রাতের ক্লান্ত ঢাকা শহর সূর্যের আলোর সাথে সাথে জেগে উঠে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ে। রিকশা, বাস, গাড়ী আর পথচারি মানুষের কোলাহলে সকাল বেলা জীবণের আরেকটি দিন শুরু হয়। সবার মনে ভাবনা, কোনভাবে আজকের দিনটা যদি ভালোয় ভালোয় যায়। এরকম ভাবনার মধ্যে সময়-দু:সময়কে সঙ্গী করে শুরু হয় প্রাত্যাহিক পথচলা। সকালের এই যাএাপথে ঘর থেকে দু'পা ফেলার আগে মনে পড়ে জীবনানন্দ দাশের কবিতার ক'টি পং্িক্তমালা:
"জানি না কোথাও শুভ বন্দর রয়েছে কিনা;
কোথাও প্রাণের কল্যাণ-সূর্যালোক আছে?
কোথাও এ-অসময় সময়ের নদী পার হওয়া যায়?
পার হলে সাগর কি শান্তি আলো মুক্তির ভেতরে
যাত্রীকে আশ্বাস দেয়"...?
নাহ্, মুক্তির কোন আশা নেই। জীবণের ঘানি টেনে বেড়াতেই হবে। নিস্কৃতি নেই। তাই, টানতেই যখন হবে তখন আনন্দ ও প্রত্যাশার অনুভূতি নিয়েই টেনে যাওয়া উচিত। হতাশ ও বেদনাহত হয়ে কস্ট বাড়ানোর কোন কারণ নেই। আজকাল বিকলাঙ্গ ও রুগ্ন ভাবনাগুলো উল্লাস করে। শকুনের মতো হাঁকডাক দেয়। রক্তাত্ব হাতগুলো বিজয়ীর হাত বলে আস্ফালন করে। অন্যরা এরকম ভাবনায় যখন ক্রোধে-ঘৃণায় ধিক্কার দিয়ে উঠে, আমি বলে উঠি সকল ক্রোধ-ঘৃণা আলোকিত করুক সকল হূদয়কে, সকল চেতনাকে এই অপশক্তি ও অপচ্ছায়ার বিরুদ্ধে। রক্তাত্ব হাত কখনো পবিএ হতে পারে না। কখনো পরিএান পেতে পারে না। তাদের অপরাধবোধ নীরবে তাদের তাড়িয়ে বেড়ায় নারকীয় প্রান্তরে। তাই যারা মুক্তমনা তাদের জন্য সকালের রৌদ্রের স্বর্ণচ্ছটার মতো একঝাঁক প্রত্যাশা মঞ্চস্থ করতে চাই। আজকের সকালটা তাই অন্যরকম। ভাবনার জড়তা ও বন্ধনমুক্তির জন্য রবি ঠাকুরের কবিতার ক'টি লাইন আওড়াতে থাকি আজকের সকালে
:
"জয় হোক, জয় হোক নব অরুণোদয়।
পূর্বদিগঞ্চল হোক জ্যোতির্ময়
এসো অপরাজিত বাণী, অসত্য হানি_
অপহূত শঙ্কা, অপগত সংশয়
এসো নবজাগ্রত প্রাণ, চিরযৌবনজয়গান।
এসো মৃতু্যঞ্জয় আশা জড়ত্বনাশা_
ক্রন্দন দূর হোক, বন্ধন হোক ক্ষয়"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



