ইসলামী দল হিসেবে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশে একটি বিশেষ অবদান রেখে আসছে। এই বিশেষ অবদান সম্পর্কে আমাদের নতুন প্রজন্মের অনেকে খুব একটা সজাগ নয়। সহজ ভাষায় জামাতী দাওয়াতের স্বরূপ তুলে ধরা হচ্ছে এ লেখার মূল উপজীব্য। ধর্ম দিয়ে রাজনীতি করে যে ইসলামী জীবণ ধারা প্রবর্তন করা যায় তা হচ্ছে জামাতী চিন্তাধারার মৌলিক বৈশিস্ট্য। ক্যাডার ভিওিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতীরা তাদের সদস্যদের অন্ধ সমর্থন-সমর্পনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ইসলামে এধরণের রাজনৈতিক ধারার অস্তিত্ব আদৌ আছে কি-না এধরণের সন্দেহ পোষণ করা মাএই জামাতীরা অত্যন্ত বিচলিত ও খড়গহস্ত হয়ে পড়ে। শুরু করে ব্যক্তিগত আক্রমন। সীল মেরে দেয় আওয়ামী লীগের এজেন্ট বলে। তারা প্রমাণ করে শেখ সাদীর সেই অমোঘ বাণী, 'যারা মুখে পারে না, তারাই করে হাতের ব্যবহার'।
এখানে আমি তাতি্বক কোন আলোচনার সূএপাত করব না। ধর্ম হিসেবে ইসলামে রাজনৈতিক দলের কোন ব্যবস্থাপএ নেই। ইসলামে বিশ্বাসীদেরকে সবসময় সমর্পিত হয়ে সৎ পথে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর কোন ব্যতিক্রম নেই। ধর্ম অনুশীলনের জন্য রাজনৈতিক দলের সদস্যপদের প্রয়োজন নেই। তাই, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতে ইসলামীর আবির্ভাব একটি বিভ্রান্তি। মুসলমানদের মধ্যে ভাঙ্গন, অনৈক্য ও অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃস্টি করা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। তাই জামাতে ইসলাম ইসলামের ধমর্ীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে কেবল মুসলমানদের মধ্যে ভাঙ্গন, বিভেদ ও কলহ-বিবাদের সৃস্টি করেছে এবং করছে। তাই, তাদের এই ভ্রান্তির হাত থেকে মুসলমানদের আকীদা রক্ষা করা অপরিহার্য।
জামাতে ইসলামীর ধমর্ীয় বিচার-বিশ্ল্ল্লেষণে প্রচুর অসঙ্গতি ও ভ্রান্তি বিরাজ করে। তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীর কোরান শরীফের স্বরচিত অনুবাদ তাফহীমুল কোরান যথেস্ট ভুল ভ্রান্তিতে ভরা। মওদুদীর চিন্তা-ভাবনা তাইমিয়া ও ওয়াহাবী ভাবনার অনুসারী। তাইমিয়ার ধমর্ীয় ব্যাখ্যা মৌলবাদী ভাবনার মূল ভিওি। মিশরীয় সাইয়েদ কুতুবের লেখাও জামাতীদের মূল পাঠ্য। সাইয়েদ কুতুবের ভাবনা মিশরে জন্ম দেয় নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুড। মৌলবাদী ধারার বিস্তার সম্পর্কে বিশদ আলোচনা ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করছেন সুপ্রিয় শোহেইল মোতাহের চৌধুরী তার বাংলা ব্ল্লগে।
জামাতে ইসলামীর সবচেয়ে বড়ো অপরাধ হচ্ছে তারা ইসলামের নাম দিয়ে নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। মানুষ হত্যার এই জঘণ্য অপরাধ থেকে বিভিন্ন অপকৌশলে মুক্তি পেলেও তারা পরকালে ও ধমর্ীয় বিচারে কখনও মুক্তি পাবে না। 1971 সালে তাদের নৃশংস ও ধিকৃত ভূমিকার সচিএ বিবরণ পড়তে চাইলে আমি আপনাদের অমি রহমান পিয়ালের ব্ল্লগ পড়তে বলব।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তাদের কোন সুস্পস্ট বক্তব্য নেই। নীচের লেখায় তারা দাবী করে, "বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে" অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদী। বাংলাদেশের অভু্যদয় সম্পর্কে খুবই যৎসামান্য ও ভাসাভাসাভাবে তাদের ওয়েবপেজে বলা হয়েছে:
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



