somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সত্যবাদিতার জন্য ধন্যবাদ:

০৩ রা মে, ২০০৬ রাত ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সাধুবাদ জানাতে হয় তার সত্যবাদিতার জন্য। দেশের নেএী হিসেবে যখন অবলীলায় সত্যি কথা বলেন তখন আমরা নাগরিকরা অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হই। দেশের খোঁজ-খবর না রাখলে রাজনৈতিক সাফল্য আসবে না। প্রধান মন্ত্রী সংসদে এক প্রশ্নের উওরে যে বক্তব্য দেন, তাতে অবশেষে সত্য কথাটা প্রকাশ পেল। আজকের সমকাল পত্রিকায় বলা হয়, "প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের সঙ্গে বহিঃশক্তির সম্পর্ক পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সে তথ্য তুলে ধরা হবে। বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জঙ্গিবাদ উত্থানের ও বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাস্ট্র হিসেবে প্রচারের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক শক্তি জড়িত কিনা তা জানতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে শীর্ষ জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা এখন প্রকাশ করা ঠিক নয়। তবে এখন পর্যন্ত জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিদেশী শক্তির সংশ্লিস্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হবে"। অথচ জেএমবি'র সন্ত্রাস চলাকালে প্রধান মন্ত্রী ও তার পারিষদবর্গ বিদেশী শক্তি ও বিরোধী দলকে দোষারোপ করেছেন মৌলবাদী সন্ত্রাসের জন্য। ভাবটা এরকম যে, বিরোধী দল মৌলবাদীদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে নিজেদের গায়ের উপর বোমা ফাটিয়ে কবরে গিয়ে নতুন সরকার গঠন করার পাঁয়তারা করছিল। রাজনৈতিক বিচক্ষণতা লোপ পেয়ে নিবর্ুদ্ধিতা যখন মস্তকে জেঁকে বসে তখন অনেক কথা প্রলাপের মতো শুনা যায়।

প্রধান মন্ত্রী দেখে না থাকলেও দেশবাসী দেখেছে যে, জেএমবি সন্ত্রাসীরা মূল প্রশিক্ষণ ও হাতে খড়ি পেয়েছিল জামাতীদের হাতে। এপ্রিলের 28 তারিখে ভোরের কাগজের প্রতিবেদনে বলা হয়, "সারা দেশে বোমা হামলাকারী উগ্র মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সর্বোচ্চ ফোরাম মজলিশে শুরার গ্রেপ্তারকৃত 7 সদস্যই একসময় জামাতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এদের কেউ কেউ আবার ছাত্রজীবনে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। মজলিশে শুরার 7 সদস্যের মধ্যে দুজনেরই বাবা '71 সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে চিহ্নিত রাজাকার-আলবদর ছিলেন। এদের মধ্যে একজনের বাবা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বন্দী এবং অপর একজনের বাবা মুক্তিবাহিনীর হাতে মারা যান। সূত্র মতে, জেএমবি প্রধান, শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান জামালপুরের কামালখান হাট মাদ্রাসা থেকে পাস করে সৌদি আরবে গিয়ে সেখানকার আল-মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন। '84-85 সালে তিনি আফগানিস্তানে গিয়ে যুদ্ধের ট্রেনিং শেষে মুজাহিদদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশে ফিরে তিনি জামাতের সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে 'রোকন' হন। তার বাবা আব্দুল্লাহ ইবনে ফজল '71-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে আলবদর ছিলেন এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তিনি (শায়খের বাবা) গ্রেপ্তার হন। '98 সালে জামাত থেকে সরে গিয়ে শায়খ জেএমবি গঠন করেন। গত 1 মার্চ শায়খ রহমান সিলেট শহরের জামাত অধু্যষিত এলাকা শাপলাবাগে মহানগর জামাতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসা থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ গ্রেপ্তার হন। তার দেহরক্ষী হানিফ ছিল শিবিরের সাথী।
শায়খের ছোট ভাই, জেএমজির মজলিশে শুরার সদস্য ও সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শিবির নেতা ছিলেন। 2000 সালে জয়পুরহাটের তেলালে এক জঙ্গি সম্মেলনে পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধের পর 18 জন সঙ্গীসহ সানি গ্রেপ্তার হন। জামিনে মুক্ত হয়ে সানি জেএমবির তৎপরতা বাড়াতে মাঠে নামেন। গত 14 ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে র্যাব সানিকে গ্রেপ্তার করে... সূত্র আরো জানায়, জেএমবি ও জামাতের সাংগঠনিক কাঠামো এবং পদায়ন একই স্টাইলের। জামাতের সর্বোচ্চ পদ আমির। জেএমবিরও সর্বোচ্চ পদ আমির। জামাতের সর্বোচ্চ ফোরাম মজলিশে শুরা, জেএমবির সর্বোচ্চ ফোরামও মজলিশে শুরা। জেএমবির প্রথম ধাপে রয়েছেন গায়ের এহসার, আর শিবিরের প্রথম ধাপে রয়েছেন সাথী"।

সত্য কখনো চাপা দিয়ে রাখা যায় না। দেশের স্বার্থে না হোক অন্তত: বিদেশী শক্তির গুতানিতে জেএমবি ধরার সাফল্যে সরকার গর্বিত। গত ক'বছর ধরে বিরোধী দলকে জড়িয়ে যে গান-বাজনা হচ্ছিল সে ব্যাপারে এখন আর উচ্চবাচ্য শুনা যায় না। দেশের স্বার্থে এসম্পর্কে পর্দার আড়ালের ষড়যন্ত্র ও রহস্য জনগণের কাছে তুলে ধরলে অবশ্যই খালেদা জিয়া সরকার সাধারণ নাগরিকদের সাধুবাদ পাবেন। অবশ্য মৌলবাদী চক্রের সাথে সম্মিলিত জোট শক্তির জনগণের সাধুবাদ বা নিন্দাবাদে কিছু আসে যায় না। কারণ, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলে অনেক কিছুই খুব সহজে উপেক্ষা করা যায়। (ক্লোজআপহাসি)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×