somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নগরের স্বঘোসিত মধ্যবিত্তের ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাস।

২৫ শে জুন, ২০২০ রাত ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অবসর গ্রহনের পূর্ব পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের বর্তমান বছরের তুলনায় পরের বছরে আয়ের পরিমান বাড়ে। তো একটা ক্যালকুলেশন থাকে। আজ থেকে দশ বছর পর আমি আরো বেশী টাকা আয় করব যা আমার তখনকার প্রয়োজনের তুলনা বেশী হবে তাহলে আমার ভবিষ্যতের আয় থেকে এখন কিছু খরচ করলে সমস্যা কোথায়?

প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে জমিয়ে বছর শেষে একটা স্মার্ট ফোন কেনা। স্মার্ট ফোন কোম্পানী বা কার্ড ব্যবসায়ী স্যালারি সার্টিফিকেটে/ট্রা্সজেকশন রিপোর্টে সন্তুষ্ট হয়ে অফার করল স্মার্ট ফোনের জন্য এক বছর অপেক্ষা করার দরকার নাই এখনই নিয়ে যান। মাসে মাসে ঐ দুই হাজার টাকা ইন্সটলমেন্ট দেন তাহলেই হবে। ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাস।

নভেম্বর ডিসেম্বর মাসের শীতে একটা ফ্যামেলি ট্যুর না দিলে কেমন হয়? কিন্তু এই মুহুতে নগদ টাকা নাই। ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাস আছে আমার এবং কার্ড ব্যবসায়ীদের। সামনে জানুয়ারী অথবা ফেব্রুয়ারীতে ইনটেন্সিভ বোনাস পাওয়া যাবে। কার্ডওয়ালারা অফার করল আমি লুফে নিলাম। একটা জম্পেষ ট্যুর হয়ে গেল। ছয় মাসের ইন্সট্রলমেন্টে লেভেল হয়ে গেল। ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাস।
একটা গাড়ি কিনতে চাই। টাকা জমাতে জমাতে জীবন শেষ করে বুইড়া বয়সে গাড়ী কিনে নিজের ইঞ্জিন আর চলে না। গাড়ী কোম্পানী অফার করল যা জামাচ্ছেন তাই ইন্সট্রলমেন্ট দেন। গাড়ী একটা নিয়ে যান। ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাস।

এমন হাজার হাজার লাখ লাখ উদহারন দেওয়া যায়। যে ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাস ভোগবাদ এবং পুঁজিবাদের ভিত্তি। অর্থনীতির চাকা বংবং করে ঘোরে এই ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাসে। এ বিশ্বাস না থাকলে কোম্পানীর ঐ স্মার্ট ফোন বিক্রি হত এক বছর পর, গাড়ীটা বিশ বছর পর আর বেড়ানো যাওয়া হত রির্টাডমেন্টের টাকায়। পৃথিবীর ২৫ শতাংশ মানুষের কাজই থাকত না। টাকার হাত বদল থেমে সারা পৃথিবীর অর্থনীতির চাকা থমকে যেত না বটে কিন্তু চলত অতি ধীরে।

সবকিছুই মোটের উপর ভালই চলছিল এ ভবিষ্যতের উপরে আস্থার জীবন। পশ্চিমা বিশ্বে এবং আমাদের দেশে শহুরে নাগরিকদের ইন্সট্রলমেন্ট কেন্দ্রিয় ভোগবাদ খারাপ ছিল না। জীবন যাত্রার মান বাড়ছিল। কিন্তু ভোগবাদী জীবনের চাহিদা পুরুন করতে করতে সঞ্চয়ের দিকে তেমন নজর দেওয়ার দরকার হয় নাই। ভবিষ্যতের উপর অগাথ বিশ্বাসের কারনে। যার ফলে সঞ্চয় করা হয় নাই তেমন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানুষের এ ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাসে চিড় ধরানোর মত উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ঘটনা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে এ করোন ভাইরাসের মহামারী সারা পৃথিবীর মানুষের ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাসকে চরম একটা ঝাকুনি দিয়েছে। কর্ম হারিয়েছে কোটি কোটি মানুষ। হঠাৎ করে আমরা আবিস্কার করেছি যে মাত্র তিন মাস চলবার মত সঞ্চয় আমরা করতে পারি নি। তাই ঢাকা ছাড়তে হচ্ছে অনেককে।

এ বিশ্বাস আবার ফিরে আসবে নিউ নরমাল পৃথিবীতে। তবে তখন অনেকেই ফিরতে পারবে না তার আগের কর্মস্থলে এ মহামারীতে বেঁচে থাকার পরও। আমার মত তথাকথিত স্বঘোসিত মধ্যবিত্তদের জীবন বোধকে তথা ভবিষ্যতের উপর এ বিশ্বাসকে হয়ত চিরতরে বদলে দেবে এ মহামারী। তবে বিশ্বাসটা কিন্তু থাকতেই হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০২০ রাত ১২:৩৮
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×