বাংলাদেশে সবকিছুর জন্য আন্দোলন করতে হয়, মামলা করতে হয়। কিন্তু কেন? দেশের স্বার্থে আর দশের স্বার্থে আন্দোলন আর মামলা করতে হবে কেন? তাহলে সরকার কেন? প্রশাসন কেন? সরকার যদি নিষিদ্ধ করে কোন জাহাজের নোঙ্গর তাহলে কার প্রশ্রয়ে বিষাক্ত জাহাজ আলফা এখন চট্রগ্রামে বহির্নোঙ্গরে অবস্থান করছে? বাংলাদেশের ন্যাশনাল স্টীলকে সরকার অনুমতি দেয়নি এই জাহাজ এদেশে আনার? কে করবে অনুসন্ধান? কে দিবে শাস্তি? আমরা ক'জন লিখব, পরিবেশবাদী আইনবিদ সমিতি আদালতে মামলা করবে, কোর্টে রায় হবে, তারপর জাহাজটি বিদায় নিবে- এধরণের নাটক কেন বারবার মঞ্চস্থ হয়?
দৈনিক ইওেফাক এপ্রিলের 29 তারিখে লিখছে, "সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে আরো একটি বিষাক্ত বর্জ্যবাহী পরিত্যক্ত জাহাজ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে এসে পেঁৗছেছে। বাহামার পতাকাবাহী অয়েল ট্যাংকার আলফাশীপ নামের এ জাহাজটিকে চট্টগ্রাম শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙ্গার জন্য আনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই জরুরী বার্তা পাঠিয়ে এ জাহাজকে বাংলাদেশে যেন থাকতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। বিষাক্ত পদার্থবাহী অয়েল ট্যাংকার আলফাশীপের পূর্বের নাম ছিল আলফা আমেরিকা। এখন হয়েছে আলফাশীপ। বিশ্বের পঞ্চাশ বিষাক্ত জাহাজের তালিকায় স্থান পাওয়া এ জাহাজটি এখন সকল আইন উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বহির্নোঙ্গরে অবস্থান নিয়েছে। 1979 সালে আলফা আমেরিকা তৈরি করা হয় জাপানের নাগাসাকীর একটি জাহাজ তৈরির কারখানায়। 87 হাজার 368 টন ক্ষমতাসম্পন্ন এ জাহাজটির প্রথম মালিক গ্রীসের একটি কোম্পানী। নাম পোলেমব্রোস শিপিং লিঃ 2002 সালে তেল জাহাজটিকে কিনে নেয় ফিনল্যান্ডের লওকুয়েস্ট রেডরিয়ানা লিমিটেড। তারপরই আগের নাম বদলে ফেলা হয়। ফিনল্যান্ডের এই কোম্পানির হয়ে 2005 সালের 28 আগস্ট রাশিয়ায় সেন্ট পিটার্সবার্গে সর্বশেষ নোঙ্গর ফেলে এ জাহাজ। এরপর থেকেই পরিত্যক্ত করে দেয়া হয় জাহাজটিকে। জানা গেছে, ফিনল্যান্ডের ঐ কোম্পানিটির মূলকাজ জাহাজ কিনে বছর কয়েক পরে পরিত্যক্ত করে বিক্রি করে দেয়া। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক পদার্থবাহী এ জাহাজটিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার আগে চট্টগ্রাম জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের ন্যাশনাল স্টীল নামের একটি প্রতিষ্ঠান অনুমতি চায় সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কাছে। কিন্তু বিষাক্ততার কারণে এ জাহাজকে বাংলাদেশে আসার কোন অনুমতিই দেয়নি সরকার। কিন্তু কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে এ জাহাজ অবস্থান নেয় চট্টগ্রাম বহির্নোঙ্গরে"।
বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে প্রায় দু'লাখ লোক কাজ করে, আয় হয় প্রায় 100 মিলিয়ন ডলার। মোট স্টীল উৎপাদনের আশি ভাগ এখান থেকে আসে। কিন্তু তার বিনিময়ে এতো বেশী সংখ্যক বিপজ্জনক, ঝুঁকিপূর্ণ ও বিষাক্ত পুরনো জাহাজ কেন আমদানি করা হবে? গুটিকয়েক কোটিপতির স্বার্থে দেশের সমুদ্র উপকূলকে এভাবে বিষাক্ত করা হবে কেন? পৃথিবীর অর্ধেকের বেশী সুপার ট্যাঙ্কার জাহাজ বাংলাদেশে কেন ভাঙ্গার জন্য আসে? তার আর্থিক মূল্যের চেয়েও পরিবেশগত মূল্য নির্ধারণ করা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। এসম্পর্কে ফরেন পলিসি জার্নালের সচিএ প্রতিবেদন দেখতে চাইলে ক্লিক করুন: http://tinyurl.com/d8e2q প্রয়োজন আরও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এসম্পর্কে। এব্যাপারে আড্ডায় "সরকারের শুভবুদ্ধি" নামে আরেকটি লেখা প্রকাশ পায় ফেবু্রয়ারীর 18 তারিখে। আপনারা এব্যাপারে বিশদ জানলে আরও তথ্য যোগ করে আমাদের সচেতন করবেন কি?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



