আজকাল সর্বএ খুব মান-অভিমান দেখি। বেশ মজা লাগে। জাতি হিসেবে আমরা আবেগপ্রবণ। মান-অভিমানের অতিশয় অভিব্যক্তি সবসময়ই বাড়তি আপদ আর দরকষাকষির রসদ বলে মনে হয়। মনে হয় মান-অভিমান করলে সবাই সুরসুর করে সুপথে চলে আসবে। আমাদের সাথে থাকতে থাকতে পশ্চিমারাও দেশীয় মান-অভিমানের ধারাটা বেশ রপ্ত করে ফেলেছে। কথায় কথায় তারাও আজকাল মান-অভিমান যোগ করে কথা বলে। রেনেঁসা যদি তাদের যুক্তিবাদী ও মুক্তভাষী হতে শেখায়, তাহলে তারা এদেশে এসে মান-অভিমানের দীক্ষা নিয়ে আপাদমস্তক অভিমানী বাঙ্গালী হওয়ার চেস্টা করে।
আজকের পএিকা দেখতে গিয়ে চোখে পড়ল ইউরোপীয় ইউনিয়নের মান-অভিমানের কথা। সংবাদ সম্মেলন করে তারা তাদের মান-অভিমানের কথা বলছেন। অনেকে ভাবছেন এটা অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ। অন্যরা ভাবছেন, ধরি মাছ না ছুঁই পানি স্টাইলে একটু হালকা চাপ প্রয়োগের চেস্টা। রাজনীতির ধারা বড়ই জটিল, রহস্যময় ও অনিশ্চিত। তাই পরিমিত ভাষায় বলতে গিয়ে রাস্ট্রদূতরা সমস্বরে কোরাস করে বলেন, "বাংলাদেশের স্বার্থেই আগামী নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত। তারা বলেছেন, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণকারী বিষয়। তারা সরকারি এবং বিরোধী দলের মধ্যেকার সংঘাত পরিহার করতে সংলাপের কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন এবং উভয় পক্ষকেই 'ছাড় দেয়ার মধ্য দিয়ে' সমঝোতায় পেঁৗছার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূতগণ দুনর্ীতিকে বাংলাদেশের জন্য 'ক্ষতিকর এবং নীরব সর্বগ্রাসী ও ঘাতক ব্যাকটেরিয়া' হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ক্যান্সারের মতো এই দুষ্ট ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা না পেলে বাংলাদেশ বিদেশী সাহায্য, বিনিয়োগ থেকে ক্রমান্বয়ে বঞ্চিত হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন" (দৈনিক ইওেফাক, 9 মে, 2006)। তাদের কথাগুলোতে অনেক অভিমান লুকিয়ে আছে।
পৃথিবীর অন্যতম প্রধান জনবহুল দেশে স্থিতির প্রয়োজন কৌশলগত কারণেই। এখানে যে পরিমাণ অর্থনৈতিক সুযোগ ও সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে কূপমন্ডুকদের নিবর্ুদ্ধিতার কারণে। তাই অভিমানী সুরের বাক্যবিনিময়েও যদি নির্বোধরা একটু বুঝত। এই নির্বুদ্ধিতার খেসারত দেয় সাধারণ মানুষ। তবে আবেগপ্রবণ রাজনৈতিক মানুষদের কাছে যুক্তির কোন মূল্য নেই। যুক্তির চেয়ে কৌশলী দক্ষতার মূল্য অনেক বেশী। তাই, বারবার নতুন কৌশল-অপকৌশল আঁটতে গিয়ে ছালা-মালা দুটোই হারায়। অতীতে হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও হবে। এটাই যেন আমাদের চূড়ান্ত নিয়তি-পরিণতি। এই ঘূর্ণয়ামান চক্র থেকে স্থায়ী অবমুক্তির কোন সম্ভাবনা যেন নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০০৬ দুপুর ১২:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



