মাস্টার্সে পড়ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসরের একান্ত সহচর আমি। অনেক গবেষণার কাজ একসাথে করেছি। খুবই স্নেহ করতেন স্যার। সাধারণত: ডিপার্টমেন্টের সবাই তাকে খুব ভয় পায়। কিন্তু যাই হোক আমার সাথে স্যারের ভালই সম্পর্ক। মাস্টার্স করছি। স্যারের মেয়ে তখন বোধ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেছে। বেশ উচ্ছ্বল। বাসায় গেলে টুকটাক কথা হয়। একদিন কোন এক কাজে স্যারকে ফোন করেছি। স্যারের মেয়ে ফোন ধরল। জিগ্যেস করলাম: "স্যার আছেন"? উওর আসল, "না, বাবা তো বাসায় নেই"। আমি বললাম, "স্যার আসলে বলো যে আমি ফোন করেছিলাম"। মেয়ে বলল, "আপনার ফোন নাম্বার"? উওর দিলাম, "স্যারের কাছে আছে"। মেয়ে হঠাৎ করে ক্ষেপে গিয়ে বলল, "কেন আমাকে আপনার ফোন নাম্বার দিলে কোন অসুবিধে আছে? আমি বললাম, "না, অসুবিধা কি? এই যে আমি দিচ্ছি.."। আরও চড়া গলায় বলল, "না, আপনার ফোন নাম্বারের কোন দরকার নেই, বাবা আসলে বলব"। বলেই ঠাস্ করে ফোন রেখে দিল। আমি কিছুক্ষণ বোকার মতো বসে থেকে চা খেতে নীচে নামলাম...।
পরে ঘটনাটা আরেকটু মজার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ফাইনাল ইয়ারের সময়। সামনে পরীক্ষা। খুব কাছের এক বন্ধু আমার রুমে। দু'জনে বসে পড়াগুলো একটু ঝালাই করছি। সকালে নাস্তা করে চা খেয়ে মোটে পড়তে বসেছি। এমন সময় এক দোস্তের ফোন। আড্ডার জন্য ফোন করেছে। বললাম, "এখন পড়ছি, আড্ডা হবে না। 1 ঘন্টা পরে ফোন কর্"। দোস্ত আমার ভাল মওকা পেয়ে গেল। প্রতি 5 মিনিট পর ফোন করা শুরু করল বিরক্ত করার জন্য। তিনবারের বার বেশ ওয়ার্নিং দিলাম। বললাম, "আবার বদার করলে খবর আছে"। ঠিকই দু'মিনিট পরে আবার ফোন করল। আমরা দুই বন্ধু ফোনটার দিকে তাকিয়ে চোখ চাওয়াচাওয়ি করে দম নিয়ে ফোনটা তুলে শুরু করলাম, অকথ্য ভাষায় গালাগালি। প্রায় তিন মিনিট ধরে চলল গালি ও খিস্তি বর্ষণ। কিন্তু ফোনের ওপার থেকে কোন জবাব না আসায় একটু আশ্চর্য হলাম। তিন মিনিট পর যখন থেমেছি ওপাশ থেকে বলল, "থেমেছে খিস্তি মারা, কার উপর এমন ক্ষেপেছো"? কোন উওর দেয়ার আগে ফোনটা আমি বন্ধুর হাতে দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলাম। কারণ, ফোনটা ছিল ডিপার্টমেন্টের এক সিনিয়র ভাইয়ের....
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



