ভাবতেই অবাক লাগে যে, রমনা পার্কে সকাল বেলা মর্নিং ওয়াক করতে যাওয়া মানুষের বুক পকেটে একটা ছোট পিডিএ অথবা দুপোর বেলা গাছের নীচে ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত ইন্টারনেট স্যাভী তরুণ তার লেখাপড়া থেকে যোগাযোগের তাবৎ কাজকর্ম সেরে নিচ্ছে ওয়াইফাই প্রযুক্তির সুবাদে। এর জন্য কাওকে কোন পয়সা দিতে হচ্ছে না। এ যুগে যে বিপ্ল্লব আসছে তার চূড়ান্ত উত্থান হবে তথ্য প্রযুক্তির হাত ধরে, ল্যাপটপের পদর্ায়, মোবাইল ফোনের ছোট স্ক্রীনে। স্টীম ইঞ্জিন যেমন পরিবহনের ক্ষেএে মুক্তি এনেছিল, এনেছিল শিল্প বিপ্লব, ঠিক সেভাবেই ইন্টারনেট ওয়াইফাই বিপ্ল্লব আনবে তথ্য ও যোগাযোগের ক্ষেএে। দুরত্বের অবসান ঘটবে। কীবোর্ডের উপর আঙ্গুলের ছোঁয়া এক অভিন্ন ভাচর্ুয়াল ওয়ার্ল্ডে একএিত করবে আমাদের সবাইকে।
রমনা পার্কে তা কবে বাস্তব হবে জানি না। তবে গেল সপ্তাহে বিবিসি'র এক প্রতিবেদনে (17 মে) বলা হয়, নিউইয়র্ক শহরের কেন্দ্রের সেন্ট্রাল পার্কে শহর কতর্ৃপক্ষ বিনামূল্যে ওয়াইফাই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে যাচ্ছে। 843 একরের এই বিশাল পার্কে বছরে যে 25 মিলিয়ন দর্শনাথর্ী আসে তারা অন্তত: সাথে পিডিএ বা ল্যাপটপ নিয়ে এখানকার 26 হাজার গাছের ছায়ায় সবুজ ঘাসে বসে ব্যবহার করতে পারবে ইন্টারনেট। এর খরচ বহন করবে বড়ো বড়ো কোম্পানীর কপের্ারেট স্পন্সরশীপ। ফিলাডেলফিয়া শহরে অবশ্য এধরণের সুযোগ সৃস্টি হয়েছে বেশ ক'বছর আগে, শুরুতে তাতে অবশ্য ইন্টারনেট কোম্পানীগুলো বেশ বাধ সেধেছিল। কাজে আসেনি। একই সুবিধা এখন ইংল্যান্ডের শহরগুলোতে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিটি কাজ শুরু করেছে। তথ্য প্রযুক্তি এখন আর কোন শ্রেণীগত সুবিধা নয়, বরং মৌলিক নাগরিক অধিকার।
তিনদিন আগে কক্সবাজারে ল্যান্ডিং স্টেশনের উদ্বোধনের মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত সাবমেরিন কেবলের সংযোগ হলো বাংলাদেশে। তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেএে এটা বৈপ্ল্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে। বিলম্বে হলেও 12টি দেশের কনসোর্টিয়ামে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট যোগাযোগে যে গতি পাবে তার সুফল কি সাধারণ মানুষরা পাবে? প্রতি সেকেন্ডে দশ গিগাবাইট তথ্য বিনিময়ে সক্ষম এই কেবল বর্তমান গতির চেয়ে প্রায় 68 গুণ বেশী শক্তিশালী। এর সম্ভাবনা প্রচুর। কিন্তু মোবাইল ফোনের ব্যবসার মতো তা যদি মুনাফালোভী বিটিটিবি ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের অধীনে রাখা হয়, তাহলে তার সুফল সাধারণ মানুষরা কখনো পাবে না। নতুন প্রযুক্তিকে সূলভে ও সহজে সবার নাগালের মধ্যে আনতে পারলে তা যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির জগতে বিপ্ল্লব আনবে। রমনা পার্কে অথবা ছোট এই বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে সর্বএ তথ্য প্রযুক্তিকে সূলভ ও সহজলভ্য করতে দরকার একটি জনপ্রিয় সামাজিক তথ্যপ্রযুক্তির এজেন্ডা যার মধ্যে কোন ব্যবসায়িক ধান্ধা নেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



