সত্য অনেকের জন্য খুব কস্টকর। সত্য হচ্ছে, অন্যের জন্য গর্ত করলে তাতে নিজেকেই পড়তে হয়। বর্তমান বিএনপি-জামাত জোট খুব জোর গলায় বলে বেড়াত মৌলবাদীদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। একেবারে ধোয়া তুলসীপাতা। মৌলবাদী সন্ত্রাস ছিল বিরোধীদলের চক্রান্ত ও গভীর ষড়যন্ত্র। কিন্তু এখন আদালতে মৌলবাদীদের দোসর বাংলা ভাই ও শায়খ ভাই উল্টো জেরা করে চলছেন সরকার পক্ষকে। সমপ্রতি ঝালকাঠিতে সন্ত্রাসী বাংলা ভাই আর শায়খ ভাই আদালতে সরকার পকে জেরা করে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছে। তারা উল্টো হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন সরকারের নেপথ্যে থাকা অনেকের নাম ফাঁস করে দেয়ার। আদালতে এই অপ্রস্তুত চিএ সরকারের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর। নির্বাচনের ঠিক আগে এধরণের নমুনা জনপ্রিয় জোট সরকারকে জনগণের কাছে খুব হেয় করে দিচ্ছে। নীচের প্রতিবেদন যদি মৌলবাদ প্রতিরোধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের নমুনা হয়, তাহলে মৌলবাদীরা যে সরকারের প্রচ্ছন্ন পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন তা দিনের আলোর মতো স্পস্ট হয়ে উঠে। কারণ, তাদের পোষ্য খলনায়করা চলচিএের পর্দা ছেড়ে এখন সরাসরি আদালতে অভিনয় শুরু করেছে।
আজকের ভোরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, "দুই শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইকে নিয়ে দারুণ বেকায়দায় রয়েছে বিএনপি-জামাত জোট সরকার। আদালতে এ দুজনের সামপ্রতিক আস্ফালন জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিশেষত বাংলাভাইয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, জঙ্গিবাদের সঙ্গে সরকারের একাংশের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারের কর্মকান্ড থেকেও জনমনে ধারণা জন্মেছে যে, জঙ্গিদের বিচারের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন মহল নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করেছে। কারণ ইতিপূর্বে সরকার বোমাবাজ জঙ্গিদের বিচারের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের কথা জোরেসোরে বললেও এখন তা বেমালুম চেপে গিয়ে প্রচলিত আইনে বিচারের কথা বলছে। এ ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে জঙ্গি নেতাদের কথা বলতে না দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের আচরণ নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি করেছে।
শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। তাকে এ ব্যাপারে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে শায়খ রহমানকে আর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। একইভাবে বাংলাভাইকেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। শত চেষ্টা করেও সাংবাদিকদের কোনোভাবেই তাদের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। এ কারণে বিভিন্ন মহলে এমন ধারণা সৃষ্টি হয় যে, সরকার সম্ভবত ভয় পাচ্ছিল গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি নেতারা এমন কোনো তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে যা সরকারের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। বিশেষত যেখানে ব্যাপকভাবে অভিযোগ রয়েছে যে, বর্তমান বিএনপি-জামাত জোট সরকার বা সরকারের একটি অংশ জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
দুই জঙ্গি নেতা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না পেলেও আদালতে তারা যা বলেছেন, তাও কম বিস্ফোরক নয়। ঝালকাঠীতে বিচারক হত্যা মামলার বিচারের জন্যে গত 2 মে তাদেরকে সংশিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে বাংলাভাই স্পর্ধার সঙ্গে বলেছেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের সাজানো নাটক চলছে। এ নাটকে কে নায়ক আর কে খলনায়কের ভূমিকায় আছে তা পরিষ্কার করে জাতিকে জানাতে চাই। বাংলাভাই আরো বলেন, আমাদের কাছে হ্যামিলনের বাঁশি আছে। সে বাঁশি বাজালে একটি ইঁদুরও গদিতে থাকতে পারবে না। গত 4 মে একই আদালতে শায়খ আব্দুর রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, 'আমরা নিজেদের নির্দোষ বলি না। আমরা খালাস চাই না, বিচার চাইতেও আসিনি।'
দুই জঙ্গি নেতার এসব বক্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। শায়খ রহমানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি জঙ্গিবাদ ও বোমাবাজির দায়িত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। আর বাংলাভাই স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্তই শুধু নন এসব সম্পৃক্ত ব্যক্তি ক্ষমতার গদিতেই বসে আছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, তার কাছে এমন তথ্য আছে যা প্রকাশ করলে ক্ষমতাসীনদের গদিতে টান পড়বে। আর জঙ্গিবাদের পুরো বিষয়টি যে সরকারের নাটক তাও তিনি স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন। আর এ নাটকে নায়ক এবং খলনায়কের পরিচয় জানিয়ে দেওয়ায় ইচ্ছাও তিনি ব্যক্ত করেছেন। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নাটকটি যদি সরকারের সাজানো হয় তাহলে এর পাত্রপাত্রীরাও সরকারের মধ্যেই রয়েছে। বাংলাভাই কথিত 'গদি যদি রাষ্ট্রক্ষমতা হয়, তাহলে ইঁদুরগুলো যে সরকারের মন্ত্রী তা কারো না বোঝার কথা নয়। প্রশ্ন উঠেছে_ এই নায়ক, খলনায়ক বা ইঁদুরগুলোর পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ভয়েই কি দুই শীর্ষ জঙ্গিকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেওয়া হচ্ছে না?
প্রশ্ন উঠেছে জঙ্গিদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও। জঙ্গিবাদের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের প্রোপটে জনমনে বরাবরই আশঙ্কা ছিল যে সরকার তাদের বিচারের ব্যাপারে নমনীয় ভূমিকা গ্রহণ করবে। কিন্তু শুরুর দিকে সরকার বেশ জোরেসোরেই বলছিল জঙ্গিদের বিচারের ল্যে কঠোর শাস্তির বিধান করে বিশেষ আইন করা হবে। কিন্তু এখন আর তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, বরং আইন ও বিচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এখন বলছেন, প্রচলিত আইনেই জঙ্গিদের বিচার সম্ভব। বিচার যে সম্ভব সেটা মিথ্যা নয়; তবে প্রচলিত আইনের নানা ফাঁকফোকর গলিয়ে জঙ্গিদের লঘুদণ্ড বা বিচারের হাত থেকে রেহাই পাওয়াও যে অসম্ভব নয়, আইন ও বিচারমন্ত্রী সেটা কিন্তু বলেননি। জনমনে সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয় এখান থেকেই। জঙ্গিবাদ দমন এবং ধৃত জঙ্গিদের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্নটি তাই থেকেই যায়"।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



