প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সাধুবাদ জানাতে হয় তার সত্যবাদিতার জন্য। দেশের নেএী হিসেবে যখন অবলীলায় সত্যি কথা বলেন তখন আমরা নাগরিকরা অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হই। দেশের খোঁজ-খবর না রাখলে রাজনৈতিক সাফল্য আসবে না। প্রধান মন্ত্রী সংসদে এক প্রশ্নের উওরে যে বক্তব্য দেন, তাতে অবশেষে সত্য কথাটা প্রকাশ পেল। আজকের সমকাল পত্রিকায় বলা হয়, "প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের সঙ্গে বহিঃশক্তির সম্পর্ক পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সে তথ্য তুলে ধরা হবে। বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জঙ্গিবাদ উত্থানের ও বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাস্ট্র হিসেবে প্রচারের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক শক্তি জড়িত কিনা তা জানতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে শীর্ষ জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা এখন প্রকাশ করা ঠিক নয়। তবে এখন পর্যন্ত জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিদেশী শক্তির সংশ্লিস্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হবে"। অথচ জেএমবি'র সন্ত্রাস চলাকালে প্রধান মন্ত্রী ও তার পারিষদবর্গ বিদেশী শক্তি ও বিরোধী দলকে দোষারোপ করেছেন মৌলবাদী সন্ত্রাসের জন্য। ভাবটা এরকম যে, বিরোধী দল মৌলবাদীদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে নিজেদের গায়ের উপর বোমা ফাটিয়ে কবরে গিয়ে নতুন সরকার গঠন করার পাঁয়তারা করছিল। রাজনৈতিক বিচক্ষণতা লোপ পেয়ে নিবর্ুদ্ধিতা যখন মস্তকে জেঁকে বসে তখন অনেক কথা প্রলাপের মতো শুনা যায়।
প্রধান মন্ত্রী দেখে না থাকলেও দেশবাসী দেখেছে যে, জেএমবি সন্ত্রাসীরা মূল প্রশিক্ষণ ও হাতে খড়ি পেয়েছিল জামাতীদের হাতে। এপ্রিলের 28 তারিখে ভোরের কাগজের প্রতিবেদনে বলা হয়, "সারা দেশে বোমা হামলাকারী উগ্র মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সর্বোচ্চ ফোরাম মজলিশে শুরার গ্রেপ্তারকৃত 7 সদস্যই একসময় জামাতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এদের কেউ কেউ আবার ছাত্রজীবনে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। মজলিশে শুরার 7 সদস্যের মধ্যে দুজনেরই বাবা '71 সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে চিহ্নিত রাজাকার-আলবদর ছিলেন। এদের মধ্যে একজনের বাবা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বন্দী এবং অপর একজনের বাবা মুক্তিবাহিনীর হাতে মারা যান। সূত্র মতে, জেএমবি প্রধান, শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান জামালপুরের কামালখান হাট মাদ্রাসা থেকে পাস করে সৌদি আরবে গিয়ে সেখানকার আল-মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন। '84-85 সালে তিনি আফগানিস্তানে গিয়ে যুদ্ধের ট্রেনিং শেষে মুজাহিদদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশে ফিরে তিনি জামাতের সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে 'রোকন' হন। তার বাবা আব্দুল্লাহ ইবনে ফজল '71-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে আলবদর ছিলেন এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তিনি (শায়খের বাবা) গ্রেপ্তার হন। '98 সালে জামাত থেকে সরে গিয়ে শায়খ জেএমবি গঠন করেন। গত 1 মার্চ শায়খ রহমান সিলেট শহরের জামাত অধু্যষিত এলাকা শাপলাবাগে মহানগর জামাতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসা থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ গ্রেপ্তার হন। তার দেহরক্ষী হানিফ ছিল শিবিরের সাথী।
শায়খের ছোট ভাই, জেএমজির মজলিশে শুরার সদস্য ও সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শিবির নেতা ছিলেন। 2000 সালে জয়পুরহাটের তেলালে এক জঙ্গি সম্মেলনে পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধের পর 18 জন সঙ্গীসহ সানি গ্রেপ্তার হন। জামিনে মুক্ত হয়ে সানি জেএমবির তৎপরতা বাড়াতে মাঠে নামেন। গত 14 ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে র্যাব সানিকে গ্রেপ্তার করে... সূত্র আরো জানায়, জেএমবি ও জামাতের সাংগঠনিক কাঠামো এবং পদায়ন একই স্টাইলের। জামাতের সর্বোচ্চ পদ আমির। জেএমবিরও সর্বোচ্চ পদ আমির। জামাতের সর্বোচ্চ ফোরাম মজলিশে শুরা, জেএমবির সর্বোচ্চ ফোরামও মজলিশে শুরা। জেএমবির প্রথম ধাপে রয়েছেন গায়ের এহসার, আর শিবিরের প্রথম ধাপে রয়েছেন সাথী"।
সত্য কখনো চাপা দিয়ে রাখা যায় না। দেশের স্বার্থে না হোক অন্তত: বিদেশী শক্তির গুতানিতে জেএমবি ধরার সাফল্যে সরকার গর্বিত। গত ক'বছর ধরে বিরোধী দলকে জড়িয়ে যে গান-বাজনা হচ্ছিল সে ব্যাপারে এখন আর উচ্চবাচ্য শুনা যায় না। দেশের স্বার্থে এসম্পর্কে পর্দার আড়ালের ষড়যন্ত্র ও রহস্য জনগণের কাছে তুলে ধরলে অবশ্যই খালেদা জিয়া সরকার সাধারণ নাগরিকদের সাধুবাদ পাবেন। অবশ্য মৌলবাদী চক্রের সাথে সম্মিলিত জোট শক্তির জনগণের সাধুবাদ বা নিন্দাবাদে কিছু আসে যায় না। কারণ, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলে অনেক কিছুই খুব সহজে উপেক্ষা করা যায়। (ক্লোজআপহাসি)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



