somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছুটির দিনের কড়চা: রান্না

০৪ ঠা মে, ২০০৬ রাত ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবাইকে স্বাগত শুক্রবারের ছুটির দিনের কড়চায়। আজকের বিষয় রান্না। গতরাতে শোহেইল মোতাহের যখন আড্ডার আসর বসালেন তাতে অনেকেই রান্না আর রন্ধনশৈলী নিয়ে কথাবার্তা বলে আমাকে বেশ ক্ষুধার্ত করে ফেলেছিলেন। প্রতিশ্রুতি অনুসারে রান্নার গল্প সাজিয়ে আসলাম আজকে। বাসার সবাই বলত আমার জিহবাটা নাকি একটু লম্বা। কারণ, আমি নাকি সবসময়ই একটু ভাল খাবারের সন্ধানে থাকি। একসময় মাংস ছাড়া খাবার হতো না বলে আমাকে বলতো কসাইয়ের মেয়ের সাথে বিয়ে দিবে। খুব ছোট থাকতে মা একদিন দুপোরে মাংস রান্না করে ভাত দিয়েছেন। আমি রাগ করে বসে রইলাম, কারণ পোলাও রান্না হয়নি বলে। বাবাও আমার সাথে ধর্মঘট করে বসে থাকল। বেচারী মা সেই দুপোর বেলা পোলাও রান্না করে টেবিলে দেওয়ার পর আমাদের খাওয়া হলো। তাই, খাওয়া নিয়ে মা'কে অত্যাচারের কথা এখন মনে পড়লে বড্ডো কস্ট লাগে।

এমনকি বড়ো হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকেলে আসার পর ঘুমিয়ে থাকা মা'কে ডেকে পাশে বসিয়ে রেখে ভাত খেতাম। একা বসে খেতে ভাল লাগে না বলে এই আয়োজন। আমাদের মায়েরা সত্যি অদ্ভুত শক্তিময়ী। সারাদিন রান্না করে সবাইকে খাওয়াবার পর তারা একটু শান্তি পেতে পেতে আবার রাতের রান্নার আয়োজনের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেই মায়ের সুযোগ্য সন্তান-সন্ততিরা আজকাল রান্নাকে খুব ভয় পায়। অবশ্য যেসব মায়ের সন্তানেরা বিদেশের মাটিতে পড়ে আছেন তারা কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে ভাল রাধুঁনে হয়ে গেছেন। খাবার প্রতি আসক্তির সাথে সাথে রান্নার প্রতি আমার ব্যক্তিগত একটা মোহ আছে। রান্নাটা আমার কাছে আর্ট মনে হয়। বাংলাদেশের টমী মিয়া তো বিলেতীদের এদেশী খাবার দিয়ে পাগল করে রেখেছেন। তার রান্নার বইতে তার খাবারের ভক্ত স্বয়ং রাণী এলিজাবেথ মূখবন্ধ লিখেছেন। বাংলাদেশী একজন রাধুঁনের জন্য এটা বিশেষ সম্মান। রান্নার ব্যাপারে মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা অনেক এগিয়ে। বিশ্বের বড়ো বড়ো শেফ কিন্তু পুরুষরাই। এর কারণ জানি না। হয়তো বা ছেলেদেরে সেন্স অব মেজারমেন্টটা একটু বোধ হয় বেশী। নাহ্ একটু মজা করলাম।

আমি ফরমায়েশী রান্না তেমন না পারলেও মাছের ব্যাপারে আমার একটা নিজস্ব দূর্বলতা আছে। মাংস থেকে মাছের প্রতি ঝুঁকে পড়াটা বেশ স্বাস্থ্যকর ও নাটকীয় বলে মনে হয়। হরেক রকমের মাছ নিজের হাতে রান্না করার আমার নিজস্ব একটা বাতিক আছে। শুধু রান্না নয়, মাছ কেটে পরিস্কার করে নিজের হাতে ফ্রেশ ফ্রেশ রান্না করার স্বাদ অন্যরকম। অবশ্য দেশে এখন মাছের বাজারে আগুন। তাই গ্রামের বাড়ীতে গেলে মাছ নিয়ে একটু-আধটু মাছলামী করি। গরম ভাত, বড়ো কৈ (ভাবনায়) বা ইলিশ মাছ ভাজা, কাঁচকি মাছ, টমেটো দিয়ে শোল মাছ অথবা টাকী মাছের ভর্তার স্বাদ সত্যি অন্যরকম। মাছে-ভাতে বাঙ্গালীর মধ্যে একটা অন্যরকম পরিচিতি বহন করে। মাছ না থাকলে বোধ হয় আমাদের এই জাতীয় পরিচয় ও বিশেষত্ব হারিয়ে যাবে। সময় সুযোগ পেলেই আমি মাছ রান্নার উৎসব করি। দেখি, আজকের দিনে মাছের কোন বন্দোবস্ত করা যায় কি-না?(ক্লোজআপহাসি)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০০৬ সকাল ৮:৪৮
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘স্বর্ণামতি সেতু’ থেকে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯



আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটা নদী বয়ে গেছে। তার একটা আদুরে নাম আছে, ‘স্বর্ণামতি’। কে, কবে, কেন নদীটির এ নাম দিয়েছে, তা আমার অজানা। তবে নামটি আমার খুবই প্রিয়। এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষড়যন্ত্রঋতু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২৯

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সারাবছরই ঐক্যের ঋতু, এখানে রাজনীতিতে শত্রু না থাকলে মিত্র টেকে না। যতদিন হাসিনা ছিল, স্বাধীনতাবিরোধীরা ছিল একটি সুখী পরিবার। বাম জানত ডানকে ঘৃণা করতে হয়, কিন্তু আপাতত স্থগিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পছন্দের বাংলা গানগুলো

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১১


অনেকদিনের ইচ্ছে পছন্দের বেশকিছু গান নিয়ে একটা পোস্ট দেব। দেওয়া হয়নি, কারণ, বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। আজ হুট করে বসেই পড়লাম। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি, লালনগীতিসহ নানান ধরনের গানের একটা তালিকা করছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×