প্রতি বছরের মতো মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিস্তার নিয়ে সরকারী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে অংশটুকুর বেশীর ভাগ দখল করে রেখেছে জেএমবি'র কর্মকান্ড ও সরকারের সীমিত সফলতার চিএ। গত সপ্তাহে এপ্রিলের 28 তারিখে ওয়াশিংটন ডিসিতে বেশ ঘটা করে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সারা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান, বিস্তার ও প্রতিরোধ নিয়ে আলোকপাত করা হয় এই প্রতিবেদনে। বাংলাদেশের ব্যাপারে জেএমবি'র বিরুদ্ধে সরকারের সীমিত সফলতার কথা বলা হলেও তার উৎস ও পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তেমন কোন আলোচনা দেখা যায়নি।
ধমর্ীয় উন্মাদনা ও মৌলবাদের কালো থাবা ধর্মীয় সন্ত্রাসের জন্ম দেয় ও একে লালন করে। এই সত্য ধরি মাছ না ছুঁই পানি স্টাইলে অস্বীকার বা উপেক্ষা করলে এর প্রতিরোধ ও দমন সহজ হবে না। যে দেশে বাংলা ভাই পএিকার সৃস্টি, বিরোধী দলও বিদেশী শক্তির ষড়যন্ত্র বলে অহরহ সরকারী মহলে প্রচার পেয়েছে, সেখানে তাদের উৎস সম্পর্কে সরকারের রহস্যজনক নীরবতা এখন সত্যি বেদনাদায়ক। এধরণের দৃস্টিভঙ্গী সন্ত্রাস দমনের সহায়ক পরিবেশ সৃস্টিতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত, দূর্নীতি, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে ঢালাওভাবে দায়ী করা হয় 2005 সালের এই প্রতিবেদনে। এর আগের বছরের প্রতিবেদনেও এই একই চিএ ও সীমাবদ্ধতার কথা প্রতিফলিত হয়। 2004 সালের প্রতিবেদনে অবশ্য সৌদী দু'টি সংস্থা আল হারমাইন ও রাবেতাকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। সন্ত্রাসের উৎস যে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা তাকে চিহ্নিত ও দমন না করলে সাফল্যের সম্ভাবনা স্বভাবতই খুব সামান্য। তাই আমাদের সমবেত সচেতনতার প্রয়োজন এদেশে সন্ত্রাসী চক্র প্রতিরোধে।
যারা সন্ত্রাস নিয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মূল প্রতিবেদনটি পড়তে চান: http://www.state.gov/s/ct/rls/crt/
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০০৬ রাত ১২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



