ভয়ের সাথে বসবাস। বাসা থেকে বেরোলেই ভয়। ফোন বাজলেও ভয়। পুরো দেশটা জয় করেছে সর্বনাশা ভয়। সবচেয়ে বেশী ভয়ে বাস করে রাজনীতিবিদরা। ভয় হচ্ছে ক্ষমতায় থাকা যাবে কি-না, ভয় হচ্ছে ক্ষমতায় আসা যাবে কি-না তাই নিয়ে। তাই ভাবলাম ভয়কে জয় করার কিছু রসদ এখানে সাজিয়ে দিলে অনেকের বড্ডো উপকার হবে।
সকল সংকট ও আতঙ্কের কারণ এই অশরীরি ভয়। ভয় হচ্ছে প্রকাশ নিয়ে, ভয় হচ্ছে উচ্ছ্বাস নিয়ে, ভয় হচ্ছে নানাহ প্রচার-প্রচারণা নিয়ে। রাজনীতিবিদদের ভয় হচ্ছে দাবী-দাওয়া নিয়ে। কি দাবী মানতে গিয়ে আবার কি বিপওি এসে জুড়ে বসে? যারা জনপ্রিয় বেশী তাদের ভয় আরও বেশী। হঠাৎ যদি সব জনপ্রিয়তা উবে যায়। ভয় হচ্ছে দূর্বলতার। মনে আছে, ছোটবেলায় ভয় পেলে জোরে জোরে কথা বলতাম বা গান গাইতাম। ভাবটা এরকম, এতে ভয় কেটে যাবে। আমাদের রাজনীতিবিদদের ভাবসাবও সেরকম। না হলে, যারা এওো জনপ্রিয়, তাদের ভয় কিসের? দাবী মেনে নিলেই কি তারা হেরে যাবে? তাদের এই ঠুনকো ভয় তাদেরকে ঠেলে দেয় সংঘাতের দিকে। অন্যদের ভয় দেখিয়ে তারা নিজেদের ভয় তাড়াতে চায়। এধরণের ভয়ার্ত আর সন্ত্রস্ত রাজনীতিবিদরা ভয় তাড়াবার জন্য পেশাদারী সাহায্য নিতে পারেন। সেরকম একটা রিসোর্স হচ্ছে: http://www.freedomfromfear.org/
সাধারণের জনগণের ভয়ের ধরণ অন্যরকম। তাদের ভয় হরতালের, ভয় পুলিশের, ভয় র্যাবের, ভয় মারদাঙ্গা মাস্তানদের। ভয় মূল্যবৃদ্ধির। ভয় আত্মমর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখার। এরকম ভয়ের মাঝে নির্ভয়ে আমরা সুস্থ থাকি কিভাবে? সাধারণ মানুষদের ভয়ের জন্য তেমন কোন রসদ আমি দিতে পারব না। যেখানে লবণ আনতে গিয়ে পান্তা ফুরোয় সেখানে ভয় তাড়ানোর বাড়তি রসদ জোগাড় করার মতো বিলাসিতার সুযোগ কোথায়? তাই তাদের জন্য বিনা মূল্যে রবীন্দ্র মঙ্গলবার্তা দিয়ে দিলাম, সকাল-বিকেল তা অন্তরস্থ করে নিয়তি জয়ের সংগ্রামে তারা এগিয়ে আসুক:
"এ দুর্ভাগ্য দেশ হতে, হে মঙ্গলময়,
দূর করে দাও তুমি সর্ব তুচ্ছ ভয়-
লোকভয়, রাজভয়, মৃতু্যভয় আর।
দীনপ্রাণ দুর্বলের এ পাষাণভার,
এই চিরপেষণযন্ত্রণা, ধূলিতলে
এই নিত্য অবনতি, দন্ডে পলে পলে
এই আত্ম-অবমান, অন্তরে বাহিরে
এই দাসত্বের রজ্জু, ত্রস্ত নতশিরে
সহস্রের পদপ্রান্ততলে বারম্বার
মনুষ্যমর্যাদাগর্ব চিরপরিহার_
এ বৃহৎ লজ্জারাশি চরণ-আঘাতে
চূর্ণ করি দূর করো। মঙ্গলপ্রভাতে
মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে
উদার আলোক-মাঝে, উন্মুক্ত বাতাসে"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



