somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লেখালেখিতে মানুষের চিন্তা ভাবনা এবং এ.আই.

২৯ শে অক্টোবর, ২০২৫ রাত ৮:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের ঘটনা। মাথার মধ্যে বান্দর হান্দাইলো। সামুতে গিয়া চেক করলাম আমি কি কি পাকনামি করসি।

দেখলাম:-
পোস্ট করসি: ৪৫টি
মন্তব্য করসি: ৬১৭টি
মন্তব্য পাইছি: ৬৩২টি
ব্লগ লেখতেছি: ১৭ বছর ৪ মাস


এইটা দেইখা মাথা চক্কর দিয়া উঠলো। কি কয়? সতের বছর চাইর মাস??? এতগুলা বছর কি করলাম? কি পাইলাম?
(সামুর কিছু ভাই বইন পাইছি)

১৭ বৎসর ৪ মাসে হয় ৬ হাজার ৩ শ' ৩০ দিন (৬৩৩০)
অংক কত্তে বসে গেলাম...
৬৩৩০ দিনে পোস্ট করসি: ৪৫টি

অ খোদা, প্রতি মাসে ব্লগ লেখছি ০.২২ টা? এইটাও সম্ভব? ভাবনার বিষয় তো!

ভাবতে ভাবতে আমার সকল পোস্ট স্ক্রল করে দেখলাম, বাহ্‌! বহুত কিছু লেখছি, এক্কেরে উল্টাইয়ালাইছি।

কিন্তু অবাক কাণ্ড! একটাও আঁতেল মার্কা লেখা নাই। কি আজব?

নাহ্‌, আঁতেল মার্কা লেখা লেখতেই হবে....

এ.আই. রে কইলাম, "এরে, একখান আঁতেল মার্কা ব্লগ বানা।"
এ.আই জিংগায়, "কি বিষয়?"
আমি কইলাম, "যা খুশী লেখ, আঁতেল মার্কা হইলেই হবে।"
তারপর এ.আই. একটা আঁতেল মার্কা লেখা প্রসব করলো। হেডলাইন,
"সময়টা বদলেছে, কিন্তু মানুষটা কি বদলেছে?"

চোখ বুলাইয়া দেখলাম, ভাবলাম, হুমমম। চালায়া দিই।

এ.আই. রে আবার কইলাম, "দু্ইটা ইমেজ বানায়া দে, একটা হেই সময়ের, আরেকটা এই সময়ের। তুই যা যা লেখছস ওইটার সাথে মিল থাকে যেন। নাইলে থাবড়া খাবি (এইটা মনে মনে কইছি)। ইমেজ হবে পেনসিল স্কেচ, রং ঢংয়ের দরকার নাই।

এ.আই. দুইটা স্কেচও বানায়া দিলো। মন্দ না।

তারপর সামুতে দিলাম ছাপায়া দিলাম। ভাইবেরাদারদের যৎসামান্য কমেন্টও পাইলাম।
মাথা গরম হইছে সোনাগাইজ্জার কমেন্ট দেইখা। এই শালার-পূত-শালা গন্ধ শুঁইকা শুঁইকা চইলা আসে।


সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ক্ষমা চাই, এ.আই. পরীক্ষা করতে গিয়ে ডিজঅনেষ্টি করে ফেলেছি। আর কখনো এমন হবেনা। নেভার।


**************************************************

শুনেছি আজকাল এ.আই. দিয়ে অনেকে অনেক কিছু করছে। ফলস্‌ প্রাইড নিচ্ছে। লেখালেখির ক্ষেত্রে এখনও আমার চোখে কিছু পড়েনি। অথবা, আমি বুঝতে পারিনি। (সামুতে এমন কিছু দেখেছি বলে মনে পড়েনা।)

লেখালেখি, Creative writing ইত্যাদি আসে মস্তিষ্ক থেকে। কল্পনা থেকে যেখানে ইমোশন থাকে। এ.আই দিয়ে মানবিক লেখা বের করা সম্ভব? জানিনা, হয়তো অসম্ভব নয়। আমি সেকেলে মানুষ, তাই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

মানুষের মস্তিষ্কই পারে এমন কিছু বের করতে যা সকল মানুষের আবেগ কে নাড়া দেবে। কেউ যদি আবেগ দিয়ে কিছু প্রকাশ করতে গিয়ে এ.আই এর সাহায্য নেয় সেখানে মানবিক অভিব্যক্তির প্রকৃত রূপ প্রকাশ করা কতখানি সম্ভব আমার জানা নেই। আমি বিশ্বাস করি, যে চিন্তা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা থেকে লেখা মানুষের মনের গভীর থেকে উদ্ভুত, সেটা স্বাভাবিক ভাবে মানুষের সাথে কানেক্ট করতে পারে অনায়াসে। অন্যদিকে এ.আই দিয়ে লেখতে গেলে দেখা যায় লেখাকে স্বীয় চিন্তা-ভাবনার ছাপ কম থাকে। মানুষের সঙ্গে প্রকৃত সংযোগ গড়ে ওঠে তখনই, যখন লেখাটি মন থেকে আসে, প্রযুক্তি বা টেকনোলজি থেকে নয়।

তাই বলে এ.আই কে দূর ছাই বলারও সুযোগ নেই।
প্রয়োজনে এ.আই-এর সাহায্য অবশ্যই নেওয়া হতে পারে কারণ ওয়েবের মাধ্যমে পৃথিবীর ডিজিটাল তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার থেকে দ্রুত দরকারী তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এ.আই সাহায্য করতে পারে। সময় বাঁচানো, লেখাকে আরও পরিপাটি করে তোলা, ভাষা গত সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসা ইত্যাদির জন্য লেখক অবশ্যই এ.আই'র সাহায্য নিতে পারে। Human touch বা মানবিক স্পর্শ বজায় রেখে এ.আই -এর সহায়তা গ্রহণ করতে বাধা থাকার কথা নয়।

লেখা হচ্ছে আত্মার প্রকাশ, প্রযুক্তির সহায়তায় সেটা আকর্ষণীয়ও হতে পারে । তবে লেখার প্রাণ থাকতে হবে মানুষের চিন্তা ও অনুভূতির মাঝে। এ.আই হতে পারে হাতিয়ার, কিন্তু হৃদয়-মন হতে হবে একান্তই আমাদের।


**************************************************


সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ- সোনাগাইজ্জা, আমার লেখায় কোন মন্তব্য করবিনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৫ রাত ৮:১৪
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×