somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উওাল নেপালে রক্ত ঝড়ছে:

২৩ শে এপ্রিল, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আনন্দ ও বিজয়ের খবর আসছে নেপাল থেকে। স্বৈরাচারী নেপালী রাজা কোণঠাসা হয়ে আছেন। অপেক্ষা শুধু সময়ের। গণতন্ত্রের দাবীতে নেপালে এগিয়ে এসেছে জনতার উওাল সমুদ্র। গত আঠারো দিন ধরে চলছে জনতার আন্দোলন। নেপালীদের জন্য আমার একটা অন্যরকম আবেগ আছে। তা যে শুধু হিমালয়ের চূড়ার জন্য বা আমার প্রিয় নায়িকা মনীষা কৈরালার জন্য, তা নয়। নেপালীরা খুব সহজ সরল ধরণের মানুষ। পড়াশুনার জন্য দেশের বাইরে যখন ছিলাম, বেশ কিছু ভাল নেপালী বন্ধু পেয়েছিলাম। দেশী খাবারের অভাব অনেকটা পূরণ করে দিত তাদের মাংসহীন সব্জী ব্যঞ্জন ও চমৎকার ঝাল আচার দিয়ে গরম ভাত। তাদের সেই অতি আতিথেয়তার কথা কখনো ভুলব না।

আমার সেই প্রিয় নেপালীদের দেশে এখন গণতন্ত্রের জন্য উওাল আন্দোলন চলছে। আজকের দৈনিক ইওেফাকের রিপোর্টে বলা হয়, "নেপালে রাজার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজা জ্ঞানেন্দ্র'র সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হচ্ছে। প্রতিবাদী জনতা যেভাবে কারফিউকে তাচ্ছিল্য করে রাজপথে নামছে তাতে দেশে কারফিউ কিংবা জরুরী অবস্থা চিরতরে অকার্যকর হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বিবিসি জানায়, কারফিউ মানতে বাধ্য করবে যে পুলিশ সেই পুলিশকেই ঢাল নেড়ে বিক্ষোভকারীদেরকে সমর্থন জানাতে দেখা গেছে! রাজার জন্য এটি সবচে বড় দুঃসংবাদ বলে মনে করছেন দেশী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। রাজধানী কাঠমান্ডুতে দেশের সব মোবাইল ফোন কোম্পানীর সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শনিবার বিকাল থেকেই। রাজার প্রাসাদকে জনরোষের হাত থেকে বাঁচাতে রীতিমত সমরসাজে সজ্জিত করে হাজার হাজার নিরাপত্তারক্ষীকে প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে প্রাসাদের চারপাশ ঘিরে। উল্ল্ল্লসিত জনতার বর্তমান শ্লোগান, 'রাজার পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে'!

উল্লেখ্য, বিক্ষোভকারী জনতাকে থামাতে রাজা জ্ঞানেন্দ্র গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ভাষণে জনতার হাতে দেশের নির্বাহী ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করে বিরোধীদের উদ্দেশে একজন প্রধানমন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানান। রাজার এই ঘোষণা নেপালের জনগণ তাদের বিজয় হিসেবে ধরে নিলেও রাজার চূড়ান্ত পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। রাজার ক্ষমতা লিপ্সাা এবং লাঠির জোরে দেশ শাসন করার মনোভাব দেশবাসীকে এতটাই ক্ষুব্ধ করে তোলে যে, তাদের বর্তমান দাবি দেশের রাজতন্ত্রের পুরোপুরি বিলোপ!

মাওবাদী সন্ত্রাসীদের দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে নেপালের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাকে বরখাস্ত করে জ্ঞানেন্দ্র দেশের সর্বময় ক্ষমতা দখল করে নেন 2005 সালের ফেব্রুয়াারি মাসে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাজার ক্ষমতা সবচে' বেশি হলেও গণতান্ত্রিক সরকারের দ্বারাই দেশ শাসিত হয়। বিশ্বের যেসব দেশে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র চালু আছে সেসব দেশে কাগজে-কলমে রাজা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তাই বলে এই 'সর্বময় ক্ষমতা' দেখাতে গিয়ে একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে 'বরখাস্ত' করার যে দুঃসাহস রাজা জ্ঞানেন্দ্র দেখিয়েছিলেন তা নেপালের জনগণ মেনে নিতে পারেনি। শুধু জ্ঞানেন্দ্র নয়, ভুক্তভোগী নেপালীরা আর কোনো রাজাকেই বিশ্বাস করতে এবং সুযোগ দিতে রাজী নয়। রাজার ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাবের পর তাদের আন্দোলনের নতুন দাবি এখন 'রাজতন্ত্রের পতন'। এখন শুধু বাকী সময়ের"।

আমার খুব মনে পড়ছে মার্কোসের পতনের কথা। মনে পড়ছে, আমাদের লে জে হো মো এরশাদের পতনের কথা। জনগণ যখন জেগে উঠে কোন পুলিশী শক্তি ও অস্ত্র তখন স্বৈরাচারকে রক্ষা করতে পারে না। নেপালের রাজা অনেক বেশী দেরী করে ফেললেন। গরীব নেপালের লোভী রাজা অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবণ-যাপন করেন আর সেখানকার রাজপ্রাসাদ হচ্ছে দূর্নীতির আখড়া, সেখানে মানুষগুলো আর কতোদিন ভূগবে? তার চেয়েও বড়ো কথা হচ্ছে, জ্ঞানেন্দ্র'র হাতে তাদের জনপ্রিয় রাজার রক্ত আছে বলে যে সন্দেহ তা তীব্রভাবেই নেপালীরা বিশ্বাস করে। হত্যাকারীর রক্তাত্ব হাত যে কখনো নিয়তির নিষ্ঠুর পরিণতি থেকে নিস্কৃতি পায় না, সেটাতো ইতিহাসের পাতা উল্টালে খুব ঘন ঘন চোখে পড়ে। উওাল জনতার সমুদ্র স্বৈরাচারকে খুব সহজেই কাবু করতে পারে, ছুঁড়ে ফেলতে পারে ইতিহাসের আবর্জনায়। নেপালের জনগণ সেই অনিবার্য জয়ের দিকে এগোচ্ছে। নেপালে গণতন্ত্র মুক্তি পাক। গণতন্ত্র মুক্তি পাক বিশ্বের সর্বএ যেখানেই রাজতন্ত্র অথবা গণতন্ত্রের খোলসে স্বৈরাচারী নিপীড়ন চলছে...দূনর্ীতি চলছে...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×