somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দমকল বাহিনী থেকে ইস্তফা:

১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(শুধু মুক্তমনাদের জন্য নিবেদিত)
"দমকল বাহিনীর চাকরি থেকে ইস্তফার" বিষয়টি কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক আর কিছুটা ক্ষুব্ধতায় ভরা ব্যক্তিগত কৈফিয়ত নামা। সামহোয়্যার ইন-এ সবাই নীরবে ও সরবে যে শান্তি ও সহনশীলতার স্বপ্ন দেখে তা দু:খজনকভাবেই মরীচিকার মতো হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, চৈএের দমকা ঝড়ো হাওয়ার মতো ব্ল্লগের রাজ্যে একঝাঁক তর্ক-বিতর্ক আর শাখামৃগের গল্প ফেঁদে বিবাদের নৈরাজ্যতে অনেকে খুশী হতে পারেননি। তবুও, শাখামৃগ বা বান্দর নিয়ে লেখার প্রতিযোগিতা ব্যক্তি বিশেষের চেয়ে বিনোদনের খোরাক হিসেবে যে অনেক বেশী গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে তা প্রমাণ পায় যখন অনেকে বুঝে না বুঝে অন্যদের সাথে কোমর বেঁধে লেখার প্রতিযোগিতায় নামেন।

যারা মুক্তচিন্তার ধারা অনুসরণ করেন তাদের জন্য এই নুতন ধারাটা অনেকটা শাপে বর। কেউ বেসবল ব্যাট নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিতে উদ্যোগী তখন মুক্তমনের অনুসারীরা যে অন্তত: বেসবল ব্যাট না নিয়ে তাদের প্রতিবাদকে অনেক সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করেছেন তার জন্য তারা অনেক প্রশংসার দাবীদার। ধমর্াান্ধতা আর উগ্রতা যে সমাজে বা ব্লগের রাজত্বে শান্তি আনতে পারে না, তা নির্বোধ ধমর্ান্ধরা তাদের আচরণ দিয়ে আরেকবার প্রমাণ করে দিল। যারা "উসওয়াতুল হাসানার" মডেল স্থাপন করবেন বলে দাবী করেন, তারা যখন বেসবল ব্যাট আর রগকাটার ব্যবসায় নামেন তারা তখন নিজের অজান্তেই ধর্মের মুখোশটা খুলে তাদের পাশবিক চেহারাটা নগ্নভাবে প্রকাশ করেন। তারা শাখামৃগ বা বান্দর জাতীয় কোন টাইটেল পেলে আমি বলব অন্তত: সচেতন জনগোষ্ঠী তাদের পক্ষে আনুকূল্যটা একটু অন্যায়ভাবেই বেশী করেছেন।

আশির দশকে ধর্মান্ধ জামাতীরা যখন বাংলাদেশে মসজিদ দখলের হিড়িকে নোংরামী করে মসজিদ থেকে মসজিদে নিজেদের মতের ইমাম ও কমিটি তৈরীর প্রতিযোগিতায় নেমেছিল, তখন আমরা দেখেছি ধমর্ান্ধদের মুখোশ কতো নোংরা হতে পারে। যারা মসজিদের মতো পবিএ স্থানকেই রেহাই দেয়নি, তারা পৃথিবীর অন্য কোন স্থানকে থোরাই মুক্তি দিবে। দু:খ আর ক্ষোভ আমাকে গ্রাস করে যখন দেখি কিছুলোক শাখামৃগের টাইটেল নিয়ে বড্ডো নারাজ, কিন্ত বেসবল ব্যাট দিয়ে প্রথমে যে ফ্যাসাদটা শুরু করল সে ব্যাপারে নির্বাক। তার পাশাপাশি আপওিকর মন্তব্যগুলো মোছার মতো সুস্থতা ও দায়িত্ববোধ যখন অনেকের মধ্যে লোপ পায়, তখন তা আরও বেশী দু:খজনক। অন্যের কথায় বাগড়া না দিয়ে নিজের বলয় তৈরী করে যে শান্তি ও সহনশীলতার অনুসরণযোগ্য মডেল তৈরী করা যায় তা ধর্মান্ধ মস্তিস্কের স্থুলতায় বোধগম্য হবে বলে আমি কখনো আশা করি না।

এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল অনেক দিন আগের কথা। রিকশা করে বাসায় ফিরছি মোহাম্মদপুরের আসাদগেট হয়ে। টাওনহলের বাজারের ভীঁড়ে এসে রিকশার গতি গেছে কমে। হঠাৎ পেছন থেকে একটা মোটরসাইকেল খুব দ্রুত গতিতে এসে আমার সামনের রিকশাকে দিল খুব জোরে ধাক্কা। রিকশা পুরো ভঁচকে গেছে। ষন্ডা মার্কা মোটরসাইকেল চালক নেমেই রিকশাওয়ালাকে ঘুসি মেরে বলতে লাগল, "ব্যাটা দেখে রিকশা চালাইস্ না?" ব্যথা ও কস্টে কুঁচকানো রিকশাওয়ালা হতবাক। আজ এতো বছর পর যখন দেখি এখানকার ব্ল্লগের কিছু ব্যক্তিবর্গ নির্বোধ মোটরসাইকেল চালকের উগ্রতা ও স্থূলতার সাথে একাত্ম হয়ে সহনশীলতার কথা বলে তখন আমি নিজে হতবাক ও বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। একেই বলে বিবেকবোধ ও সুস্থ মননের নীরব ও বেদনাদায়ক নির্বাসন। তবে চলমান মেরুকরণে আমি আনন্দিত। কারণ, তা অনেক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

তাই চলমান ধারায় অন্যরা যখন হতাশার অন্ধকার দেখে, আমি আশার বুনন দিয়ে তৈরী আগামীর উজ্জ্বল সকাল দেখি। তাই মন খারাপ করে নয়, অভিমান করে নয়, হতাশ হয়ে নয়, নির্জন যাএাপথে ক্লান্ত হয়ে নয়, বরং স্থির প্রত্যয়, আস্থা ও উদ্দীপনা অবলম্বন করে চাই মুক্তমনাদের সমবেত সাহসী পদযাএা। কথাগুলো যদি মনকে নাড়া দেয়, আর মন যদি ধর্মান্ধতার সংস্কার ভেঙ্গে নতুন প্রত্যয়ে বাংলাদেশকে সাজাতে থাকে, তাহলে হতাশা কেন? তাহলে সবকিছুতে অবিশ্বাস কেন? কারণ, আমিও বলি হবেই হবে। তার প্রতিধ্বনি তো আমি শুনি সর্বএই।

"নিশিদিন ভরসা রাখিস, ওরে মন, হবেই হবে।
যদি পণ করে থাকিস, সে পণ তোমার রবেই রবে।
ওরে মন, হবেই হবে
...ঘন্টা যখন উঠবে বেজে দেখবি সবাই আসবে সেজে-
এক সাথে সব যাএী যত একই রাস্তা লবেই লবে"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×