাস্তবতায় বসবাস করা হবে?
দূর্নীতি ও সুশাসন। জবাবদিহিতার শুরু কোথায়? রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কি আয়-ব্যয়ের হিসেব দিবেন? যদি না দেন, তাহলে কেন?
আপনাদের প্রশ্নের উওর। বেশ কিছু ই-মেইল পেয়েছি। ই-মেইলগুলো সাজালে প্রশ্নগুলো দাঁড়ায় এরকম: আপনি নিজের পরিচয় গোপন করে লেখেন কেন? আপনার এজেন্ডা কি? আপনি কি নিজেকে নিরপেক্ষ বলে মনে করেন? আপনি কি আওয়ামী লীগার? যদি আওয়ামী লীগার না হোন, তাহলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দও করেন না কেন? আপনার লেখায় রাজনীতির গন্ধ আছে, আপনার কি রাজনীতি করার ইচ্ছা আছে? আপনি কি কোন কাজ করেন? আপনি এতো সময় পান কই লেখার? কিছু কিছু উওর সরাসরি ই-মেইলে দিয়েছি। আর কিছু উওর পরে লেখায় প্রকাশ করব।
অনেকে হয়তো ভাববেন আমি দমকল বাহিনীতে চাকরি নিয়েছি কি-না? অসহনশীলতা ও সংঘাতের আগুনে পোড়া ব্ল্লগের রাজ্যে কি আরও ঘি ঢালব না পানি ঢালব? সংলাপ, শান্তি না, একলা চলো নীতি? হা হা! সবই নিছক আড্ডার রসদ। ভাবছি, আপনারাও লিখুন। লিখতে মানা নেই। স্বপ্ন দেখতে দেখতে হয়তো অসম্ভব বাস্তব হয়ে ধরা দিবে। যে বাস্তবতায় সহনশীলতা আছে, সম্মানবোধ আছে, আর জীবনবোধ আছে। আপনার স্বপ্নের প্রদীপ না নিভিয়ে তাকে জ্বালিয়ে অপেক্ষা করুন একটি সূর্যস্নাত সুন্দর আনন্দঘন সকালের জন্য যেখানে অপরাহ্ন আসবে না। ততক্ষণ পর্যন্ত ব্ল্লগের চিএপটেই ঠাঁই দিন আপনার স্বপ্নকে।
"জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসোা।
সকল মাধুরী লুকায়ে যায়, গীতসুধারসে এসো
কর্ম যখন প্রবল-আকার গরজি উঠিয়া ঢাকে চারিধার
হূদয়প্রান,্তে হে জীবননাথ, শান্ত চরণে এসো..."
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



