কথাটা অহরহ আমরা শুনি। অফিসের চাপ, বাসা থেকে চাপ, কাজের চাপ, বাসে চাপ। জীবনটা কেন যেন প্রচন্ড চাপাচাপির মধ্যে থাকে। মনে হয়, মৃতু্যর আগে চাপের থেকে মুক্তি নেই। মরলেও মুক্তি নেই। কারণ, আছে কবরের চাপ। তাই ভাবলাম চাপ নিয়েই আজকে লিখি। ইংরেজীকে যাকে "স্ট্রেস্" বলে। এই তো ক'দিন আগে আমার বস্ চাপের উপর এক পাতার একটা লেখা আমার রুমে রেখে গেল। বলল, কোন ট্রেনিংএ নাকি পেয়েছে। সম্ভবত: তার বস্ তাকে দিয়েছে। লেখাটার শিরোণাম হচ্ছে "জীবণের দৈনন্দিন চাপ কাটিয়ে উঠার উপায়"।
হঠাৎ করে, আবার বস্ আমার চাপ কমাতে চাচ্ছে কেন, বুঝলাম না? কাগজটা পড়তে পড়তে ভাবলাম পোস্ট করে দিলে কেমন হয়? সতীর্থ ব্ল্লগাররা অনেকে খুব চাপের উপর আছে। অনেকে প্রস্থানের পাঁয়তারা করছে। আমি নিজেও মোবাইল ফোন সাথে সাথে রাখি। হীরক লস্কর ভাইয়ের ফোন পেলেই তল্পি-তল্পা গুটিয়ে কেটে পড়ব!!! তাই ভাবলাম কাগজটা কেটে ছেঁটে অনুবাদ করে দেখি আপনাদের কেমন লাগে?
(1) এটা মেনে নিবেন যে কোন কোন দিন আপনি একটি কবুতরের মতো মুক্ত, আবার কোন কোন দিন আপনি মুর্তির মতো স্থবির।
(2) সবসময় আপনার কথাগুলো নরম ও মিস্টি রাখুন, কারণ আপনি নিজেও জানেন না কোন্দিন কেবল কথাই খেতে হবে।
(3) সবসময় ভালো কিছু পড়ুন, যাতে তার মাঝখানে মারা গেলে অন্তত: লোকজন ভাববে ভাল কিছু পড়তে পড়তে মারা গেছেন।
(4) নিজে দয়ালু হতে না পারলে নিদেন পক্ষে অস্পস্ট থাকুন।
(5) কোন বন্ধুকে 500 টাকা ধার দিয়ে আর কোনদিন যদি খুঁেজ না পান, তবে সেই টাকা হারানো অনেক ভাল।
(6) হয়তো আপনার সারা জীবনের একমাএ উদ্দেশ্য হচ্ছে অন্যদের জন্য সতর্কতার একটি উপদেশ দেওয়া!!!
(7) কখনো দু'টো পা মুখের ভেতর ঢুকিয়ে রাখবেন না, কারণ আপনি নিজেও জানেন না কখন আপনাকে হাঁটতে হবে।
(8) দ্বিতীয় ইঁদুরটি সবসময় পনির পায় (কারণ প্রথমটা তো ফাঁদে আটকা)।
(9) যখন দেখবেন সবকিছু আপনার দিকে ধেয়ে আসছে, তার মানে আপনি রাস্তার ভুল দিক দিয়ে হাঁটছেন।
(10) জন্মদিন আপনার জন্য সবসময়ই ভাল। যতো বেশী পাবেন, ততো বেশীদিন বাঁচবেন।
(11) হয়তো পৃথিবীতে আপনিই একমাএ মানুষ যিনি একজনের জন্য একমাএ পৃথিবী।
(12) বাচ্চাদের রং করার ক্রেয়ন বাক্স থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ক্রেয়ন পেন্সিলগুলো কোনটা সুন্দর, কোনটা নিষপ্রভ। একেকটা একেক রংএর। তারপরেও তারা সবাই একটা বাক্সের ভেতরেই থাকে।
শেষের কথাটা সবচেয়ে বেশী মূল্যবান। আমরা হরেক রকমের মানুষ ক্রেয়ন বাক্সের ক্রেয়নের মতো এ পৃথিবীতে বাস করি। আমাদের রং, ভাবনা, চিন্তা, কথাবার্তা, আচরণ খুবই আলাদা আলাদা। তাই বলে কি আমরা আলাদা আলাদা করে পৃথিবী তৈরী করতে পারি? যদি না পারি, তা হলে কেন বাংলা ব্ল্ল্লগে এসে এতো দেয়াল তৈরী করে বিবাদ-বিসম্বাদ করে বাস করতে চাই? কে জানে হঠাৎ করে ভূতের মুখে রাম নাম!!! হা হা। দেখি, বস্কে ফোন করে একটা ধন্যবাদ দেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



