ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক সদ্য কারামুক্ত আলেম মওলানা ফরীদউদ্দীন মাসউদ গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে এসব কথা বলেছেন।
রিপোর্টার্স ইউনিটির ভিআইপি মিলনায়তনে 'আলামা ফরীদউদ্দীন মাসউদ ফাউন্ডেশন' আয়োজিত অনুষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতার নামে জোট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ফরীদউদ্দীন মাসউদ আরো বলেন, জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী কোনো আলেম ছিলেন না। মওদুদী ছিলেন ইসলামের লেবাসধারী মানবতাবিরোধী এক ধর্ম ব্যবসায়ী।
বাংলাদেশে জামাতের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, '71 সালে আমরা দেখেছি এই বিষধর জামাতের বীভৎস রূপ। স্বাধীনতার পর আনন্দে আমরা ভুলে গিয়েছিলাম বিষধর এই সাপের কথা। তাই আজ আমরা আবার সেই সাপের মুখোমুখি হয়েছি। তিনি বলেন, জামাত অল্পবয়সী দরিদ্র ছেলে ও গ্রামের সরলপ্রাণ মানুষকে রিক্রুট করে মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে তাদের এমনভাবে তৈরি করে যখন তারা আর মানুষ থাকে না। তিনি আরো বলেন, জামাতের সংশ্রবে এলে মানুষ আর মানুষ থাকে না। কারণ জামাতিরা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত অপশক্তি।
জঙ্গিবাদের জন্য জামাতকে দায়ী করে মওলানা মাসউদ বলেন, বাংলাদেশে জামাত ছাড়া এমন কোনো শক্তিশালী সংগঠন নেই যারা এতোবড়ো জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড চালাতে পারে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগ করা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামাতকে অন্তভর্ূক্ত করা হয়েছিল বলেই আমি পদত্যাগ করেছিলাম। আওয়ামী ওলামা লীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা_ এমন এক প্রশ্নের জবাবে মাসউদ বলেন, এটা মূলত জামাতের অপপ্রচার। আমি কোনো রাজনৈতিক দল করি না। তবে আমি অবশ্যই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজন মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে আমি মানবতার পক্ষের মানুষ বলে মনে করি। আর এটাই জামাতের গাত্রদাহের কারণ। জামাতের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মওলানা মাসউদ বলেন, বাংলাদেশ তথা বাঙালির অস্তিত্বকে যদি রক্ষা করতে চাই তাহলে জামাতকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই"।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



