somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার স্কুল জীবণ:

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৬ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"জামাতী দাওয়াত" নিয়ে সকাল বেলা থেকে মন্তব্য চালাচালি করতে গিয়ে কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলাম। তাই বলে ছুটির দিনে স্মৃতি চারণ নিয়ে লেখালেখির নিয়মিত কলামটা নির্বাসন দেয়া সমীচিন হবে না। আজকের আলাপন আমার স্কুল জীবণ নিয়ে। অতীতের স্মৃতি সত্যি খুব সুখকর, এধরণের স্মৃতিতে বাস করে এক ধরণের নস্টালজিয়া। মনে হয়, এখন যদি আবার নতুন করে স্কুল জীবণের সেই রঙ্গিন দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম, কি মজাই না হতো? পুরনো দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনতে না পারলেও ফেলে আসা মুহুর্ত্বগুলোকে রোমন্থন করার মধ্যে একধরণের আনন্দ বাস করে।

আমার স্কুল জীবণ কাটিয়েছি ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে। আবাসিক স্কুল হলেও অনাবাসিক ছাএ হিসেবে আমি লেখাপড়া করতাম। 1960 সালে 50 একর জমির উপর ঢাকার মোহাম্মদপুরে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলের প্রধান আকর্ষণ ছিল এখানকার বিস্তৃত সবুজ মাঠ, বিশাল বিশাল গাছঘেরা ভবন, ফুলের বাহারি বাগান। সাদা ইউনিফর্ম। নিয়ম-শৃংখলা। নিয়মিত সংস্কৃতি চচর্ার সুযোগ। সাপ্তাহিক পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতিযোগিতা। নিয়মিত শরীর চর্চা। সাপ্তাহিক কুচকাওয়াজ ব্যান্ডের তালে তালে। আমাদের সময়ে অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন এক কর্নেল প্রিন্সিপাল। অন্তত: তার সামরিক মেজাজ-মর্জি ও আদব-কায়দার বেশ আকর্ষণীয় ও বাধ্যবাধকতামূলক অনুশীলন এখনও মনে খুব নাড়া দেয়। মনে পড়ে, স্কুল ভবনে যাওয়ার জন্য রাস্তা ব্যবহার না করে খেলার মাঠের ভেতর শর্টকাট মারার জন্য ধরা পড়া ও শাস্তি পাওয়ার কথা। গরমের সময় প্রিন্সিপ্যাল স্যারের আবাসিক ভবনের গাছ থেকে আম চুরি করা বা রাতের বেলা আবাসিক ভবন থেকে পালিয়ে শ্যামলী হলে মুভি দেখার রোমাঞ্চকর অভিযানের কথা শুনে টিফিন পিরিয়ড কাটানো। বিকেল বেলা খেলার পর অলস হাঁটাহাঁটি। আহা কি চমৎকার ছিল সেদিনগুলো!!! বড্ডো মিস্ করি। টিফিন ব্রেকে নিয়মিত সিঙ্গারা/বিস্কিট বিতরণ ও অতি উপাদেয় চা খেয়ে আড্ডা মারতে মারতে আবার ঘন্টা ধরে ক্লাশে বসা।

মডেল স্কুলের সেই আমেজ অনেক দিন আগেই হারিয়ে গেছে। অনেক বেশী ছাএ ও শীফ্ট দিয়ে এখন আমার প্রিয় স্কুলটি জনাকীর্ণ হয়ে গেছে। অনেক স্মৃতি এসে খুব নাড়াচাড়া করছে। মনে পড়ছে আমাদের খেলার স্যার শ্রদ্ধেয় সালাম স্যার ছাএদের সাথে দৌড়ানোর প্র্যাকটিসের এক মুহুর্তে প্রিয় ছাএদের ফেলে চিরতরের জন্য বিদায় নিলেন। খুব শাসন আর স্নেহ করতেন সালাম স্যার। আমাদের সময় রাস্ট্রপতি জিয়ার তনয়দ্বয় কিছুদিন এখানকার ছাএ ছিল। খুব সম্ভবত রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণে তাদেরকে বিদায় নিতে হয়েছিল। যদ্দুর মনে পড়ে, সেজন্য অন্তত: প্রিন্সিপ্যালকে কোন শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক পোস্টিংএ কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া হয়নি। এখানেই পার্থক্য এখনকার বিএনপি নেতৃত্বের সাথে তাদের নেতা জিয়ার মৌলিক পার্থক্য। এটা বুঝার মতো মানুষের বড্ডো অভাব। আমার স্কুল জীবণের আরও কিছু স্মৃতি আগামীদিনের জন্য তুলে রাখলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা আসলে কত দিনের?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

একটি ১২ ঘণ্টার প্যারোল, একটি শেষ বিদায় এবং ক্ষমতার অনিত্যতার নির্মম শিক্ষা

“পুলিশ ভাই, আমাকে তো এখনই নিয়ে যাবেন, আমি দুই মিনিট ফ্যামিলির সঙ্গে কথা বলি?”

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×