(শুধু মুক্তমনাদের জন্য নিবেদিত)
"দমকল বাহিনীর চাকরি থেকে ইস্তফার" বিষয়টি কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক আর কিছুটা ক্ষুব্ধতায় ভরা ব্যক্তিগত কৈফিয়ত নামা। সামহোয়্যার ইন-এ সবাই নীরবে ও সরবে যে শান্তি ও সহনশীলতার স্বপ্ন দেখে তা দু:খজনকভাবেই মরীচিকার মতো হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, চৈএের দমকা ঝড়ো হাওয়ার মতো ব্ল্লগের রাজ্যে একঝাঁক তর্ক-বিতর্ক আর শাখামৃগের গল্প ফেঁদে বিবাদের নৈরাজ্যতে অনেকে খুশী হতে পারেননি। তবুও, শাখামৃগ বা বান্দর নিয়ে লেখার প্রতিযোগিতা ব্যক্তি বিশেষের চেয়ে বিনোদনের খোরাক হিসেবে যে অনেক বেশী গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে তা প্রমাণ পায় যখন অনেকে বুঝে না বুঝে অন্যদের সাথে কোমর বেঁধে লেখার প্রতিযোগিতায় নামেন।
যারা মুক্তচিন্তার ধারা অনুসরণ করেন তাদের জন্য এই নুতন ধারাটা অনেকটা শাপে বর। কেউ বেসবল ব্যাট নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিতে উদ্যোগী তখন মুক্তমনের অনুসারীরা যে অন্তত: বেসবল ব্যাট না নিয়ে তাদের প্রতিবাদকে অনেক সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করেছেন তার জন্য তারা অনেক প্রশংসার দাবীদার। ধমর্াান্ধতা আর উগ্রতা যে সমাজে বা ব্লগের রাজত্বে শান্তি আনতে পারে না, তা নির্বোধ ধমর্ান্ধরা তাদের আচরণ দিয়ে আরেকবার প্রমাণ করে দিল। যারা "উসওয়াতুল হাসানার" মডেল স্থাপন করবেন বলে দাবী করেন, তারা যখন বেসবল ব্যাট আর রগকাটার ব্যবসায় নামেন তারা তখন নিজের অজান্তেই ধর্মের মুখোশটা খুলে তাদের পাশবিক চেহারাটা নগ্নভাবে প্রকাশ করেন। তারা শাখামৃগ বা বান্দর জাতীয় কোন টাইটেল পেলে আমি বলব অন্তত: সচেতন জনগোষ্ঠী তাদের পক্ষে আনুকূল্যটা একটু অন্যায়ভাবেই বেশী করেছেন।
আশির দশকে ধর্মান্ধ জামাতীরা যখন বাংলাদেশে মসজিদ দখলের হিড়িকে নোংরামী করে মসজিদ থেকে মসজিদে নিজেদের মতের ইমাম ও কমিটি তৈরীর প্রতিযোগিতায় নেমেছিল, তখন আমরা দেখেছি ধমর্ান্ধদের মুখোশ কতো নোংরা হতে পারে। যারা মসজিদের মতো পবিএ স্থানকেই রেহাই দেয়নি, তারা পৃথিবীর অন্য কোন স্থানকে থোরাই মুক্তি দিবে। দু:খ আর ক্ষোভ আমাকে গ্রাস করে যখন দেখি কিছুলোক শাখামৃগের টাইটেল নিয়ে বড্ডো নারাজ, কিন্ত বেসবল ব্যাট দিয়ে প্রথমে যে ফ্যাসাদটা শুরু করল সে ব্যাপারে নির্বাক। তার পাশাপাশি আপওিকর মন্তব্যগুলো মোছার মতো সুস্থতা ও দায়িত্ববোধ যখন অনেকের মধ্যে লোপ পায়, তখন তা আরও বেশী দু:খজনক। অন্যের কথায় বাগড়া না দিয়ে নিজের বলয় তৈরী করে যে শান্তি ও সহনশীলতার অনুসরণযোগ্য মডেল তৈরী করা যায় তা ধর্মান্ধ মস্তিস্কের স্থুলতায় বোধগম্য হবে বলে আমি কখনো আশা করি না।
এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল অনেক দিন আগের কথা। রিকশা করে বাসায় ফিরছি মোহাম্মদপুরের আসাদগেট হয়ে। টাওনহলের বাজারের ভীঁড়ে এসে রিকশার গতি গেছে কমে। হঠাৎ পেছন থেকে একটা মোটরসাইকেল খুব দ্রুত গতিতে এসে আমার সামনের রিকশাকে দিল খুব জোরে ধাক্কা। রিকশা পুরো ভঁচকে গেছে। ষন্ডা মার্কা মোটরসাইকেল চালক নেমেই রিকশাওয়ালাকে ঘুসি মেরে বলতে লাগল, "ব্যাটা দেখে রিকশা চালাইস্ না?" ব্যথা ও কস্টে কুঁচকানো রিকশাওয়ালা হতবাক। আজ এতো বছর পর যখন দেখি এখানকার ব্ল্লগের কিছু ব্যক্তিবর্গ নির্বোধ মোটরসাইকেল চালকের উগ্রতা ও স্থূলতার সাথে একাত্ম হয়ে সহনশীলতার কথা বলে তখন আমি নিজে হতবাক ও বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। একেই বলে বিবেকবোধ ও সুস্থ মননের নীরব ও বেদনাদায়ক নির্বাসন। তবে চলমান মেরুকরণে আমি আনন্দিত। কারণ, তা অনেক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।
তাই চলমান ধারায় অন্যরা যখন হতাশার অন্ধকার দেখে, আমি আশার বুনন দিয়ে তৈরী আগামীর উজ্জ্বল সকাল দেখি। তাই মন খারাপ করে নয়, অভিমান করে নয়, হতাশ হয়ে নয়, নির্জন যাএাপথে ক্লান্ত হয়ে নয়, বরং স্থির প্রত্যয়, আস্থা ও উদ্দীপনা অবলম্বন করে চাই মুক্তমনাদের সমবেত সাহসী পদযাএা। কথাগুলো যদি মনকে নাড়া দেয়, আর মন যদি ধর্মান্ধতার সংস্কার ভেঙ্গে নতুন প্রত্যয়ে বাংলাদেশকে সাজাতে থাকে, তাহলে হতাশা কেন? তাহলে সবকিছুতে অবিশ্বাস কেন? কারণ, আমিও বলি হবেই হবে। তার প্রতিধ্বনি তো আমি শুনি সর্বএই।
"নিশিদিন ভরসা রাখিস, ওরে মন, হবেই হবে।
যদি পণ করে থাকিস, সে পণ তোমার রবেই রবে।
ওরে মন, হবেই হবে
...ঘন্টা যখন উঠবে বেজে দেখবি সবাই আসবে সেজে-
এক সাথে সব যাএী যত একই রাস্তা লবেই লবে"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



