১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের ঘটনা। মাথার মধ্যে বান্দর হান্দাইলো। সামুতে গিয়া চেক করলাম আমি কি কি পাকনামি করসি।
দেখলাম:-
পোস্ট করসি: ৪৫টি
মন্তব্য করসি: ৬১৭টি
মন্তব্য পাইছি: ৬৩২টি
ব্লগ লেখতেছি: ১৭ বছর ৪ মাস
এইটা দেইখা মাথা চক্কর দিয়া উঠলো। কি কয়? সতের বছর চাইর মাস??? এতগুলা বছর কি করলাম? কি পাইলাম?
(সামুর কিছু ভাই বইন পাইছি)
১৭ বৎসর ৪ মাসে হয় ৬ হাজার ৩ শ' ৩০ দিন (৬৩৩০)
অংক কত্তে বসে গেলাম...
৬৩৩০ দিনে পোস্ট করসি: ৪৫টি
অ খোদা, প্রতি মাসে ব্লগ লেখছি ০.২২ টা? এইটাও সম্ভব? ভাবনার বিষয় তো!
ভাবতে ভাবতে আমার সকল পোস্ট স্ক্রল করে দেখলাম, বাহ্! বহুত কিছু লেখছি, এক্কেরে উল্টাইয়ালাইছি।
কিন্তু অবাক কাণ্ড! একটাও আঁতেল মার্কা লেখা নাই। কি আজব?
নাহ্, আঁতেল মার্কা লেখা লেখতেই হবে....
এ.আই. রে কইলাম, "এরে, একখান আঁতেল মার্কা ব্লগ বানা।"
এ.আই জিংগায়, "কি বিষয়?"
আমি কইলাম, "যা খুশী লেখ, আঁতেল মার্কা হইলেই হবে।"
তারপর এ.আই. একটা আঁতেল মার্কা লেখা প্রসব করলো। হেডলাইন,
"সময়টা বদলেছে, কিন্তু মানুষটা কি বদলেছে?"
চোখ বুলাইয়া দেখলাম, ভাবলাম, হুমমম। চালায়া দিই।
এ.আই. রে আবার কইলাম, "দু্ইটা ইমেজ বানায়া দে, একটা হেই সময়ের, আরেকটা এই সময়ের। তুই যা যা লেখছস ওইটার সাথে মিল থাকে যেন। নাইলে থাবড়া খাবি (এইটা মনে মনে কইছি)। ইমেজ হবে পেনসিল স্কেচ, রং ঢংয়ের দরকার নাই।
এ.আই. দুইটা স্কেচও বানায়া দিলো। মন্দ না।
তারপর সামুতে দিলাম ছাপায়া দিলাম। ভাইবেরাদারদের যৎসামান্য কমেন্টও পাইলাম।
মাথা গরম হইছে সোনাগাইজ্জার কমেন্ট দেইখা। এই শালার-পূত-শালা গন্ধ শুঁইকা শুঁইকা চইলা আসে।
সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ক্ষমা চাই, এ.আই. পরীক্ষা করতে গিয়ে ডিজঅনেষ্টি করে ফেলেছি। আর কখনো এমন হবেনা। নেভার।
**************************************************
শুনেছি আজকাল এ.আই. দিয়ে অনেকে অনেক কিছু করছে। ফলস্ প্রাইড নিচ্ছে। লেখালেখির ক্ষেত্রে এখনও আমার চোখে কিছু পড়েনি। অথবা, আমি বুঝতে পারিনি। (সামুতে এমন কিছু দেখেছি বলে মনে পড়েনা।)
লেখালেখি, Creative writing ইত্যাদি আসে মস্তিষ্ক থেকে। কল্পনা থেকে যেখানে ইমোশন থাকে। এ.আই দিয়ে মানবিক লেখা বের করা সম্ভব? জানিনা, হয়তো অসম্ভব নয়। আমি সেকেলে মানুষ, তাই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।
মানুষের মস্তিষ্কই পারে এমন কিছু বের করতে যা সকল মানুষের আবেগ কে নাড়া দেবে। কেউ যদি আবেগ দিয়ে কিছু প্রকাশ করতে গিয়ে এ.আই এর সাহায্য নেয় সেখানে মানবিক অভিব্যক্তির প্রকৃত রূপ প্রকাশ করা কতখানি সম্ভব আমার জানা নেই। আমি বিশ্বাস করি, যে চিন্তা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা থেকে লেখা মানুষের মনের গভীর থেকে উদ্ভুত, সেটা স্বাভাবিক ভাবে মানুষের সাথে কানেক্ট করতে পারে অনায়াসে। অন্যদিকে এ.আই দিয়ে লেখতে গেলে দেখা যায় লেখাকে স্বীয় চিন্তা-ভাবনার ছাপ কম থাকে। মানুষের সঙ্গে প্রকৃত সংযোগ গড়ে ওঠে তখনই, যখন লেখাটি মন থেকে আসে, প্রযুক্তি বা টেকনোলজি থেকে নয়।
তাই বলে এ.আই কে দূর ছাই বলারও সুযোগ নেই।
প্রয়োজনে এ.আই-এর সাহায্য অবশ্যই নেওয়া হতে পারে কারণ ওয়েবের মাধ্যমে পৃথিবীর ডিজিটাল তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার থেকে দ্রুত দরকারী তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এ.আই সাহায্য করতে পারে। সময় বাঁচানো, লেখাকে আরও পরিপাটি করে তোলা, ভাষা গত সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসা ইত্যাদির জন্য লেখক অবশ্যই এ.আই'র সাহায্য নিতে পারে। Human touch বা মানবিক স্পর্শ বজায় রেখে এ.আই -এর সহায়তা গ্রহণ করতে বাধা থাকার কথা নয়।
লেখা হচ্ছে আত্মার প্রকাশ, প্রযুক্তির সহায়তায় সেটা আকর্ষণীয়ও হতে পারে । তবে লেখার প্রাণ থাকতে হবে মানুষের চিন্তা ও অনুভূতির মাঝে। এ.আই হতে পারে হাতিয়ার, কিন্তু হৃদয়-মন হতে হবে একান্তই আমাদের।
**************************************************
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ- সোনাগাইজ্জা, আমার লেখায় কোন মন্তব্য করবিনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৫ রাত ৮:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



