ঢাকার খবর খারাপ। আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও আন্দোলনে রাজনীতি আবার উওপ্ত। আমরা যারা মোহাম্মদপুরে থাকি তারা মোটামুটি অবরুদ্ধ হয়েছিলাম গতকাল। মীরপুর রোডের উপর দিয়ে ধকলটা বেশী গেল। তাই পএিকার প্রতিবেদনের সাথে মিলিয়ে ঘেরাও কর্মসূচীর সমান্তরাল একটি চিএ নিজে তৈরী করলাম। এতে দেখা যাবে, যা হয়েছে এবং যা হতে পারত। প্রথম প্রতিবেদনটি পএিকার পাতা থেকে এবং দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি আড্ডাবাজের কল্পনা থেকে।
দৈনিক ইওেফাকের প্রতিবেদন অনুসারে, "আওয়ামী লীগসহ 14 দলের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পন্ড করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল রবিবার সকালে ধানমন্ডি 27 নম্বরে ক্রসিং-এর কাছে পুলিশ জলকামান, শত শত রাউন্ড টিয়ার সেল এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ চালিয়ে 14 দলের শান্তিপূর্ণ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু গুরম্নতর জখম হওয়া ছাড়াও 14 দলের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে আহত তিন শতাধিক। পুলিশ ঘটনার সময় 14 দলের 7 নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। পরে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা পুলিশের একটি রিকুইজিশন করা গাড়িতে অগি্নসংযোগসহ 7/8টি গাড়ি ভাংচুর করে। ঘটনার সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়"।
ভোরের কাগজ জানায়, "সরকার কর্তৃক একতরফাভাবে নিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিতর্কিত 2 নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ, একতরফা ভোটার তালিকা বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে গতকাল রোববার 14 দলের পূর্বনির্ধারিত নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিকালে এসব ঘটনা ঘটে। এ কর্মসূচি উপলক্ষে 14 দলের দুটি গ্রুপ ধানমন্ডির রাসেল স্কোয়ার ও আগারগাঁও তালতলা থেকে মিছিল করে নির্বাচন কমিশনের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলের সামনে ও আগারগাঁও মোড়ে কাঁটাতারের ঘেরা দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। আগারগাঁও মোড়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও ধানমন্ডি বয়েজ হাইস্কুলের সামনের সড়ক ও 27 নম্বর সড়কে পুলিশের তাণ্ডব ছিল অকল্পনীয়। ঘণ্টাব্যাপী 3টি জলকামান দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত গরম পানি ছুড়তে থাকে পুলিশ। আশপাশের প্রতিটি গলিতে আর্মার্ড কার দিয়ে টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ নেতাকমর্ীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও ছররা গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের ডিসি (পশ্চিম) কোহিনুর মিয়ার নির্দেশে পুলিশের একটি দল এ সময় নির্বিচারে লাঠিপেটা করে রাজনৈতিক নেতাকমর্ী-সমর্থকসহ নিরীহ পথচারীদের। সেই সঙ্গে ছিল অশ্রাব্য ভাষায় পুলিশের গালাগালি"।
এবার যা হতে পারত তা নিয়ে আড্ডাবাজের কল্পনা:
"সরকার কর্তৃক একতরফাভাবে নিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিতর্কিত 2 নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ, একতরফা ভোটার তালিকা বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে গতকাল রোববার 14 দলের পূর্বনির্ধারিত নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী সফলভাবে ঘটে। এ কর্মসূচী উপলক্ষে 14 দলের কমর্ীরা নির্বাচন কমিশনের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশ প্রহরায় তাদেরকে নির্বাচন কমিশন চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে 14 দলের নেতারা পথসভা করেন। পুরো এলাকা শ্লোগান মূখর ছিল। সভা উপলক্ষে প্রচুর স্কুলের ছেলেমেয়েদেরকে তাদের টিফিন বিক্রি করতে দেখা গেছে। অনেকে অফিস কামাই দিয়ে ছোটখাট খাবারের দোকান চালু করেন। তবে নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান যে, কিছু অসাধু খাবার সরবরাহকারী তাদের টিফিন ক্যারিয়ার এখানে বিক্রি করে দেন বলে অফিসে অনেকে ক্ষুধার্ত ছিলেন।
গতকালের গরমের কারণে পরে দমকল বাহিনী পানি ছুড়লে অনেক লোক তাদের গোসল ও অজুর কাজ সেরে নেন। উপরের ছবিটি সমকাল পএিকার সৌজন্যে। অনেক কমর্ীকে ক্লান্ত দেখা যায়। অনেকে বলেন, উওেজনাহীন এধরণের ঘেরাও কর্মসুচীর কারণে তারা এধরণের কর্মসূচীতে যোগদানের উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। অবশ্য 14 দল নেতৃবৃন্দ জানান, কাছাকাছি হাসপাতাল থাকার কারণে তারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে পারেননি বলে অনেক কমর্ী উৎসাহ হারিয়েছেন। শতাধিক বয়োবৃদ্ধ রাজনৈতিক কর্মী গরমে জ্ঞান হারালে পুলিশের তত্বাবধানে প্রায় 7/8টি বাসে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণী পুলিশের ডিসি কোহিনুর মিয়াকে একটি গোলাপ উপহার দিতে গেলে তিনি না নিলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই পুলিশ কর্মকর্তা সম্প্রতি বিয়ে করেছেন বলে বু্যরো রিপোর্ট জানায়। বিরোধী দল শৃংখলা ও জরুরী সাহায্য প্রদানের জন্য পুলিশ বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রাতে নির্বাচন কমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান যে, বিরোধী দলের ঘেরাও কর্মসূচীর ফলে তাদের আঙ্গিনা নোংরা হওয়ার কারণে তারা পরিচ্ছন্নতা বিল বাবদ বিরোধী দলের একাউন্ট থেকে 35 হাজার টাকা কেটে রাখবে। সরকারী দল এই সফল রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য 14 দলকে মোবারকবাদ জানান। তারা দাবী করেন যে, "তাদের জনপ্রিয়তা এই আন্দোলন কমাতে পারেনি। তাই, ভবিষ্যত তাদের জন্য খুবই ..."। দু:খিত, কলমের কালি ফুরিয়ে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



