ধর্মবোধ আজকালকার আলোচনায় এতো প্রবল ও সংবেদনশীল যে এর ব্যতিক্রমী ভাবনা অত্যন্ত গর্হিত ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি যতটা স্বতস্ফুর্তভাবে অনুসরণের তার চেয়েও বেশী জোর করে আদায়ের। ধর্মবিশ্বাস হচ্ছে নি:শর্তভাবে সমর্পন ও এর মধ্যে আধো বিশ্বাস ও আধো যুক্তির অদ্ভূত মিশাল রয়েছে। তাই যুক্তির কস্টিপাথরে ধর্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে গেলে তার মধ্যে তর্ক-বিতর্কের মাএা অনেক বেশী বাড়ে। কারণ, যুক্তির কাছে মাথানত করলে ইবলীসকে আদমের নিকট নতজানু হওয়ার প্রশ্ন ছিল না। এই সহজ সমীকরণটা বুঝার মতো ধার্মিকের সংখ্যা অতি দ্রুত কমছে।
ধর্মবোধ যতোটা না সমর্পনের তার চেয়ে তার প্রদর্শনের মাএাটা অনেক বেশী বলে মনে হয়। সেজন্য আমার আগের লেখায় অনেকবার বলেছি, মানুষ যখন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে আর ধর্মের লেবাস পড়ে অধর্মের কাজ করে তখন ধর্মবোধটা অতি নীরবে মনের খাঁচা থেকে পালিয়ে যায়। নির্বিচারে গণহত্যা করে, নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করে, নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নিয়ে, মানুষের রগ কেটে অনেকে গর্বিত মনে স্বর্গ দর্শন কল্পনা করলেও তাদের জন্য নরকের আগুণ পৃথিবীতে আর পরকালে অবধারিত হয়ে আছে। ধর্ম দিয়ে উওেজনা ও জেহাদী জোশ তৈরী খুব সহজ। কিন্তু ধর্মের কাছে সমর্পিত হয়ে মানুষের সেবা করে মানবতার পতাকাকে সমুন্নত করে সৃস্টিকর্তার কাছাকাছি যাওয়া অনেক অনেক বেশী কঠিন।
বিষয়টা ধর্মান্ধরা না বুঝলেও ধর্মভীরুরা ঠিকই বুঝবে। হাল ফ্যাশনে পশ্চিমে যীশুকে যৌনতার ভারিক্কি দিয়ে খৃস্টীয় তরুণ বিশ্বাসীদের কাছে নেয়ার চেস্টা হচ্ছে। ধারাটা আমাদের বাংলাদেশের পটভূমিতে মৌলবাদীরা রপ্ত করার চেস্টা করছেন। আজকাল অনেকে আবার তামাটে রং দিয়ে কিছুটা লাস্যময়ী ভাব দিয়ে ধর্ম প্রচারে নেমেছেন। কোথায় যেন একবার আমি লিখেছিলাম, যখন অতি আধুনিকতার মাঝে (পশ্চিমা ধারায়) বিষাক্ত ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদ বাস করতে পারে সেখানে তার সমান্তরালে অতি সাদামাটা চিরায়ত ঘরোয়া জীবণধারায় ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃস্টান্তযোগ্য ও সহজবোধ্য অনুশীলনও বিকশিত হতে পারে।
বাংলাদেশে ধর্মের নাম ও মুখোশ পড়ে যে পরিমাণ অপকর্ম রাজাকার-জামাতীরা করেছে, র্ধেমর কথা বলা, দাওয়াত দেওয়া ও ধর্মবোধ প্রচার করার কোন নৈতিক ও ধমর্ীয় অধিকার তাদের নেই। যারা 71'এ নৃশংস ভাবে ধর্মের নামে বাঙ্গালীদেরকে নিধন করেছে তারা আমাদের ধর্মের জন্য কলংক। যেখানে ধর্মভীরুরা গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, ধর্ম সম্পর্কে কোন বল প্রয়োগের সুযোগ নেই, সেখানে ধর্মের নামে মানুষ নিধন ও নির্যাতনের অপকর্ম করে ধর্মান্ধ রাজাকার-জামাতীরা এধর্মেরই বলাৎকার করেছে। তাই, এরা কখনও যদি ধর্মের নামে দাওয়াতের কথা বলে পরকালের কথা বলে তখন সশব্দে কথার কড়া হাতে মুখোশ লাগানো বদনে চপেটাঘাত দিয়ে বলবেন, "নিবের্াধের স্বর্গ দর্শনের প্রয়োজন নেই, কারণ বাংলাদেশের লাখো শহীদদের রক্তেভেজা নৃশংস হায়েনাদের মুখে ধর্মের কথা আমার ধর্ম ইসলামকে অপবিএ করে"।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



