এমনকি বড়ো হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকেলে আসার পর ঘুমিয়ে থাকা মা'কে ডেকে পাশে বসিয়ে রেখে ভাত খেতাম। একা বসে খেতে ভাল লাগে না বলে এই আয়োজন। আমাদের মায়েরা সত্যি অদ্ভুত শক্তিময়ী। সারাদিন রান্না করে সবাইকে খাওয়াবার পর তারা একটু শান্তি পেতে পেতে আবার রাতের রান্নার আয়োজনের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেই মায়ের সুযোগ্য সন্তান-সন্ততিরা আজকাল রান্নাকে খুব ভয় পায়। অবশ্য যেসব মায়ের সন্তানেরা বিদেশের মাটিতে পড়ে আছেন তারা কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে ভাল রাধুঁনে হয়ে গেছেন। খাবার প্রতি আসক্তির সাথে সাথে রান্নার প্রতি আমার ব্যক্তিগত একটা মোহ আছে। রান্নাটা আমার কাছে আর্ট মনে হয়। বাংলাদেশের টমী মিয়া তো বিলেতীদের এদেশী খাবার দিয়ে পাগল করে রেখেছেন। তার রান্নার বইতে তার খাবারের ভক্ত স্বয়ং রাণী এলিজাবেথ মূখবন্ধ লিখেছেন। বাংলাদেশী একজন রাধুঁনের জন্য এটা বিশেষ সম্মান। রান্নার ব্যাপারে মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা অনেক এগিয়ে। বিশ্বের বড়ো বড়ো শেফ কিন্তু পুরুষরাই। এর কারণ জানি না। হয়তো বা ছেলেদেরে সেন্স অব মেজারমেন্টটা একটু বোধ হয় বেশী। নাহ্ একটু মজা করলাম।
আমি ফরমায়েশী রান্না তেমন না পারলেও মাছের ব্যাপারে আমার একটা নিজস্ব দূর্বলতা আছে। মাংস থেকে মাছের প্রতি ঝুঁকে পড়াটা বেশ স্বাস্থ্যকর ও নাটকীয় বলে মনে হয়। হরেক রকমের মাছ নিজের হাতে রান্না করার আমার নিজস্ব একটা বাতিক আছে। শুধু রান্না নয়, মাছ কেটে পরিস্কার করে নিজের হাতে ফ্রেশ ফ্রেশ রান্না করার স্বাদ অন্যরকম। অবশ্য দেশে এখন মাছের বাজারে আগুন। তাই গ্রামের বাড়ীতে গেলে মাছ নিয়ে একটু-আধটু মাছলামী করি। গরম ভাত, বড়ো কৈ (ভাবনায়) বা ইলিশ মাছ ভাজা, কাঁচকি মাছ, টমেটো দিয়ে শোল মাছ অথবা টাকী মাছের ভর্তার স্বাদ সত্যি অন্যরকম। মাছে-ভাতে বাঙ্গালীর মধ্যে একটা অন্যরকম পরিচিতি বহন করে। মাছ না থাকলে বোধ হয় আমাদের এই জাতীয় পরিচয় ও বিশেষত্ব হারিয়ে যাবে। সময় সুযোগ পেলেই আমি মাছ রান্নার উৎসব করি। দেখি, আজকের দিনে মাছের কোন বন্দোবস্ত করা যায় কি-না?(ক্লোজআপহাসি)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০০৬ সকাল ৮:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



